বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৫ অপরাহ্ন

ভারত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা || পর্ব-৮

উত্তরা নিউজ। সাহিত্য ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

হোটেলে ফিরতে অনেক রাত হয়ে যায়। খাবার হোটেল বন্ধ থাকবে, কোথায় খাবো? এমন চিন্তুা করতে করতে স্টেশনে এসে যাই। নামার সময় খারাপ লাগে, আরও ঘুরতে আগ্রহ জাগে। কোনো রকম হোটেলে কিছু একটা খেয়ে ঘুমাতে যাই, সকাল থেকে আবার জার্নি করতে হবে। এবার যাচ্ছি আগ্রার তাজমহল দেখতে। সারাজীবন যার গল্প শুনেছি, বই-পুস্তকে পড়েছি আজ তা দেখতে পাবো, ভাবতেই রোমাঞ্চিত হচ্ছি। এসব জায়গা যদিও আমার সঙ্গী-সাথিরা ইতোপূর্বে ঘুরে দেখেছেন তবুও তারা শুধু আমার জন্য যাচ্ছেন। গাইডের তত্ত্বাবধানে আছি আমরা। খোলামেলা মেঠোপথে যাওয়ার পর নাস্তার জন্য গাড়ি একটা হোটেলে পার্কিং করে। এসব হোটেলগুলোও দেখার মতো। অনেক খোলামেলা প্রাকৃতিক পরিবেশে। সব জায়গাতেই সবুজের ছোঁয়া আছে। আছে নানা প্রজাতির গাছ-গাছালি, পাখ-পাখালি। মনোরম পরিবেশ পর্যটকদের মন ভরে যায়। সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যাওয়ার মত দূর তরঙ্গ ভেসে আসছিল কানে।

ইন্ডিয়াতে যতবার যত গান শুনলাম, খুব একটা হিন্দি গান শুনতে পেলাম না। আমাদের দেশে গাড়িতে উঠলেই যেমন হিন্দি গানের সুর ভেসে আসে, তেমনটা লক্ষ করলাম না। এসব মিউজিক নিয়ে তাদের কোনো মাতামাতি নেই। অধিকাংশ গাড়ির ড্রাইভার এসব হিন্দি গান শুনতে অভ্যস্ত নয়, বোঝা গেল। বাংলাদেশের মানুষ হিন্দি হিরো-হিরোইন নিয়ে কত যে আকর্ষণ প্রকাশ করে কিন্তু দিল্লিতে এসবের প্রতি তাদের কোনো আকর্ষণ দেখিনি। অথচ আমাদের দেশের মানুষ হিন্দুস্থানের নায়ক-নায়িকাকে একনজর দেখার জন্য কত কী করে।
নাস্তা সেরে যাত্রা শুরু করতেই গাইড আমাদের সামনের রাস্তাগুলো নিয়ে কথা বলেন। কোথায় কী আছে জানতে পারি।

গাইড তার পরিচয় দেয়ার সময় জানলাম তারা মুসলিম এবং বাপ-বেটা একসাথে গাইডের কাজ করছে। গাইডের কণ্ঠ এবং বলার স্টাইল অপূর্ব। তার পুরো বক্তব্যের কিছু অংশ রেকর্ড করে নিয়ে এসেছি। একটা বিষয় লক্ষ করলাম, কীভাবে তারা পুরুষানুক্রমে এই পেশায় যুক্ত আছে। আমাদের পরিচয় পাওয়ার পর আমার কাছে আসে একজন গাইড। মুসলিম বলে আমার কাছে তার পরিচয় আবারো প্রকাশ করে। মনে হলো আজ তার কাছের মানুষ পেয়েছে। ফিসফিস করে জানালেন আপনার কোনো সমস্যা হলে বলবেন কিন্তু। রাস্তায় বসে জানতে পারি আগ্রায় প্রবেশ করার এন্ট্রি ফি এখন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সার্কভুক্ত দেশ হিসেবে আমরা বাংলাদেশিরা একটা ডিসকাউন্ট পাবো। গাইড সকলের থেকে টাকা তুলে নিলেন এবং যথাসময়ে টিকেট হাতে তুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। কী মনে করে জানি আমার থেকে সামান্য পরিমাণ টাকা কম নিলেন। পুরোটা পথে তারা আমাকে চোখে চোখে রেখেছেন এবং কোনো রকম সহযোগিতা লাগবে কিনা বার বার জিজ্ঞাসা করেছেন। আমি শুধু তাদের দিকে তাকিয়ে তাদের পেশার প্রতি একাগ্রতা ও ধৈর্য দেখতেছিলাম। এরকম একটা ট্যুরে আমাদের দেশের গাইড কী ব্যবহার করতো তার সাথে মনে মনে মেলাতে লাগলাম। কল্পনাই করা যাবে না তারা ট্যুরিস্টদের কী পরিমাণ সম্মান করে এবং সেবা দেয়।

তাজমহলে নামার পূর্বে আমরা রেডফোর্ট কেল্লায় নেমে পড়ি। অসম্ভব সুন্দর একটা স্থাপনা। রাজস্থানের স্থাপনার সাথে এর অনেকটা মিল খুঁজে পেলাম। এখান থেকে তাজমহল দেখা যায়। এখানেই সম্রাট শাহজাহানকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। আর তিনি এখানে বসেই তাজমহল দেখতেন। গাইড সে অনেক গল্প শুনালেন আমাদেরকে। এসব কথা অনেক আগেই আমরা ইতিহাসে পড়েছি। তাজমহলে ঢোকার আগেই আমাদের দুপুরের খাবারের সময় হয়ে গেল। জানতে পারলাম আমাদের বুফে খাওয়া হবে। দিল্লিতে এইদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির উপরে। হোটেলের খাবার দেখে সবাইর পছন্দ হলো। যে যার ইচ্ছা মতো নিতে পারবে কিন্তু কেউ অপচয় করতে পারবে না। আমাদের সাথে একটা হিন্দু পরিবার ছিল তাদের হয়তো বুফে খাওয়ার অভ্যাস ছিল না তাই যা খেয়েছে তার চেয়ে বেশি অপচয় করেছে। বিল পরিশোধের সময় অনেক জরিমানা গুনতে হয়েছে তাদের।

গাইড যথারীতি আমাদের বের হওয়ার ইশারা দিচ্ছেন এবং একটু পরেই আমাদের সেই কাক্সিক্ষত জায়গায় নামতে হবে এই বলে যাচ্ছেন বারবার। কিছু দূর যাওয়ার পর আমরা নেমে পড়ি এরপর আর গাড়ি ভেতরে যাবে না। এক ধরনের আনকমন অটো গাড়িতে চড়ে বাকিটা পথ যেতে হবে। গাইড যথারীতি তার গাইড লাইন দিয়ে দিলেন, ভেতরে তারা কেউ যাবেন না তাই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবাইকে ফিরতে হবে, দেরি হলে গাড়ি ছেড়ে যাবে এমন একটা হুঁশিয়ারিও শোনালেন সবাইকে। জানি না এই সাবধানতা কেউ আমলে নিয়েছে কিনা।

যাক অনেক আশা নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করি। প্রবেশমুখেই নানা ধরনের চেকিং করা হয়। আমার গাইড ব্যাগে একটা অর্জুন গাছের মেসওয়াক ছিল এটা নিয়ে ভেতরে যাওয়া যাবে না। কী আর করার রাস্তায় ফেলে দিতে হলো। গাইড কিন্তু নামার সময় বলে দিয়েছিল, মমতাজ ছাড়া তাজমহল দেখার কোনো আনন্দ নেই। তাজমহলের প্রধান গেইটে ঢুকতেই এই দৃশ্য চোখে পড়ে। সবাই জোড়া জোড়া ছবি তুলছে। সবাই শাহজাহান এবং সবাই একজন করে মমতাজ নিয়ে এসেছেন। সকলের ছবি তোলা দেখে আমি ও শিলা আপা হাসতে থাকি। আমরা মমতাজ বা শাহজাহান কোথায় পাবো। এরই মধ্যে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার এসে আমাদের দুইজনকে শাহজাহান-মমতাজ স্টাইলে ছবি তোলার অফার করে। আমরা হাসতে হাসতে মরে যাচ্ছিলাম। ঐ দিন প্রচণ্ড গরম থাকার কারণে মমতাজের সাধ মেটানোর দিকে মন ছিল না। গরমের ভয়াবহতা না-থাকলে সত্যি সত্যিই শাহজাহান-মমতাজ সেজে একটা ছবি তুলে আসতাম। ফটোগ্রাফারের জ¦ালায় দাঁড়ানো মুশকিল। শিলা আপা তার বোনের সাথে ছবি তুলে শাহজাহান-মমতাজ সাধ মেটালেন।

পরবর্তী কোনো মিশনে মমতাজকে নিয়ে ছবি তোলার বাসনায় একা একাই ছবি তুলে স্মৃতিকে ধরে রাখি। আমার সঙ্গীরা যেহেতু ইতোপূর্বে এই তাজমহল ঘুরে ঘুরে দেখেছে তাই ভেতরে প্রবেশের আগ্রহ খুব একটা নেই। আমাকে ঘুরে আসার জন্য বললেন সবাই। প্রচণ্ড গরমে দাঁড়ানোই যাচ্ছে না, তাই কোনো রকম এক চক্কর দিয়ে আমি বেরিয়ে পড়ি। ততক্ষণে শিলা আপা ও মাবেল আপাকে হারিয়ে ফেলি। গরমে কোথাও দাঁড়াতে না-পেরে আমি গাড়ির কাছে চলে যাই। আর আমার সঙ্গী-সাথিরা বিশেষত দুই বোন আমাকে খুঁজে পেরেশান। এরই মধ্যে গরমে মাবেল আপাও অসুস্থ হয়ে যান। এখন শিলা আপা আমাকে খুঁজবেন না মাবেল আপাকে সামলাবেন এই নিয়ে তার অবস্থাও… বেচারা!। আমার সাথে মোবাইল নেই, কোথায় কীভাবে খুঁজবে আমাকে? বিশাল এরিয়া, অনেক স্থাপনা। না-গিয়ে কাউকে বোঝানো যাবে না। কী পরিমাণ ভালোবাসা ছিল মমতাজের জন্য সম্রাট শাহজাহানের। একজনমে দ্বিতীয় কোনো শাহজাহান আসবে কিনা জানি না, তবে আমার কাছে মনে হয়েছে এমন ভালোবাসার মানুষ আর বেঁচে নেই। কারো পক্ষে এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসার স্বাক্ষর রাখা সম্ভব হবে না। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এই ভালোবাসার নিদর্শন দেখতে সারা পৃথিবী থেকে লোকজন আসে কিন্তু যার জন্য শাহজাহান এই তাজমহল বানালেন সেই মমতাজ এর তাজমহল আর দেখা হলো না। এরই নাম প্রেম, এরই নাম ভালোবাসা। চলবে—

লেখক : ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান
প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ, ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন কলেজ, ধানমন্ডি, ঢাকা। 

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২১
themesba-lates1749691102

windows 10 pro kaufen office 2019 pro kaufen office 365 pro kaufen windows 10 home kaufen windows 10 enterprise kaufen office 2019 home and business kaufen office 2016 pro kaufen windows 10 education kaufen visio 2019 kaufen microsoft project 2019 kaufen microsoft project 2016 kaufen visio professional 2016 kaufen windows server 2012 kaufen windows server 2016 kaufen windows server 2019 kaufen Betriebssysteme kaufen office software kaufen windows server kaufen https://softhier.com/ instagram takipçi satın al instagram beğeni satın al instagram görüntüleme satın al instagram otomatik beğeni satın al facebook beğeni satın al facebook sayfa beğenisi satın al facebook takipçi satın al twitter takipçi satın al twitter beğeni satın al twitter retweet satın al youtube izlenme satın al youtube abone satın al https://takipci33.com/