বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০২:৪৫ অপরাহ্ন

ভারত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা || পর্ব-৭

উত্তরা নিউজ। সাহিত্য ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ঢাকা থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে আমার সঙ্গীদের মুখে বেশকিছু জায়গার নাম শুনেছি যেসব জায়গায় তাদের ভ্রমণের খুব ইচ্ছা আছে। আমার এমন কোনো ইচ্ছা নেই। কারণ আমি সব জায়গাই দেখতে চাই। সময় এবং অর্থ দুটোতে যতটুকু দেখা যায় দেখে যাব এমন ইচ্ছা আমার আছে। যদিও আমার সাথিরা আমাকে অপশন দিয়েছে আমার ইচ্ছা-অনিচ্ছার গুরুত্ব দিয়েছে। আর আমিও তাদের পছন্দের উপর আস্থা রেখেছি। শুরুতেই কুল্লু-মানালী যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করি কিন্তু যাতায়াতের খরচ আর পথের দূরত্বের কথা চিন্তা করে প্ল্যান পরিবর্তন করি। হোটেল ম্যানেজারের সহযোগিতা নিই। তিনি আমাদের একটা গাইড লাইন দিলেন।

আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম জয়পুর (রাজস্থান) যাব। সকাল ৬টায় ট্যুরিস্ট বাস আসবে। গাইডের সাথে যোগাযোগ হলো, তিনি সকালে আমাদেরকে হোটেল থেকে নিয়ে যাবেন। কথামতো আমরাও রেডি হয়ে তার জন্য সকালে অপেক্ষা করি। তিনি আমাদেরকে বাসে তুলে দিলেন। সম্ভবত পথে কোথাও আমরা সকালের নাস্তা করবো তাই সকালের নাস্তা না-করেই বেরিয়ে পড়ি। বাসে ওঠার পর বুঝতে পারি আমরা সবাই ট্যুরিস্ট। সকলের চোখ-মুখে জয়পুর দেখার আগ্রহ প্রকাশ পাচ্ছে। অনেকটা পথ পার হওয়ার পর একটা রিসোর্টে নাস্তার জন্য বাস থামে। ওখানের কোনো খাবারই যেহেতু আমার ভালো লাগে না তাই আলু পরাটার সাথে অন্য কিছু একটা খেয়েই আমরা বাসে উঠে পড়ি। জয়পুর কত কিলো হবে পূর্বের কোনো ধারণা নেই আমার। কত কিলো আর হবে ভাবছি আপ-ডাউনে হয়তো ১০০ কিলো হবে। কিন্তু না, গাড়ি চলছে তো চলছেই। গাড়ি আর গন্তব্যে থামছে না। খুব যে বিরক্তি লাগছে তাও না। কখন নতুন জায়গাটা দেখবো এমন আগ্রহ থেকে এদিক-সেদিক উঁকি-ঝুঁকি মারছি এই আর কি।

রাস্তায় যেতে যেতে একটা জিনিস আমাকে অবাক করেছে বারবার, এতটা পথ আমরা পাড়ি দিচ্ছি কিন্তু রাস্তায় কোথাও কোনো যানজট নেই। রাস্তাগুলো চমৎকার, একটা লেভেলে গাড়ি চলছে। ড্রাইভারের মধ্যে কোনো তাড়াহুড়োর ভাব নেই। রাস্তা ফাঁকা তাই বলে যাচ্ছেতাই গাড়ি টেনে যাচ্ছে না। কে কার আগে যাবে এমন ভাবটা কারোর মধ্যেই নেই। নেই কোনো ব্রেক কিংবা হার্ট ব্রেক। আপনি গাড়িতে চড়ে আরামে ঘুমিয়ে জার্নি করতে পারবেন। শত শত কিলোমিটার জার্নির পরেও আপনার শরীরে কোনো ক্লান্তির ছাপ আসবে না। জয়পুর যাওয়ার পথের রাস্তার দুইধারে শত শত হোটেল রেস্তোরাঁ ও রিসোর্ট। ছোট-বড় পাহাড়, ধু ধু মাঠ আর পথ প্রান্তর আপনাকে মোহিত করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। পথের ক্লান্তি দূর করতে চোখের এই শান্তি আপনার জার্নিকে করবে শান্তিময়, করবে আনন্দময়। নতুন কিছু দেখবেন এই মোহ আপনাকে নিয়ে যাবে কল্পনার এক অসীম জগতে। যে জগতে আপনি হারিয়ে যাবেন কিছুক্ষণের জন্য।

বাসযাত্রার দুই দিকে তাকালে মনে হবে ইন্ডিয়ান সরকার ট্যুরিজমের উপর কী পরিমাণ গুরুত্ব দিচ্ছে। হাজার হাজার লোক আপনার অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ কখন ট্যুরিস্টরা আসবে। হোটেলগুলোতে সাজ সাজ ভাব। বাহারি খাবারের পশরা বসিয়ে রেখেছে তারা। সবুজ গাছপালা বাতাসের স্নিগ্ধতা আপনাকে মুগ্ধ করবেই কোনো সন্দেহ নেই। রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কোনো ময়লা-আবর্জনা নেই। পথে পথে এসব দেখতে দেখতে গাইড আমাদেরকে সম্রাট আকবরের আমের ফোর্ড প্রতিটি তলায় নিয়ে যায়। আমরা অপরূপ রূপ-সৌন্দর্য দেখেছি। যে যার মতো করে স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টায় ছবি তুলেছি। নানা ধরনের জিনিসপত্র কেনাকাটারও পরিবেশ আছে এখানে। দামে বেশ সস্তা এবং কিছুটা আনকমন। পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো অনেককিছু পাওয়া যায় এখানে। অনেকক্ষণ ঘুরতে ঘুরতে আমরা কিছুটা ক্লান্ত, ইতোমধ্যে গাইডের ইশারা দেখতে পেলাম। এবার নিচে নামতে হবে। নামার পথে শারীরিক কষ্ট অনুভব করিনি তবে মানসিক কষ্ট অনুভব করতে লাগলাম। প্রেম-ভালোবাসার জন্য মানুষ কি না করতে পারে, তা এখানে এসে কিছুটা আবার উপলব্ধি করলাম।

নিচে নামতে নামতে জানতে পারলাম সামনে আরও অনেক কিছু দেখার আছে। তাই সব কাজ দ্রুত করতে হবে। এরই মধ্যে দুপুরের লাঞ্চের জন্য একটা রেস্টুরেন্টে গাড়ি এসে থেমে গেল। হয়তো আগে থেকেই ওদের সাথে চুক্তি আছে। প্রবেশ করতেই একটা রাজকীয় রাজকীয় ভাব চোখে পড়ছে। খাবার মেনুগুলোও সেইরকম রাজকীয়। এখানে খাবারের নাম ধরে ধরে খাওয়া খুব সহজ নয়। কেমন হবে স্বাদ, কেমন হবে মান। এসব বিষয় চিন্তা করারও খুব সময় হাতে নেই। যা বুঝলাম তাই খাবার অর্ডার করে খেয়ে রেস্টুরেন্ট ছাড়লাম। সামনের জায়গাগুলো অপরূপ সুন্দর কিন্তু রৌদ্রের কারণে বাস থেকে নামা হলো না।

এরপর আমরা চলে যাই জয়পুরী প্রিন্টে। বাংলাদেশে বসে আমরা জয়পুরী কাপড়ের প্রিন্ট কোয়ালিটির কথা শুনেছি এবার তা স্বচক্ষে দেখার সুযোগ পেলাম। পুরো একটি মিউজিয়ামের মতো। শুরুতেই একটা আকর্ষণীয় বক্তৃতা আপনাকে শুনতে হবে। লেকচার শুনে আপনি সবকিছু কেনার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবেন। আমাদের সাথে অনেকেরই এ অবস্থা হতে আমরা দেখেছি। প্রিন্টিং-এর ব্যাপারে আমার খুব আগ্রহ নেই। আমি এবার নজর দিলাম এমিটেশনের গয়নার দিকে। যা আমাকে দেখাচ্ছে সবই পছন্দ হওয়ার মতো জিনিস। দেখলে কিনতে আগ্রহ হবে না এমন নারী-পুরুষ পাওয়া দুষ্কর হবে। আমি আমার বাজেটের অনেকটাই এখান থেকে ক্রয় করি। তবে ইন্ডিয়ার অন্যসব জায়গার চেয়ে এখানে খানিকটা দাম বেশি। তবে সব জিনিসই আনকমন এবং নজরকাড়া ডিজাইনের। জয়পুরের এসব জিনিস সম্পর্কে আমার পূর্বজ্ঞান না-থাকায় আমি এসবের কদর করিনি। তবে ঢাকায় এসে বাসার লোকজনের ভাষায় বুঝলাম আরো কিছু এখান থেকে নেয়া উচিত ছিল।

আমরা এখান থেকে বেরিয়ে আরও কিছু মন্দির ও স্থাপনা দেখে কোনো একটা জুতার দোকানে প্রবেশ করি। ততক্ষণে কেনাকাটায় বেশকিছু টাকা খরচ করে ফেলেছি। জুতার দোকানে প্রবেশ করে মনে হলো সব জুতা কিনে নিয়ে যাই। এত সুন্দর ডিজাইন ও চামড়ার কারুকার্য। পায়ে দিলে মনেই হবে না পায়ে কিছু আছে। একজোড়া জুতো আমার এত পছন্দ হয় যে কেনার আগ্রহ আর ধরে রাখতে পারলাম না। কিন্তু বিধি বাম পকেটে পর্যাপ্ত টাকা নেই। চলবে…

লেখক : ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান
প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ, ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন কলেজ, ধানমন্ডি, ঢাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২১
themesba-lates1749691102

windows 10 pro kaufen office 2019 pro kaufen office 365 pro kaufen windows 10 home kaufen windows 10 enterprise kaufen office 2019 home and business kaufen office 2016 pro kaufen windows 10 education kaufen visio 2019 kaufen microsoft project 2019 kaufen microsoft project 2016 kaufen visio professional 2016 kaufen windows server 2012 kaufen windows server 2016 kaufen windows server 2019 kaufen Betriebssysteme kaufen office software kaufen windows server kaufen https://softhier.com/ instagram takipçi satın al instagram beğeni satın al instagram görüntüleme satın al instagram otomatik beğeni satın al facebook beğeni satın al facebook sayfa beğenisi satın al facebook takipçi satın al twitter takipçi satın al twitter beğeni satın al twitter retweet satın al youtube izlenme satın al youtube abone satın al https://takipci33.com/