বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন

জ্ঞান সূচকে কেন এতটা পিছিয়ে বাংলাদেশ ?

আওলাদ হোসাইন বাবলু
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বৈশ্বিক জ্ঞান সূচকে ১৩৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ খুবই কম নম্বর পেয়ে একেবারে শেষের কাতারে থাকা দেশগুলোর জায়গায় স্থান পাওয়ায় শিক্ষাবিদ এবং গবেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী এবং মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম নলেজ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত বৈশ্বিক জ্ঞান সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১১২তম। ওই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার ছ’টি দেশের মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান সবার শেষে।

বৈশ্বিক জ্ঞান সূচকে বাংলাদেশ সবচে খারাপ অবস্থা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে ১৩৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম। এছাড়া গবেষণা ও উদ্ভাবনেও পিছিয়ে রয়েছে এদেশ, যেখানে ৯৬ তম অবস্থান বাংলাদেশের।

জ্ঞান সূচকে কেন এতটা পিছিয়ে বাংলাদেশ ?

জ্ঞানের যে অনুশীলন তার মূল্য পৃথিবীজুড়েই কমে গেছে। এখন আসছে তথ্যের যুগ। তথ্য আর জ্ঞানতো এক না।তথ্যের অবাধ প্র্রবাহ জ্ঞানের চর্চাকে খর্ব করছে পৃথিবী জুড়েই। জ্ঞান এখন পুরো পৃথিবীতে পণ্যে পরিণত হয়েছে, নিজের অনুশীলন বা গবেষণা দরকার হয় না। এটা কেনা যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরো খারাপ। আমরা দেখছি যে জ্ঞানের মূল্য এখন সমাজে নেই, রাষ্ট্রে নেই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেখানে জ্ঞানের চর্চা থাকবে সেখানেও জ্ঞানের মূল্যটা আমরা দিতে পারছি না। প্রতিষ্ঠানের যিনি প্রধান হন, তিনি জ্ঞানানুশীলনের জন্য সেই জায়গায় যান না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার পেছনে রাষ্ট্র ও সমাজে জ্ঞানীদের মূল্যায়ন না থাকার পাশাপাশি জ্ঞান চর্চার অনেক মৌলিক সমস্যারও সমাধান হয়নি।

আমাদের সমাজে একজন শিক্ষিত পিএইচডিধারীর মূল্য কেউ দেয় না বরং দাম হয় একজন ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা পুলিশের। ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ শুধুমাত্র ডিগ্রির কারখানা, সেইখানে বিসিএসের গাইড বই ভালো চলে। যেনতেন ভাবে একটা ডিগ্রি নিয়ে পরবর্তীতে বিসিএস দিয়ে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট হতে পারলে সমাজে দাম উঠে যায়। কারিগরি শিক্ষার কোন দাম বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় নেই।

ফলে কারিগরি শিক্ষার দিকে কোন মনোযোগ নেই। তার উপর রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন জট। বিএসসি শেষ করতেই একটা ছেলে-মেয়ের ২৫-২৬ বছর লেগে যায়। সিলেবাসের আপগ্রেডেশন হয় না। আমাদের পড়াশোনা করার মূল কারন শিক্ষা অর্জন নয় বরং ডিগ্রী অর্জন করে মানুষের কাছে সম্মান পাওয়া। তাই এখানে কেউই জ্ঞান অর্জনের জন্য মাথা ঘামায় না। আমাদের সমাজটাই অনেক অলস প্রকৃতির। শিক্ষক নিয়োগে রয়েছে সীমাহীন দুর্নীতি। ভার্সিটির শিক্ষক নিয়োগে এখন মেধার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় বড় হয়ে দাড়িয়েছে। গবেষণায় বরাদ্দেও রয়েছে অনেক দৈন্যতা। বাংলাদেশের গবেষণায় বরাদ্দের পরিমাণ আফ্রিকার অনেক দেশের চেয়েও কম।

চাকুরীর সাথে প্রাতিষ্ঠানিক পড়ার তেমন কোন মিল নেই। ভার্সিটির ছাত্ররা এখন বিসিএসের স্বপ্ন দেখে। সিলেবাস কোনো রকমে শেষ করে তারা বিসিএস গাইড নিয়ে পড়ে থাকে। তাছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ছাত্র অপরাজনীতি ও উচ্চশিক্ষার আর এক প্রতিবন্ধকতা। কোনো জাতি শিক্ষা ও গবেষণায় পিছিয়ে থাকলে সে জাতি অন্যান্য যে কোনো খাতে পিছিয়ে যাবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই।

আর তাই সরকারকে অচিরেই উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে-যেন আমরা বিশ্ব দরবারে আপন পরিচয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২১
themesba-lates1749691102