বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন

পানিতে থৈ থৈ তুরাগের রাস্তাঘাট! অসহায় জনপ্রতিনিধিরাও

গাজী তারেক রহমান । স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ২৪ আগস্ট, ২০২১

সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা তলিয়ে যায় হাটু সমান পানির নিচে। সেই সাথে বৃষ্টির পানি রাস্তা গড়িয়ে ঢুকে পড়ে আশপাশের বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে ছোটখাটো কারখানা ও অফিসগুলোতেও। এমন অবস্থা থেকে যেন কিছুতেই মিলছে না তুরাগবাসীর মুক্তি। বর্ষা কিংবা ঋতুভেদহীন বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় এলাকার মানুষজন ও যানবাহন চলাচলের প্রধান প্রধান সড়কগুলো। খোদ এমন চিত্র রাজধানীর তুরাগ থানার অন্তর্গত প্রায় সবকটি এলাকার রাস্তাঘাটগুলোর। এ নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে গণমাধ্যমে একাধিক রিপোর্ট উঠে আসলেও দুর্ভোগ নিরসনে নেয়া হয়নি তেমন কোন উদ্যোগ। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি না হওয়ায় এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

চিত্র: ছবিগুলো বৃষ্টির পর পরই তিতাসপাড়া নামক এলাকা থেকে তোলা।

গতকাল (সোমবার) রাতে ঘন্টাব্যাপী বৃষ্টিপাতের পর তুরাগের রানাভোলার তিতাসপাড়া নামক এলাকা অতিক্রমের সময় চোখে পড়ে জলাবদ্ধতার শিকার হওয়া স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগের চিত্র। মানুষ ও যানবাহন চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে প্রায় এক থেকে আড়াই ফুট উচ্চতার পানির নিচে। সেই সাথে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে দোকানপাট ও পোশাক তৈরির কারখানাগুলোতেও। গভীর রাতে বৈদ্যুতিক মোটর লাগিয়ে বৃৃষ্টির পানি সরাতে কাজ করছে গার্মেন্টের মালিক ও শ্রমিকেরা। আবার যেসব বাসাবাড়ির গ্যারেজ কিংবা নিচতলায় ঢুকেছে বৃষ্টির পানি সেসব বাড়ির মালিকেরা চেষ্টা করছেন বৃষ্টিতে ভেসে আসা নোংরা পানি থেকে নিজেদের পানি সংরক্ষণের ট্যাংকি নিরাপদ রাখতে। আর তাই কেউ কেউ কোমর বেধে নেমেছিলেন পানি সেচের কাজে।

বৃষ্টির পর এভাবেই ডুবে গেছে রাজাবাড়ির সুমনেটেক নামক এলাকার রাস্তাটি। ছবি: সংগৃহিত

মাত্র ঘন্টাখানিকের বৃষ্টিতেই এমন নাজুক পরিস্থিতিতে রাত-দিন পার করছে তুরাগের অন্যান্য এলাকার বাসিন্দারাও। নলভোগ, ফুলবাড়িয়া, রানাভোলা, নয়ানগর, রাজাবাড়ি, সুমনের টেক, তারার টেক, বাদালদি, কামারপাড়াসহ একাধিক এলাকার বাসিন্দারা বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা নামক চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছে। বৃষ্টির পর এসব এলাকার রাস্তাঘাটগুলো মানুষজন ও যানবাহন চলাচলের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠে। কোমর পানিতে ডুবে যায় বেশকটি এলাকার রাস্তাঘাট ও অলিগলি। বৃষ্টি হলেই এমন অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয় ফুলবাড়িয়া-নলভোগ, ধরঙ্গারটেক, রানাভোলা-নয়ানগর, রাজাবাড়ি-সুমনেরটেকসহ একাধিক এলাকার রাস্তাসমূহ জুড়ে। থৈ থৈ পানিতে কেউ কেউ রিক্সা ও ভ্যানযোগে যাতায়াত করলেও ভিজে যাওয়া থেকে তবুও রেহাই পাচ্ছেনা এখানকার কর্মজীবিরাও। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার স্বীকার হয়ে নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে তুরাগের কয়েক হাজার বাসিন্দা।

ছবি: এটি ৫৩নং ওয়ার্ডভুক্ত ফুলবাড়িয়া-নলভোগের সড়ক। বৃষ্টির পানিতে এভাবেই তলিয়ে গেছে রাস্তাটি।

এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যেন কিছুই করার নেই। দু-বছর হলো তুরাগের সবকটি এলাকা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তিনটি ওয়ার্ডে (যথাক্রমে ডিএনসিসি ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নং) ভাগ হলেও দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি সমাধানে উল্লেখযোগ্য কোন উদ্যোগই নিতে পারেনি কাউন্সিলররা। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে এসব ওয়ার্ডে বসবাসরত বাসিন্দারা। গণমাধ্যমের কাছে এ নিয়ে কথা বলতে বলতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে অনেকেই। আর তাই কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও জলাবদ্ধতার যন্ত্রণা নীরবেই সইছে তুরাগের কয়েক লক্ষ লক্ষ বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার-উন্নয়ন কোনটিই না হওয়ায় হতাশ এখানকার মানুষজন।

ছবি: মানুষজন ও যানচলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ

তবে নাগরিকদের এই দুর্ভোগ নিরসনে কাউন্সিলর হিসেবে কিছু করণীয় আছে কিনা? প্রশ্নের জবাবে সরল স্বীকারোক্তি আর আশ্বাস ছাড়া যেন কিছুই নেই কাউন্সিলরদের কাছে। উক্ত তিন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিটি কর্পোরেশন থেকে কোন বরাদ্দ না থাকায় রাস্তার কাজে হাত দিতে পারছেন না তারা। মাঝে বরাদ্দ পাবার কথা থাকলেও করোনার টিকা কার্যক্রমে সরকারের মোটা অংকের টাকা ব্যয় হওয়ায় সেই বরাদ্দ অর্থমন্ত্রণালয়ে আটকে আছে বলে জানান ডিএনসিসি ৫৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম যুবরাজ।

তার মতে, ইউনিয়ন পরিষদে থাকাকালীন অবস্থায় বিগত কয়েক বছরেও তুরাগের এলাকাসমূহে রাস্তাঘাটের কাজ না হওয়ায় বর্তমানে এই সমস্যা প্রকট আকারে ধারণ করেছে। ফলে এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ জনগণের মাঝে নানাধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করলেও বাস্তবে বরাদ্দের অভাবে রাস্তাঘাট সংস্কারের কাজগুলো করতে পারছেন না তারা। এতে জনমনে কাউন্সিলরদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে এমন সহজ হিসাব মানতে বাধ্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা। এত কিছু সত্ত্বেও নাগরিকদের সেবা দিতে নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবী করেছেন অপর দুই কাউন্সিলর কাউন্সিলর নাসির উদ্দীন ও ফরিদ আহমেদ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২১
themesba-lates1749691102