রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন

মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের ১০৩ তম জন্মদিন আজ

উত্তরা নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১

মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের আজ ১০৩ তম জন্মদিন।

মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে তিনি অধিক পরিচিত। কারণ তাঁর কবিতা তৎকালীন বাংলার অধঃপতিত মুসলিমদের পুনর্জাগরণের অনুপ্রেরণা জোগায়। দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষের হাহাকার, আর্তনাদ, অনাহারক্লিষ্টের করুণ পরিণতি, সমকালের সংকট,জরাগ্রস্ত বাস্তবতা এবং সাম্প্রদায়িকতার হিংস্রতা দেখে তিনি দগ্ধ। আর এ সকল অসঙ্গতি-ই তাকে সাহিত্য সাধনায় অনুপ্রেরণা জোগায়।

বিংশ শতাব্দীর এই কবি ইসলামী ভাবধারার বাহক হলেও তাঁর কবিতা প্রকরণকৌশল, শব্দ চয়ন ও বাকপ্রতিমা অনন্য বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। আধুনিকতার নানা সৌকর্য তার কবিতায় পরিব্যপ্ত

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?/ এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?/সেতারা হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?/তুমি মাস্তুলে আমি দাঁড় টানি ভুলে; অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি….’ এমনই অসংখ্য জনপ্রিয় এবং কালজয়ী কবিতার জনক কবি ফররুখ আহমদ।

কবি ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । তার পিতার নাম সৈয়দ হাতেম আলী। মাতা বেগম রওশন আক্তার । গ্রামের পাঠশালাতে শিক্ষাজীবনের হাতে খড়ি ।

পরবর্তীতে কলকাতায় গিয়ে তালতলা মডেল এম.ই স্কুলে ভর্তি হন। পরে কলকাতার বিখ্যাত বালিগঞ্জ সরকারি হাই স্কুলে ভর্তি হন। ওই সময়ে কবি গোলাম মোস্তফা ছিলেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। প্রাথমিক জীবনে কবিত্ব বিকাশে কবি গোলাম মোস্তফা ব্যাপক উৎসাহ প্রদান করেন।

১৯৩৭ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৩৯ সালে কলকাতার রিপন কলেজ হতে আই.এ পাশ করেন । ১৯৪১ সালে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ ও সিটি কলেজে প্রথমে দর্শন ও পরে ইংরেজিতে অনার্স এ ভর্তি হন তিনি। কিন্তু কলকাতা সিটি কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে বি.এতে ভর্তি হন। নানাবিধ কারণে পড়াশোনা আর শেষ করতে পারেননি। ১৯৪৩ সালে আই.জি প্রিজন অফিসে চাকরির মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৪৪ সালে সিভিল সাপ্লাইয়ে এবং ১৯৪৬ সালে জলপাইগুড়িতে একটি ফার্মে চাকরি করেন। ১৯৪৫ সালে তিনি মাসিক “মোহাম্মদী” পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে ঢাকায় এসে ঢাকা বেতারে যোগ দেন । ঢাকা বেতারে নিয়মিত স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন তিনি। ঢাকা বেতারে তিনি ‘ছোটদের খেলাঘর’ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। কবি ফররুখ আহমদ প্রথমযৌবনে ভারতবর্ষের বিখ্যাত কমরেড এম.এন রায়ের শিষ্য ছিলেন। কিন্তু জন্মসূত্রে ইসলামী আদর্শ ও ঐতিহ্যের অধিকারী কবি একসময় ধর্মীয় চিন্তায় নিমগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁর কবিতায় ইসলামী সমাজতন্ত্র মূর্ত হয়ে ওঠে।

কবি ফররুখ আহমদ সৃষ্ট সাহিত্যসম্ভার ভাষা তথা বিশ্ব সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। দর্শনগত ভাবে তিনি ছিলেন মানবতাবাদী কবি। নীতি-আদর্শের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোষহীন। সাহিত্য সাধনার দীর্ঘ পথ-পরিক্রমায় তিনি আত্মবিমুখ হননি বরং তাঁর কাব্য ও রচনায় ‘বাঙালি মুসলিম’ পরিচয়টি জাগিয়ে তোলার প্রয়াস পেয়েছেন বারংবার।

 কবি ফররুখ আহমদ ছিলেন একজন ভাষা সৈনিক। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন শুরু হলে তিনি পাকিস্তান রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং বাঙালির অধিকারের পক্ষে কলম ধরেন‌

তিনি বলেছিলেন, ‘এটা দৃঢ়ভাবেই আশা করা যায় যে পাকিস্তানের জনগণের বৃহৎ অংশের মতানুযায়ী পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নির্বাচিত হবে । যদি তা-ই হয়, তাহলে এ কথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে বাংলা ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে’। তিনি পাকিস্তানি শাসকদের সমালোচনা করে ‘রাজ – রাজরা’ নামে নাটক রচনা করেন।

উত্তরা নিউজ/এস,এম,জেড

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২১
Technical Support: Uttara IT Soluation
themesba-lates1749691102