রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৮:০৫ অপরাহ্ন

ইসলামপুরে ডিজিটাল কায়দায় বয়স্ক ভাতার টাকা চুরি

মশিউর রহমান টুটুল, জামালপুর সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম: বুধবার, ৯ জুন, ২০২১

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ডিজিটাল কায়দায় বয়স্ক ভাতার টাকা চুরি করেছেন আমিনুল ইসলাম নামে  সিএস পিবির এক সমাজ কর্মী। বিষয়টি জানাজানি হলে টাকা চুরির বিষয়ে স্বীকার করে প্রথম বারের মতো ক্ষমা চেয়ে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ওই সমাজ কর্মী। গতকাল রোববার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রুহুল আমিন।

জানা গেছে, ভাতা সুবিধাভোগীদের কাছে যাতে নির্বিঘেœ বয়স্ক-বিধবা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা পৌঁছানোর জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা চালু করেন এ সরকার। গত এক মাস থেকে উপজেলা সমাজ সেবার বিভিন্ন সুবিধাভোগিদের মোবাইলে নগদ একাউন্টের মাধ্যেমে গত ছয় মাসের টাকা প্রবেশ করছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে  গোয়ালেরচর ইউনিয়নের সভুকুড়া গ্রামের বয়স্ক ভাতাভোগি সোনাউল্লাহ ও পলবান্ধা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের জয়নাল আবেদিন বয়স্ক ভাতার টাকা মোবাইলে প্রবেশ করেছে কি না জানতে উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে যান তারা। এসময় তারা উপজেলা সিএস পিবির সমাজ কর্মী আমিনুলের কাছে তাদের মোবাইল ফোন দিয়ে জানতে চান কেনো টাকা মোবাইলে আসলো না। তখন মোবাইল চেক করে জানতে পারেন তাদের একাউন্টে টাকা প্রবেশ করেছে। তাদের অজান্তে আমিনুল ইসলামের নিজের একাউন্টে এক হাজার করে দুই হাজার টাকা সেন্ড করে চুরি করেন তিনি। পরে তাদের আমিনুল বলেন আপনাদের একাউন্টে দুই হাজার টাকা প্রবেশ করেছে তারাতারি টাকা উত্তোলন করেন।

বয়স্ক ভাতাভোগি সানাউল্লাহ ও জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘আমাদের একাউন্টে তিন হাজার টাকাই প্রবেশ করেছিল। বিষয়টি আমরা না বুঝতে পেয়ে আমিনুল স্যারের কাছে গেলে তিনি কিছুক্ষণ সময় নিয়ে মোবাইল টিপে বলেন আপনাদের একাউন্টে দুই হাজার প্রবেশ করেছে তারাতারি তুলেন। পরে টাকা তোলার সময় বিষয়টি জানতে পেয়ে সমাজ সেবা কর্মকর্তার কাছে জানাই।

তবে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, শুধু এ দুইজন বৃদ্ধাই নন,এ উপজেলার একাধিক বৃদ্ধার টাকা এভাবেই চুরি করেছেন ওই সমাজ কর্মী। বিষয়টি এখন সর্বমহলে আলোচনা সমালোচনা চলছে।

উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় বয়স্ক ১৬ হাজার ৬৫৪,বিধবা ৮হাজার২৫৮ ও প্রতিবন্ধিসহ অন্যান্য ৪ হাজার ৬৭২জন ভাতার আওতায় রয়েছেন।

এসব বিষয়ে সমাজ কর্মী আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মো. রুহুল আমিন জানান, এর আগে আমার এ কার্যালয়ে এরকম কোন ঘটনা ঘটে নাই এটিই প্রথম । তবে বিষয়টি স্বীকার করে প্রথম বারের মতো ক্ষমা চেয়ে আমার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন আমিনুল ইসলাম। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অন্য উপজেলায় বদলি নিবেন ওই লিখিত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২১
Technical Support: Uttara IT Soluation
themesba-lates1749691102