রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৮:৪৪ অপরাহ্ন

আমি আমার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি

উত্তরা নিউজ টুয়েন্টিফোর
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১

প্রিয় ৫০নং ওয়ার্ডের নগরবাসী,
আমি প্রথমেই প্রশংসা করতে চাই, মানবতার মা দেশরত্ম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র যাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। স্থায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ¦ালানী ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য এবং আইসিটি খাতে এসেছে ব্যাপক সাফল্য। তাঁর দক্ষতা ও পরিকল্পনা সারা বিশে^ আজ অনুকরণীয় রোল মডেল। তিনি করোনাভাইরাস মহামারির কারণে আমাদের দেশের উন্নয়নে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানে জনপ্রতিনিধিদের যে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন তারই আলোকে ৫০নং ওয়ার্ডবাসীর সহায়তায় করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আমি সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ্। আমি বিশ্বাস করি জনসহযোগিতার মাধ্যমে যে কোন জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তাই যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলাসহ যে কোন জনকল্যাণমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমি আমার ওয়ার্ডকে ১৯টি ব্লকে ভাগ করেছি এবং ১৭টি ব্লকে ১৭টি কল্যাণ সমিতি গঠন করেছি ও বাকি ২টি ব্লকে ২টি কল্যাণ সমিতি গঠনের প্রক্রিয়ায় আছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১৭টি করোনা প্রতিরোধ উপ-কমিটি গঠন করেছি। এপর্যন্ত করোনা প্রতিরোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মাননীয় মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলামের ত্রাণ সামগ্রী উপহার প্রদানের পাশাপাশি আমিও ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছি। প্রায় ৪ লক্ষ জনসংখ্যার এই ৫০নং ওয়ার্ডে প্রায় ৪৫ হাজার পরিবারের মধ্যে অসহায় ও দুঃস্থ পরিবার আছে প্রায় ২০ হাজার এবং অসহায় কিন্তু ত্রাণ চাওয়ার ক্ষেত্রে বা নেওয়ার ক্ষেত্রে আত্মমর্যাদা হানি হতে পারে যারা চিন্তা করে এ ধরনের পরিবার আছে প্রায় ৫ হাজার। এর মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় মেয়র ও আমার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫০নং ওয়ার্ডের প্রায় ১৭ হাজার পরিবার এই ত্রাণ সামগ্রী পেয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় মেয়রের শিশু খাদ্য বিতরণের পাশাপাশি আমি ব্যক্তিগতভাবে ১ লক্ষ টাকার গুঁড়ো দুধ বিতরণ করেছি। আমার ওয়ার্ডের প্রায় ৫০০ পরিবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বিশেষ ওএমএস কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২০কেজি করে চাল পেয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অসহায়দের প্রণোদনা উপহার আমার ওয়ার্ডে ২৫০০ টাকা করে ৩৪৩২টি পরিবার পর পর দুই বছর পেয়েছে। ৫০০টি পরিবার প্রতি ঈদে মাননীয় মেয়রের ঈদ উপহার পেয়েছে। আমার অভিভাবক আমার প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব, ঢাকা ১৮ আসনের জননন্দিত মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আলহাজ¦ হাবিব হাসান আমার ওয়ার্ডে ১০০০টি পরিবারের মাঝে কম্বল, এই ঈদে ৫০০টি পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার, ১জন অসহায় রিক্সাওয়ালাকে ১টি রিক্সা ও ৩টি মসজিদে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন।
আমার ওয়ার্ডে মাননীয় মেয়রের প্রদানকৃত ৮০০ টি কম্বল ৮০০টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করেছি এবং ঈদে ৫০০ জন দুস্থ: মহিলাদের শাড়ি বিতরণ করেছি ও ৫০নং ওয়ার্ডের প্রত্যেক মসজিদের সকল সম্মানিত ঈমাম ও মুয়াজ্জিনকে ঈদ উপহার প্রদান করেছি।

সম্মাণিত ওয়ার্ডবাসী,
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৮টি ওয়ার্ড নতুন হয়েছে। ১৮টি নতুন ওয়ার্ডের ১টি আমাদের ৫০নং ওয়ার্ড। প্রাক্তন দক্ষিণখান আদর্শ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ ও ৬নং ওয়ার্ড তথা ইরশাল, মোল্লারটেক ও আজমপুর এলাকা নিয়ে আমাদের ৫০নং ওয়ার্ড গঠিত হয়েছে। ১নং ওয়ার্ডের পূর্ব পাশের ড্রেন অর্থাৎ রেললাইনের পশ্চিম পাশের যে পাকা ড্রেনটি আছে ঐ ড্রেন থেকে ৫০নং ওয়ার্ডের সীমানা শুরু। সুবারবাড়ি থেকে টিআইসি কলোনীর উত্তর পাশ হয়ে আফতাব মার্কেট, মিজানের গ্যারেজ, সিএনজি পাম্প, হাজী পাড়া হয়ে হাজী ক্যাম্প পর্যন্ত আমাদের সীমানা।
আমাদের ওয়ার্ডটি নবগঠিত ওয়ার্ড হওয়ায় নগরের উন্নয়ন নেই। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নেই। আর এই পরিস্থিতিতেই ওয়ার্ডটি মনের মাধুরী মিশিয়ে সাজানোর অপূর্ব সুযোগ। এই সুযোগ অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি করে আপনাদের সাথে নিয়ে স্বপ্নের নান্দনিক ৫০নং ওয়ার্ড গড়তে চাই, ৫০নং ওয়ার্ডের উন্নয়ন করতে চাই।

আপনারা অবগত আছেন ইতিমধ্যে ৯টি হেয়ারিংবন্ড, ১টি সিসি ঢালাই ও ২টি আরসিসি ঢালাই রাস্তার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছি। এবছর আরো ১৫টি নতুন রাস্তার উন্নয়ন কাজ ধরা হবে। এই উন্নয়ন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ভোগ করবে। তাই টেকসই উন্নয়ন করতে চাই। টেকসই উন্নয়নের জন্য ২৫২ টি রাস্তা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রকল্প হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

আমি এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন, বিভিন্ন ধরনের বাজার স্থাপন, ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন, সাধারণ পার্ক, শিশু পার্ক, পশু ক্রয়-বিক্রয়ের হাট, পাবলিক টয়লেট, খেলার মাঠ, কেন্দ্রিয় ঈদগাহ মাঠ, কেন্দ্রিয় মসজিদ, মন্দির, পাঠাগার স্থাপনসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন কাজের প্রস্তাব ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে করেছি। ইতিমধ্যে কোন উন্নয়ন কাজ কোথায় করা হবে তার জায়গাও প্রাথমিকভাবে সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সরাসরি আমার তত্ত্বাবধানে নিয়মিত নর্দমা ও রাস্তা পরিস্কারের কার্যক্রমসহ মশক নিধনের কাজ চলমান আছে। দৈনিক প্রথম আলোতে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজের জন্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখে ঐমুহূর্তেই টেলিফোনে মাননীয় মেয়র আমার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

আমি আমার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। আমার কার্যালয়ে নাগরিক সনদ, জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ প্রদানের জন্য কোন টাকা পয়সা নেয়া হয় না। এ পর্যন্ত ২০০০টি নাগরিক সনদ, ৬০টি ওয়ারিশ সনদ, ২০০টি জন্মনিবন্ধনের আবেদনে সুপারিশ, ৪০০০টি বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্রসহ অন্যান্য সেবা প্রদান করা হয়েছে। প্রায় ৩০০টি বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ সামাজিক বিচার কার্যক্রমের মাধ্যমে নিস্পত্তি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চেষ্টা করায় ৫৯৬ জন বয়স্ক ভাতা, ২০৮ জন প্রতিবন্ধী ভাতা, ৪৫ জন বিধবা ভাতা ও ১২ জন মাতৃত্বকালীন ভাতা পাচ্ছেন। আমার ওয়ার্ডে যারা এধরনের ভাতা পাওয়ার উপযোগী আছেন কিন্তু পান না প্রত্যেকেই প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্রসহ আমার কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে আমি প্রত্যেককেই ভাতার ব্যবস্থা করে দিব, ইনশাআল্লাহ। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিধবা ভাতা প্রদানের কার্যক্রম আপাততঃ বন্ধ আছে।

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৭টি মসজিদে ও ২টি মাদ্রাসায় এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১৫টি মসজিদে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছি।
মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ২টি ক্রীড়া ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করেছি।
ওয়াসার মাধ্যমে দক্ষিণ মোল্লারটেক ও ইরশালের পানি নিষ্কাশনের জন্য ৬ফুট ডায়া ব্যবহার করে ড্রেন নির্মাণ করে দিয়েছি। এখন ঐ এলাকার জনগণের জলাবদ্ধতায় থাকতে হয় না। ওয়াসার মাধ্যমে দক্ষিণ মোল্লারটেকে পানির পাম্প স্থাপন করে দিয়েছি।

এগুলো ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন তথা নগর ভবনের বাইরের কাজ। সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত নিজস্ব উদ্যোগে করা। সব আমার নিজের চেষ্টা। জনগণের উপকারের জন্য করা। এলাকার উন্নয়নের জন্য করা।

এছাড়া প্রতিনিয়তই বিভিন্ন রাস্তা ও নর্দমা সংস্কারে, অসুস্থদের চিকিৎসার্থে, গরিব শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান প্রদান করে যাচ্ছি। আমি ১৫জন শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ পড়ালেখার ব্যয়ভার বহন করে থাকি।
কাউন্সিলর হওয়ার পর চাঁদাবাজদের চাঁদাবাজি বন্ধ করেছি। সমাজ থেকে সম্পূর্ণরুপে মাদক নিমূর্লের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
আমি এলাকার উন্নয়ন ও জনগণকে সেবা প্রদানের বিষয়টি ব্রত হিসেবে নিয়েছি।

প্রিয় ওয়ার্ডবাসী,
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করার লক্ষ্যে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা উদ্ধৃতি করছি
“ স্বাধীনতা সংগ্রামের চাইতেও দেশ গড়া বেশ কঠিন। দেশ গড়ার সংগ্রামে আরও বেশি আত্মত্যাগ, আরও বেশি ধৈর্য্য, আরও বেশি পরিশ্রম দরকার। আমরা যদি একটু কষ্ট করি, একটু বেশি পরিশ্রম করি, সকলেই সৎপথে থেকে সাধ্যমত নিজের দায়িত্ব পালন করি, সবচাইতে বড় কথা, সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকি – তাহলে আমি বিনা দ্বিধায় বলতে পারি ইনশাআল্লাহ কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা আবার সোনার বাংলায় পরিণত হবে।” কোট শেষ।

আমি বঙ্গবন্ধুর ভাষণের এই উদ্ধৃতি মোতাবেক বলতে চাই, আমাদের ৫০নং ওয়ার্ডটি নবগঠিত হওয়ায় আমাদের ওয়ার্ডটিরও খুব করুণ পরিস্থিতি। ওয়ার্ডটিকে সম্পূর্ণ নতুন করে আমাদেরকেই সাজিয়ে নগরে পরিণত করতে হবে। প্রতিবেশী ওয়ার্ডের তুলনায় আমাদের জনবল কাঠামো প্রায় ১০ভাগের ১ভাগ। এই স্বল্প জনবল দিয়ে ওয়ার্ডের সেবা প্রদান খুব কষ্টদায়ক। মাননীয় মেয়রের কাছে জনবল চেয়েছি। তারপরেও বসে না থেকে আপনাদের সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ্, আপনাদের সহযোগিতায় দায়িত্ব পালন করে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাব।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পরিশেষে বলতে চাই- সততার নীতিকে সামনে রেখে অনুরাগ-বিরাগের উর্ধ্বে থেকে পরিকল্পিত, সবুজঘেরা, অত্যাধুনিক সমৃদ্ধশালী, টেকসই, আদর্শ ও বাসযোগ্য নগর গড়ার প্রত্যয়ে সেবাকে ব্রত হিসেবে নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণে ও বিশ^নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে আমৃত্যু কাজ করে যেতে চাই।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আসুন আমরা অঙ্গীকার করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে ধারণ করে সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ৫০নং ওয়ার্ডকে গড়ে তুলব এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা সবাই জীবন-যাপন করব।

মহান আল্লাহ্পাক সকলের সহায় হোন। সকলেই সুস্থ থাকেন, ভালো থাকেন – এই কামনায় সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে এখানেই শেষ করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
৫০নং ওয়ার্ড চিরজীবী হোক,
৫০নং ওয়ার্ডবাসীর জয় হোক।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

 

লেখক- ডি.এম শামীম, কাউন্সিলর, ডিএনসিসি ৫০নং ওয়ার্ড।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২১
Technical Support: Uttara IT Soluation
themesba-lates1749691102