রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৮:২২ অপরাহ্ন

‘স্বাস্থ্যে শুধু বরাদ্দই নয়, জরুরি কাঠামোগত পরিবর্তনও‘

উত্তরা নিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১

স্বাস্থ্য খাতে শুধু বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং এ খাতকে ঢেলে সাজাতে কাঠামোগত পরিবর্তনও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ লক্ষ্যে সরকারকে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (০৭ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী অনলাইন সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারপারসন ড. আতিউর রহমান মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাজেট প্রণেতারা ব্যয় সক্ষমতার বিবেচনায় যথার্থভাবেই এবারের বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থেকেছেন। তবে তার মতে এক্ষেত্রে আরেকটু সাহসী ও উদার হওয়া যেত।

আতিউর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক শক্তির বিবেচনায় বাজেট ঘাটতি কিংবা প্রবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো নিয়ে ভাবিত না হয়ে বরং আসন্ন অর্থবছরের মধ্যেই নাগরিকদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের জন্য করোনার টিকা নিশ্চিত করাই মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত। এজন্য ‘স্মার্ট ডিপ্লোমেসি’ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কার্যকর সহায়তা দরকার হবে বলে তিনি মনে করেন।

সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের কনভেনার ড. মুশতাক রাজা চৌধুরী। সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বাজেটে স্বাস্থ্য বরাদ্দ ৫ শতাংশের আশেপাশে থেকে যাচ্ছে, যা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়ানো দরকার। তার মতে এর চেয়েও বড় ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষগুলোর এই অপ্রতুল বরাদ্দও পুরোপুরি ব্যয় করতে না পারা। কাজেই এই বাজেট বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য নীতি-নির্ধারকদের আরও উদ্যোগী হওয়া দরকার বলে তিনি মত দেন।

প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ বরাদ্দ করা অর্থের অপচয় রোধে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো এবং বাস্তবায়ন দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের সদস্য এবং পপুলেশন কাউন্সিলের সভাপতি ড. উবায়দুর রব বলেন, দেশের নাগরিকদের জন্য পর্যাপ্ত টিকার ব্যবস্থা করতে আনুমানিক ১.৫ বিলিয়ন ডলার দরকার হবে। বাংলাদেশ সরকার চাইলেই এ পরিমাণ অর্থ রিজার্ভ থেকে ঋণ করতে পারে। তাতে সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর ওই অর্থে বড় চাপ পড়বে না।

সীমান্ত এলাকাগুলোতে করোনার প্রাদুর্ভাব যে হারে বাড়ছে তার বিবেচনায় বাজেটে এজন্য আলাদা বরাদ্দের দাবিও এসেছে আলোচকদের পক্ষ থেকে। এছাড়াও আন্তঃসীমান্ত রোগ নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা নিয়েও এখন থেকে ভাবা দরকার বলে তারা মনে করেন।

ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার জন্য ব্যক্তি খাতের ওপর নির্ভরতার কথা তুলে ধরে প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি খাতের স্বাস্থ্য সেবা উদ্যোক্তাদের জন্য যেসব কর ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেগুলোকে সময়োচিত বলে অভিহিত করেন। সঞ্চালক ড. মুশতাক রাজা চৌধুরী সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘ভিশন’ দাঁড় করানোর আহ্বান জানান, যাতে সেটি অনুসারে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া যায়।

উত্তরা নিউজ/এস,এম,জেড

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২১
Technical Support: Uttara IT Soluation
themesba-lates1749691102