অফিসে যেসব অভ্যাস অপেশাদারিত্ব প্রকাশ করে


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ০৯:৩৭:২২ অপরাহ্ন

আপনি নিজেকে খুব ভালো কর্মী ভেবে থাকলেও আসলে তা নন, যদি নিচে উল্লেখিত কিছু অভ্যাস আপনার থাকে।

ই-মেইলের উত্তর ধীরে দেয়া

অফিস সময়ের বাইরে ই-মেইল চেক করা বিরক্তিকর হলেও এই অভ্যাস আপনার কর্মজীবনে সফলতা বয়ে আনবে। অফিসের অনেক কর্মী বা কাজ আপনার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে। আর অফিস সময়ের বাইরে বা ছুটির দিনে আপনার একটি ই-মেইলের জবাব তাদের অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ পেনেলোপ ট্রাঙ্ক বলেন, ‘ই-মেইলের উত্তর ধীরে দেয়া কাজকে গুরুত্ব না দেয়ার শামীল।’ বর্তমান সময়ে ফোন এবং ই-মেইল যেহেতু যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম সেহেতু দ্রুত সাড়াদানই সফলতার চাবিকাঠি।

কাজের সময়ে ফোনে ব্যক্তিগত আলাপ

কাজ করার সময় জরুরি ফোনকল আসতেই পারে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিদিন দায়িত্বরত অবস্থায় বন্ধু বা নিকট কারোর সঙ্গে কথা বলা বা চ্যাট করা একদমই ঠিক নয়। কারণ ব্যক্তিগত ফোনকল ব্যক্তিগত সময়ের জন্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যস্ত থাকা বা ব্যক্তিগত চ্যাটিংয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

ঘন ঘন মেকাপ বা চুল ঠিক করা

আপনাকে কর্মক্ষেত্রে অবশ্যই আকর্ষণীয় ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে। তাই বলে অফিসে বসেই ঘন ঘন মেকাপ বা চুল ঠিক করা মোটেও শোভনীয় নয়। অফিসে গাঢ় মেকাপ বা লাল লিপিস্টিকের পরিবর্তে কাজের সঙ্গে মানানসই হালকা মেকাপ করা উচিত। ট্রাঙ্ক বলেন, ‘যারা অফিসে একদমই মেকাপ ব্যবহার করে না তাদের অনেকে মনে করে তারা তাদের কাজে সন্তুষ্ট নয়।’ বেশকিছু গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে যে, যারা কর্মক্ষেত্রে নিজেদেরকে মানানসই সাজে উপস্থাপন করে তারা অনেক বেশি সফল। সুতরাং অফিসে যাওয়ার আগে সময় নিয়ে নিজেকে সাজিয়ে তুলুন।

দেরি করে অফিসে যাওয়া

আপনার ব্যক্তিগত কোনো ঝামেলা, বাচ্চার অসুখ-বিসুখ কিংবা জ্যামের কারণে সপ্তাহে এক বা দুইদিন আপনার অফিসে পৌঁছাতে দেরি হতেই পারে। যেকোনো নিয়মানুবর্তী কর্মীরও এমনটা হতে পারে। তবে প্রতিদিন দেরি করে অফিসে যাওয়া অবশ্যই কর্মক্ষেত্রে আপনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দু-একদিন দেরি করে অফিসে গেলে কেউ আপনাকে খেয়াল করবে না, তবে প্রতিদিন পনেরো মিনিট দেরি করে গেলে সবাই আপনাকে খেয়াল করবে। এটাই স্বাভাবিক কারণ অফিসে কে দেরি করে আসে তা মোটামুটি সকলের আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়।

টেবিলে বসে শব্দ করে খাওয়া

এটা শুধু বিরক্তির অভ্যাস নয় অন্যের রাগেরও কারণ হতে পারে। আপনি যখন শব্দ করে টেবিলে বসে খাচ্ছেন তখন আপনার পাশেই আপনার কোনো সহকর্মী বসে মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে যেটা তার জন্য বিরক্তির কারণ হতে পারে। যদি নীরবে খেতে পারেন তাহলে কাজের টেবিলে বসে খাওয়ার দরকার নেই। সবচেয়ে ভালো হচ্ছে, বিরতির সময়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নেয়া।

সব অবদান নিজের দাবি করা

আপনি যদি নিজে কোনো কাজ সম্পূর্ণভাবে একা করে থাকেন তবে সফলতার সবটুকু কৃতিত্ব আপনার। কিন্তু কোনো দলগত কাজে সবটুকু কৃতিত্ব দাবি করা মোটেও উচিত নয়। একটি চমৎকার দলগত কাজ যেখানে আপনি অনেক কাজ করেছেন আর দলের বাকি সদস্যরা কম কাজ করেছে সেখানেও নিজে কৃতিত্ব দাবি না করে অন্যদের অবদান স্বীকার করুন।

উত্তরা নিউজ/এস,এম,জেড