মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান
উত্তরা নিউজ


৫ দফা দাবিতে বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলন







নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ০৮ মে, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে মানসম্পন্ন বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজসমূহের এমপিওভুক্তিসহ ৫ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শিক্ষক সমিতি। সকাল ১১টায় সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শিলা বার্ণাডেট গমেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় উক্ত সংবাদ সম্মেলন। এসময় বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান বলেন, উন্নত বাংলাদেশ মানে টেকসই শিক্ষা। আর টেকসই শিক্ষা বাস্তবায়ন কিংবা ংঁরঃধনষব ফবাবষড়ঢ়সবহঃ মড়ধষ অর্জন করতে হলে উন্নত শিক্ষক প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এর যাত্রা শুরু হলেও ১৯৯২ সাল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসব কলেজ পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার ২৭ বছরে এসব কলেজ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হচ্ছেন, জাতীয় স্কেলে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আমরা যাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে জাতি গঠনে অবদান রাখছি, আমরা যারা শিক্ষকদের প্রশিক্ষক তাদের এমপিওভুক্ত কিংবা সরকারি কোন সহযোগিতায় আনা হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী বছরের পর বছর নামমাত্র বেতন কিংবা বিনা বেতনে কাজ করছেন। শিক্ষকগণ যে শুধু বেতন-ভাতা পাচ্ছেনা তাইনা তাদের দেশ বিদেশের কোন ট্রেনিং এর সাথেও যুক্ত করা হচ্ছে না। শিক্ষকরাই যদি ট্রেনিংপ্রাপ্ত না হন তবে উন্নত প্রশিক্ষক হবেন কিভাবে? আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। আমরা মনে করি আপনার দেয়া ভিশন ২০২১/২০৪১ বাস্তবায়নের শিক্ষকগণই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোর মধ্যে আকাশ-পাতাল বৈষম্য বিরাজ করায় উন্নত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান আশা করছি।

বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শিক্ষক সমিতির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনটিতে সভাপতি নজরুল ইসলাম খান সরকারি এমপিওসহ পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দফাগুলো যথাক্রমে-১. বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সমূহ কর্মরত সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করতে হবে। ২. বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে কর্মরত সকল শিক্ষককে দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ দিতে হবে। ৩. প্রতিটি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে একটি করে ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠাসহ তথ্য-প্রযুক্তির সকল সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ৪. প্রতিটি বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের নামে এক খন্ড নিষ্কণ্টক জমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দিতে হবে। ৫. জরুরী ভিত্তিতে বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজসমূহে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দাবী উত্থাপনের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনের সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম খান।

এসময় সংগঠনের পক্ষ থেকে পরবর্তী নি¤েœাক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ১. বিভিন্ন কলেজে মতবিনিময় সভা। ২. ঢাকা মহানগরীর আটটি বিভাগের বিভাগীয় সম্মেলন। ৩.মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ। ৪. আন্দোলনের অগ্রগতি নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে গোলটেবিল বৈঠক। ৫ শহীদ মিনারে শিক্ষক মহাসমাবেশ।

ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটে এমপিওভুক্তিসহ ৫দফা দাবিতে বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শিক্ষক সমিতির সাংবাদিক সম্মেলনটিতে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি প্রফেসর ফাতেমা খাতুন, অধ্যাপক রমজান আলী, অধ্যক্ষ আল মুজাহিদ ফকির, অধ্যক্ষ আব্দুস সামাদ, সহ-সাধারণ স¤পাদক অধ্যক্ষ আরজু নাসরিন পনি, সাংগঠনিক স¤পাদক মোঃ বাবুল হোসেন, দপ্তর স¤পাদক অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম, অর্থ স¤পাদক অধ্যক্ষ সাহিদা আক্তার, প্রচার স¤পাদক অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা স¤পাদক সুলতানা সাজিদা ইয়াসমিন, নির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সামাদ, অধ্যক্ষ মোঃ আবুল হোসেন, অধ্যক্ষ মোঃ হুমায়ুন কবির, অধ্যক্ষ ফাতেমা খাতুন, অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন, অধ্যক্ষ মোঃ রনজু শেখ, অধ্যক্ষ হামিদা আক্তার, অধ্যক্ষ রুবিনা আক্তার, অধ্যক্ষ রাহাতুল আবকা, অধ্যক্ষ আবুল খায়ের মুকুল, অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম, অধ্যক্ষ রওশন আরা, অধ্যক্ষ কলিম উল্লাহ্, অধক্ষ কালিপদ রায়, অধ্যক্ষ সাদিয়া আফরোজ, অধ্যক্ষ ড. মোঃ হাসমত উল্লাহ্, অধ্যক্ষ সানজিদা শাহনাজ পারভীন, এবিএম আব্দুস সোবহান, আব্দুল হালিম ও মোঃ আলী প্রমুখ।