ভোটারদের অভূতপূর্ণ সাড়াই আমার প্রেরণা: জাহিদুল হাসান


» আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন | উত্তরা প্রতিবেদক | | সর্বশেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২০ - ০৭:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন

মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচনী সমীকরণ হঠাৎ-ই পরিবর্তনের পথে। আগামী ১ দিনের মধ্যে সেই পরিবর্তনের ধারায় অনেক কিছুই ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বৃহত্তর উত্তরা আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও দুঃসময়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির বিশ্বস্থ্ হাতিয়ার আবুল হাশিম চেয়ারম্যানের ছেলে হাজী জাহিদুল হাসানের পক্ষে সহানুভূতি বাড়ছে ভোটারের। এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে অন্য আরো দুইজন নির্বাচন করলেও শেষ পর্যন্ত আধুনিক তুরাগের প্রতিষ্ঠাতা ও হরিরামপুর ইউপির দুই যুগের সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে হিসেবে ভোটের মাঠে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন। ঘুড়ি প্রতিকের কর্মীদের এ ধারা অব্যাহত থাকলে এ ওয়ার্ডে জয়ের মালা শেষ পর্যন্ত প্রার্থীর গলায় উঠতে পারে বলে শেষ সময়ে অনেকেই মত দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে থানা আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা প্রতিবেদককে বলেন, তুরাগের হরিরামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাশিমের অবদান কেয়ামত পর্যন্ত এ অঞ্চলের মানুষ অস্বীকার করতে পারবে না। বিএনপি জোট সরকারের সময় গোটা হরিরামপুর ইউপিকে অধিগ্রহন করে নিতে চেয়েছিল সরকার। কিন্তু চেয়ারম্যানের বলিষ্ঠ ভুমিকার কারণে আজকের তুরাগ থানার চেহারায় আধুনিকতার পরিবেশ এসেছে। ভূমি অধিগ্রহন থেকে বেচে যাওয়ার কারণে মানুষ কিছু পয়সার মুখ দেখছে। এলাকায় শিল্প বানিজ্য গড়ে উঠেছে। অবহেলিত তুরাগে শতাধিক রাস্তাঘাট বের করার কারণে রাজধানীর পাশের পাড়াগাও তুরাগ আজ উত্তরার উপকন্ঠে মর্যাদা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হরিরামপুরের ইউপি ভেঙ্গে এখন চারটি ওয়ার্ড হয়েছে। তারই একটি ওয়ার্ডে নির্বাচন করছেন জাহিদুল হাসান। চেয়ারম্যান আজ অসুস্থ্য, বিছানায় পড়ে আছেন। আমরা যারা তার অনুসারী হিসেবে এ এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করেছি, তাদের উচিৎ হবে একটি ওয়ার্ড অন্তত চেয়ারম্যান সাহেবের ছেলেকে উপহার দেওয়া। সে লক্ষে কাজ করছি। আশা করি সফল হবো। এদিকে তুরাগের এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করা অপর দুই প্রার্থী, একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করছেন। এতে সাধারণ ভোটাররা কিছুটা উদ্বিগ্ন। তারা মনে করছেন, এলাকার আওয়ামী লীগের কান্ডারীর ছেলের দ্বারা দলের কোন ক্ষতি আগেও হয়নি ভবিষ্যতে হবে না। তাই, নৌকা ও ঘুড়ি পক্ষের লোকজন সর্বোচ্চ সংযম নিয়ে মাঠে অবস্থান করছেন। তারা সাধারণ ভোটারের শান্তিতে বিশ্বাসী। তাই জনগনও শেষ পর্যন্ত তাদের পক্ষেই রায় দিবে বলে আশা তাদের।

ঘুড়ি প্রতিকের প্রার্থী জাহিদুল হাসান প্রতিবেদককে বলেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন এখানের জনপ্রতিনিধি ছিলেন। এখানের স্থানীয় ও বহিরাগত লোক বলে কোন পার্থক্য তিনি করেননি। তার এমন ভালোবাসায়, সবসময় সর্বাধিক সংখ্যক ভোটার তার উপর দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আস্থা রেখেছে। আজ আমার বাবা অসুস্থ্য, এ এলাকা নিয়ে তার বাকী স্বপ্ন পূরণ করতে আমি ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। মানুষ আমাকে অভূতপূর্ব সাড়া দিচ্ছেন । এটা আমার প্রেরণা।  আশা করি জয় আমাদের হবে।

দল মনোনিত না হওয়ার বিষয়ে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এখানে যারা আওয়ামী লীগের বলে দাবী করছেন তারা কি আমার পরিবার থেকেও বড় আওয়ামীলীগ। ভোটের মাঠে আমি এসব বলে তিক্ততা বাড়াতে চাই না। এখানের মানুষ জানে আমরা কেমন পরিবারের সন্তান। চাঁদাবাজি, দালালি করে আমাদের খেতে হয় না, আল্লাহর রহমতে ভবিষ্যতেও আমাদের দ্বারা এসব কাজ হবে না। এটা ৫৪ নং ওয়ার্ডবাসী জানে। কাকে ভোট দিলে কি হবে তা নতুন করে আমার প্রিয় ওয়ার্ডবাসীকে চেনাতে হবে না।

সব রকমের ভোগান্তি অবসানে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। এছাড়াও সর্বাধুনিক মডেল ওয়াড গড়ার পাশাপাশি বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে এলাকাটিকে গ্রীন জোন হিসাবে গড়ে তুলতে চান তিনি। তবে এলাকাবাসী বলছেন, এলাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। পাশাপাশি ভাঙ্গাচুরা আর খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাটে এলাকাবাসীকে পথ চলতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গত এক দশকে এই এলাকায় দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। ডিএনসিসিতে যুক্ত নতুন ৫৪নং ওয়াডটি সাবেক হরিরামপুর ইউনিয়নের ১,২ ও ৩ নং ওয়াডের রোশাদিয়া, কালিয়ারটেক, খায়েরটেক, কামারপাড়া, ভাটুলিয়া, নয়ানীচালা, রাজাবাড়ী, ধউর ও আশুতিয়া, রানাভোলা নিয়ে গঠিত এ ওয়ার্ডে প্রায় ৭০ হাজার লোক বসবাস করে। এলাকার মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ হাজার। পুরুষ ভোটার-১১ হাজার ৯শ’ আর নারী ভোটার ১১ হাজার।