৫২৯ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা ফেসবুকের বিরুদ্ধে!


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২০ - ০৩:৫৯:৫১ অপরাহ্ন

অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশের প্রাইভেসি ল’ ভাঙার জন্য ফেসবুকের বিরুদ্ধে ৫২৯ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করেছে। যা দেশটির সরকারের এক বছরের আয়ের চেয়েও বেশি! আর এই পরিমাণ টাকা দিয়ে বাংলাদেশ ৯ বছরের বাজেট দিতে পারবে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া কেন এতো টাকা চাইছে?

ফেসবুকের ‘ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ডাটা স্ক্যাম’ ঘটনাটি কয়েক বছর আগে ঘটলেও এর জের এখনও রয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের দাবি এটা তাদের দেশের গোপনীয়তা আইন ১৯৮৮ ভঙ্গ করেছে।

গতকাল অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল কোর্টে দায়েরকৃত মামলা অনুসারে, ফেসবুক ‘দিস ইজ ইয়োর ডিজিটাল লাইফ’ নামক অ্যাপের কাছে অস্ট্রেলীয় জনগণের ব্যক্তিগত তথ্য পাচার করে। এটা করা হয় ২০১৪ সালের মার্চ মাস থেকে ২০১৫ সালের মে মাসের মধ্যে। ৩,১১,১২৭ জন ফেসবুক ব্যবহারকারীর গোপন তথ্য ফেসবুকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের কাছে চলে যায়। আর দিস ইজ ইয়োর ডিজিটাল লাইফের ডেভেলপাররা এই তথ্য ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার কাছে বিক্রি করে দেয়। যে তথ্য দিয়ে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা রাজনৈতিক প্রোফাইল তৈরিতে ব্যবহার করে।

দ্য অফিস অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ইনফরমেশন কমিশনার অভিযোগ করে যে, ফেসবুক সামান্যতম পদক্ষেপও নিতে পারেনি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য অনুমোদনহীন উৎসের কাছ যাওয়া রোধ করতে। তাছাড়া এই সকল তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা যে কারণে নেয়া হয়েছে তার বাইরের একটি কারণে (রাজনৈতিক প্রোফাইল তৈরিতে)। যার দুটিই অস্ট্রেলিয়ার প্রাইভেসি অ্যাক্ট ১৯৮৮ লঙ্ঘন করে।

দ্য অফিস অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ইনফরমেশন কমিশনার দাবি করে, মাত্র ৫৩ জন মানুষ দিস ইজ ইয়োর ডিজিটাল লাইফ নামক অ্যাপ ডাউনলোড করে। অথচ তথ্য নেয়া হয়েছে ৩১১,১২৭ জনের। ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ঘটনায় এর আগে ২০১৯ সালে আমেরিকাতে ৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছে ফেসবুক। আর ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডে ৫ লাখ পাউন্ড জরিমানা গুনে ফেসবুক। তবে এবারের অংক সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে।

টেকক্রাঞ্চের সাথে আলাপকালে ফেসবুকের এক মুখপাত্র বলেন, আমরা গত দুই বছর দ্য অফিস অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ইনফরমেশন কমিশনারকে তদন্তে সহায়তা করেছি। আর মামলার বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না, কেননা সেটা এখন কোর্টে বিচারাধীন।