২১ বছর ধরে বই নিয়ে পথে পথে


» উত্তরা নিউজ I সারাবাংলা রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ৩০ অগাস্ট ২০২০ - ০১:৫১:৩২ অপরাহ্ন

এমরান মাহমুদ প্রত্যয়, আত্রাই, নওগাঁ সংবাদদাতা : ২১ বছর ধরে বই নিয়ে পথে পথে এ অন্যরকম এক বই বিক্রেতা। অন্যভাবে বলতে পারি বইয়ের ফেরিওয়ালা।পথে-ঘাটে, হাট-বাজারে, পায়ে হেঁটে ও বাইসাইকেল করে ২১ বছর ধরে বই বিক্রি করছেন মোঃ লোকমান হোসেন । বয়স ষাটোর্ধ পার হলেও থেমে নেই বই বিক্রির জন্য তার এই পথচলা। শ্রমকস্টকে মেনে নিয়েই বই নিয়ে ছুটছেন তিনি। হলেও পথে ঘাটে, প্রত্যান্ত অঞ্চলে পায়ে হেটে ও হাটে বাজারে সাইকেলে করে বই বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।
লোকমান এর বইয়ের তালিকায় রয়েছে- কবিতা, ধর্মীয়, বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও শিশুতোষ বই ও ধর্মীয় পোস্টার। এছাড়া অনেক শিক্ষনীয় বইও আছে তার বিক্রির তালিকায়। আসলে বই বিক্রিই তার জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম।
লোকমান হোসেন নওগাঁ  জেলার আত্রাই  উপজেলার আমরুল কসবা  গ্রামের মৃত রমজান এর ছেলে। অল্প পড়া-লিখা  জানা মানুষ  তিনি স্থানীয় স্কুলে পড়া লিখা করতেন,সংসারে অভাব অনাটনের জন্য পড়া লিখা সম্ভব হয়নি ।সংসারের হাল ধরতে তিনি নানা মুখি কাজ করতেন।১৯৯৯ সালে থেকে তিনি বই বিক্রিতে জড়িয়ে পড়েন। তার ঠিকানা আত্রাই  হলেও তিনি নিজ উপজেলাসহ আশেপাশের  উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পায়ে হেঁটে বই বিক্রি করতেন, পরে বয়স বাড়ার সাথে সাথে বই বিক্রির জন্য সঙ্গী করেন বাইসাইকেল ।
তিনি প্রায় প্রতিদিনিই ভোরে আত্রাই তার নিজ এলাকা থেকে   সাইকেল নিয়ে আত্রাই উপজেলা আশেপাশের উপজেলা যেমন বাগমারা, নাটোর,রাণীনগরের বিভিন্ন জায়গায় বই বিক্রি করেন। গ্রামে গ্রামে সাইকেলে ও পায়ে হেঁটে বই ফেরি করে বিকেল ও সন্ধ্যায় আত্রাই ফেরেন। এ ভাবে কাটে তার জীবনের ২১ টি বছর। যে সময় আবহাওয়া খারাপ থাকে, অর্থাৎ দুর্যোপূর্ণ আবহাওয়ায়ও তাকে বই নিয়ে পথ চলতে দেখা যায়।
জিজ্ঞাসা করলে লোকমান  বলেন, ‘এ ছাড়া আর উপায় কি, বই বিক্রি করেই যে আমাকে সংসার চালাতে হয়।’
আসলে বই বিক্রি ছাড়া তার আয়ের আর কোনো উৎস নেই। বই বিক্রিই তার অর্থ উপার্জনের একমাত্র উপায়। যদিও  লোকমানের পরিবারের সদস্য তার ছেলে বর্তমানে ঢাকা গার্মেন্টসে আছেন। তার সংসারে স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে মেয়ে । মেয়ের বিয়ে দিয়েছে অনেক আগেই।
ছেলে বর্তমানে সংসারের কিছু টা হাল ধরাতে। বাবা কষ্ট করে বই ফেরি করতে নিষেধ করেন।
লোকমানকে এ ব্যপারে জিজ্ঞেস করা হলে,তিনি বলেন বর্তমানে পেশাদারিত্বের জন্য নয়,দীর্ঘ দিন ধরে এ পেশায় থাকায় নেশায় পরিনত হয়েছে।