২টি সহজ উপায় চুল পড়া বন্ধ করার


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ - ১২:০৪:০৫ অপরাহ্ন

চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগে থাকেন অনেকেই। অল্প বয়সেই মাথায় টাক পড়ে যাচ্ছে অনেকের। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী হচ্ছেন নারী-পুরুষ উভয়েই। এটি সৌন্দর্য নষ্টের পাশাপাশি বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নতুন চুল গজাবে এই আশায় অনেকেই বাজার থেকে নানা কেমক্যালযুক্ত দ্রব্য কিনে ব্যবহার করেন। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত বেশি হয়।

চিকিৎসকদের মতে বংশগত কারণ, থাইরয়েডের সমস্যা, আয়রন বা ক্যালসিয়ামের অভাব, খাদ্যে পুষ্টিগুণের অভাব, বিভিন্ন ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও হরমোনের ভারসাম্য ঠিক না থাকার জন্য চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ যা-ই হোক না কেন, এর সমাধান দরকার সবারই। চলুন জেনে নেয়া যাক, চলু পড়ার সমস্যা দূর করার দুটি উপায়-

নারিকেল তেল, কালোজিরা ও মেথির মিশ্রণ
কালোজিরা এবং মেথি কড়া রোদে শুকিয়ে একসঙ্গে গুঁড়া করে নিন। এরপর নারিকেল তেলের সঙ্গে গুঁড়ো করা মেথি ও কালোজিরে মিশিয়ে মিশ্রণটিকে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর একটি কাঁচের বোতলে রেখে দিন। এটি অন্তত তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকবে।

 

মিশ্রণটি চুলে লাগানোর আগে এর সঙ্গে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশ্রিত করে মাথার ফাঁকা স্থানে লাগিয়ে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করবেন। কয়েক মাসের মধ্যেই হাতেনাতে ফল পাবেন। এসব উপকরণ চুল পড়া বন্ধ করবে দ্রুতই।

নিম পাতার রস
নিমপাতার উপকারিতার কথা কম-বেশি সবারই জানা। এটি প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক যা নতুন চুল গজাতে এবং চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চুলের গোড়া শক্ত করে এবং খুশকি দূর করে। নিমপাতা ভালো করে ধুয়ে পেস্ট করে নিন। এরপর সেই পেস্ট থেকে রস বের করে মাথার পুরো অংশে, চুলের গোড়াতে লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। চাইলে পেস্টটি সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন। কমপক্ষে ৩০ মিনিট রেখে তারপর হালকা গরম পানি ও শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন। এভাবে সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চারদিন করুন। চুল পড়ার সমস্যা দূর হবে মাসখানেকের মধ্যেই।

 

আরেকটি উপায়ে ব্যবহার করতে পারেন নিমপাতা। পাতাগুলো ভালো করে ধুয়ে পানিতে ফুটিয়ে নিন। এই পানি ঠান্ডা করে তা দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। এভাবেও উপকার পেতে পারেন।

দীর্ঘস্থায়ীভাবে চুল পড়া রোধ করতে ঘরোয়া উপায়ে যত্ন নেয়ার পাশাপাশি অগোছালো জীবনযাত্রার পরিবর্তন করতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম, পরিমাণমতো পানি পান ও সময়মতো খেতে হবে। তালিকায় রাখুন স্বাস্থ্যকর সব খাবার। তাজা ফল ও শাক-সবজি থাকুক পাতে। চুল সুস্থ ও সুন্দর রাখতে প্রচেষ্টা থাকতে হবে আপনারই।