১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সরাতে হবে অবৈধ ডিটিএইচ সংযোগ -তথ্যমন্ত্রী


» উত্তরা নিউজ টোয়েন্টিফর, ডেস্ক রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯ - ০৯:৫৭:৫৯ পূর্বাহ্ন

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সকল অবৈধ ডিটিএইচ সংযোগ সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে, জানান তিনি।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে টেলিভিশন শিল্পী, কলা-কুশলী, নাট্যকার, অনুষ্ঠান নির্মাতাদের সম্মিলিত সংগঠন এফটিপিও (ফেডারেশন অভ টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশনস)-এর সাথে মতবিনিময় শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্ত জানান। তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ মুরাদ হাসান, সচিব আবদুল মালেক, অতিরিক্ত সচিব নূরুল করিম এবং এফটিপিও আহ্বায়ক মামুনুর রশীদসহ প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির ডিটিএইচ অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়। বিদেশি কোনো ডিটিএইচ কোম্পানিকে এখানে ডিটিএইচ যন্ত্র বসিয়ে সম্প্রচারের অনুমোদন দেয়া হয়নি। সুতরাং বিদেশি যে সমস্ত ডিটিএইচ যারা ব্যবহার করছেন বা যাদের মাধ্যমে ব্যবহার করছেন, পুরোটাই অবৈধ।’
‘বাংলাদেশে কয়েক লক্ষ বিদেশি ডিটিএইচ সিস্টেম বিভিন্ন জায়গা লাগানো হয়েছে’ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, শুধু শহরে নয় গ্রামেও লাগানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এটা বিদেশ থেকে কেনা হয়, বাংলাদেশের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে যায়। এগুলো যারা ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে এক বছরের টাকা নিয়ে নেয়া হয়। কোম্পানি তো বিদেশি, মাসে মাসে নেয়া কঠিন, এজন্য এক বছরের টাকা নিয়ে সেগুলো আবার হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়। এভাবে দেশের সাতশ থেকে আটশ কোটি টাকার বেশি বিদেশে পাচার হয়। এটি চলতে দেয়া যায় না, এটি সমীচিন নয়।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করেছি, ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিচ্ছি। সমস্ত অবৈধ বিদেশি ডিটিএইচ যন্ত্র ব্যবহার এর মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে। এরপর আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো। ক্যাবল নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলার জন্য যেভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে, একইভাবে ১৫ ডিসেম্বরের পরে অবৈধ বিদেশি ডিটিএইচ কেউ যদি ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এফটিপিও আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ সভায় বাংলায় ডাবিং করা বিদেশি সিরিয়াল অনুমোদনের জন্য একটি কমিটি গঠন, এধরনের সিরিয়াল অফ-পিক আওয়ারে সম্প্রচারের ব্যবস্থা নেয়ার ওপর জোর দেন।  ‘দেশের ৮০ শতাংশ বিয়ে ভাঙার জন্য বিদেশি সিরিয়ালের পরকীয়া, হিংসা-দ্বেষমূলক কাহিনী দায়ী’, বলেন তিনি।
এফটিপিও প্রতিনিধিদের মধ্যে ডিরেক্টর’স গিল্ডের সভাপতি সালাহউদ্দিন লাভলু, সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক, অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি শহিদুজ্জামান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব নাসিম, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সভাপতি মাসুম রেজা, সাধারণ সম্পাদক এজাজ মুন্না  এবং টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসার এসোসিয়েশনের সভাপতি মুনতাসির মামুন সাজু মতবিনিময়ে অংশ নেন।