১৫টি খাতে বিনিয়োগের জন্য তুরস্ককে আহ্বান


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৯ - ০৬:০১:৩৫ অপরাহ্ন

দ্বিপক্ষিয় বাণিজ্যিক সর্ম্পক জোরদার এবং ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের জন্য তুরস্ককে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-তুরস্ক যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ আহ্বান জানান।

বুধবার আঙ্কারায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ ১৫টি লক্ষ্য সামনে রেখে তুরষ্কের আঙ্কারায় গতকাল মঙ্গলবার শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ-তুরস্ক পঞ্চম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন সভা।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনে তুরস্কের সঙ্গে এটি পঞ্চম সভা। সভায় তুরস্কের স্পিকার মুস্তফা সেন্তোপকে বাংলাদেশের ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ খাতের বিষয়ে উপস্থাপন করা হয়।

সভায় বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য-বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আইসিটি, শিপ বিল্ডিং, শিল্প, কর্মসংস্থান, নৌ-পরিবহন, কৃষি, শিক্ষা, নগরায়ণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন ও বিমান পরিবহন, জ্বালানি-বিদ্যুৎ, সংস্কৃতি-ট্যুরিজম, ডেভলপমেন্ট অ্যাসিসটেন্স, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পাট-টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল পরে তুরস্কের গ্রান্ড ন্যাশনাল অ‌্যাসেম্বলির স্পিকার মুস্তফা সেন্তোপের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতকালে মন্ত্রী বলেন, ‘তুরস্ক একটি অন্যতম অসাম্প্রদায়িক দেশ। অসাম্প্রদায়িকতা আর জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে তুরস্ক বিশ্বে সমাদৃত। বাংলাদেশের সাথে তুরস্কের এই নীতিতে সামঞ্জস্য রয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী এসময় বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং গ্লোবাল আউট সোর্সিংয়ের একটি কেন্দ্রে পরিণত করেছে। দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হয়েছে। বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত ১০ বছরে ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং চলতি বছর ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আগামী বছর ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যা ২০২৪ সাল নাগাদ দাঁড়াবে ১০ শতাংশ এবং সেটা অব্যাহত থাকবে। ’

তুরস্কের স্পিকার মুস্তফা সেন্তোপ বলেন, ‘বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে ধর্ম, সংস্কৃতিসহ অনেক ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য রয়েছে। রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে উদারতার এক মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’ তাদের প্রত্যাবর্তনে তুরস্কের সমর্থন রয়েছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

এ সময় অর্থমন্ত্রী তুরস্কের স্পিকারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সালাম ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। তিনি তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তুরস্কের স্পিকার বাংলাদেশ সফরের জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেন।

উত্তরা নিউজ/এস,এম,জেড