হ্যান্ড গ্লাভস পরতে পারেননি খালেদা জিয়া


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০ - ০৭:৫১:৪৯ অপরাহ্ন

দুর্নীতির মামলায় ২ বছর এক মাস ১৭ দিন কারাবন্দি থাকার পর গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে হুইলচেয়ারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ছয়তলা কেবিন ব্লক থেকে নিয়ে আসা হয় তাকে।

হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় খালেদা জিয়ার পরনে ছিল হালকা গোলাপি রঙের বোরকা, চোখে পুরোনো সেই চশমা। করোনা থেকে বাঁচতে মুখে ছিল মাস্ক। তবে হাত কাপড়ে ঢাকা থাকলেও, ছিল না হ্যান্ড গ্লাভস।জানা যায়, বেগম জিয়ার হাতের আঙুল বেঁকে যাওয়ার কারণে হ্যান্ড গ্লাভস পরানো সম্ভব হয়নি। যদিও পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণভাবে করোনা থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করে হাসপাতাল থেকে যেন বের করা হয়।

খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে বের করার সময় উপস্থিত ছিলেন- পরিবারের সদস্য, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি ডা. হারুন আল রশিদসহ অনেকই।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. হারুন আল রশিদ বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, বেগম খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে বের করার সময় হ্যান্ড গ্লাভস পরিয়ে বের করার জন্য। কারণ আমরা জানতাম, আমরা নিষেধ করার পরও খালেদা জিয়ার অনুসারীরা তাকে দেখার জন্য আসবে। অনুসারীরা বাধা-নিষেধ মানবে না। এই অবস্থায় ওনার শারীরিক নিরাপত্তার ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এ কারণে আমরা চিকিৎসক হিসেবে বলেছিলাম, করোনা থেকে ওনাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিয়ে বের করার জন্য। কিন্তু তার হাতের আঙুল বেঁকে যাওয়ার কারণে হ্যান্ড গ্লাভস পরতে পারেননি।’

১১ মাস ধরে বেগম জিয়া বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে ২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলার রায়ে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। পরে হাইকোর্ট সেই সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।