হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০১৯ - ০৬:২৫:১৬ অপরাহ্ন

এবার অন্যদিন প্রবর্তিত ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’ পাচ্ছেন কথা বিশিষ্ট সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন ও নবীন লেখক সাদাত হোসাইন। আজ রোববার জাতীয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাকক্ষে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ১২ নভেম্বর বিকেলে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে। তাঁরা পুরস্কার হিসেবে পাবেন যথাক্রমে ৫ লাখ এবং ১ লাখ টাকা। এ ছাড়া দেওয়া হবে ক্রেস্ট, উত্তরীয় ও সার্টিফিকেট। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে মূলত কথাসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য একজন প্রবীণ ও একজন তরুণ কথাসাহিত্যিককে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

আজ শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টির সভাকক্ষে উপস্থিত ছিলেন পুরস্কারের জুরিবোর্ডের সদস্য সাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অন্যদিন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, নির্বাহী সম্পাদক আবদুল্লাহ নাসের প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় এবার ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ উপন্যাসের জন্য নবীন সাহিত্য শ্রেণিতে এই বছরের ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯’ পাচ্ছেন সাদাত হোসাইন। আর রাবেয়া খাতুন পাচ্ছেন বাংলা কথাসাহিত্যে তাঁর সামগ্রিক অবদানের জন্য। এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কারের উদ্যোক্তাদের পক্ষে বলা হয়, পঞ্চাশের দশকে কথাসাহিত্য হয়ে ওঠে মৃত্তিকাস্পর্শী ও জাতিসত্তার শিকড়সন্ধানী। ষাটের দশকে এ দেশের কথাসাহিত্যে সূচিত হয় নতুন স্রোত। আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক কল্লোল আর সংঘাতের পটে রচিত হয় গল্প-উপন্যাস। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে কথাসাহিত্যে লক্ষ করা যায় নতুন নতুন নিরীক্ষা আর বাঁক। এই পটভূমিতে ২০১৫ সালে প্রবর্তিত হয় ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’। আয়োজকেরা আশা করছেন, এই পুরস্কার এ দেশের প্রবীণ ও নবীন দুই শ্রেণির কথাসাহিত্যিকদেরই অনুপ্রাণিত করবে।

সংবাদ সম্মেলনে রাবেয়া খাতুন প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, ছয় দশক ধরে রাবেয়া খাতুন লিখছেন। মেধা ও পরিশ্রমের দরুন জীবন ঘষে আগুন জ্বেলেছেন, বাংলা সাহিত্যে রেখেছেন প্রোজ্জ্বল স্বাক্ষর। তাঁর কয়েকটি বই ধ্রুপদি সাহিত্যের মর্যাদা পেয়েছে। তাঁর লেখায় এ দেশের সর্ব বিত্ত মানুষের জীবন ফুটে উঠেছে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে। গল্প-উপন্যাসের বিষয়বস্তু হিসেবে এ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ ও নানা সম্প্রদায় বারবার ফিরে ফিরে এসেছে।’ প্রসঙ্গত, রাবেয়া খাতুনের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর, বিক্রমপুরের পাউসার গ্রামে, মামাবাড়িতে। বাবা মৌলভি মোহাম্মদ মুল্লক চাঁদ, মা হামিদা খাতুন। স্বামী চলচ্চিত্র পরিচালক ও সাংবাদিক ফজলুল হক। লেখালেখির পাশাপাশি একদা রাবেয়া খাতুন শিক্ষকতা করেছেন। সাংবাদিকতাও করেছেন।
রাবেয়া খাতুনের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে মধুমতী, মন এক শ্বেত কপোতী, অনন্ত অন্তেষা, সাহেববাজার, রাজারবাগ শালিমারবাগ, ফেরারি সূর্য; বায়ান্ন গলির এক গলি, মোহর আলী, নীল নিশীথ; বাগানের নাম মালনীছড়া ইত্যাদি। বাংলা সাহিত্যে তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রাবেয়া খাতুন পেয়েছেন বহু পুরস্কার। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো বাংলা একাডেমি পুরস্কার, কমর মুশতারী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কার, নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, শাপলা দোয়েল পুরস্কার, শের-ই-বাংলা স্বর্ণপদক, নাট্যসভা পুরস্কার, ঋষিজ সাহিত্য পদক, অতীশ দীপঙ্কর পুরস্কার, লায়লা সামাদ পুরস্কার, অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার, ইউরো শিশু সাহিত্য পুরস্কার ইত্যাদি।

তরুণ কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইনের লেখা নান্দনিক দ্যুতিতেও উদ্ভাসিত বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, সাদাত হোসাইনের কাছে জীবন ও গল্প একাকার।
সাদাত হোসাইনের জন্ম ১৯৮৪ সালের ২১ মে, মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার কয়ারিয়া গ্রামে। বাবা হেদায়েতউল্লাহ বেপারি। মা নাসরীন আলো। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। প্রথম গ্রন্থ ‘গল্পছবি’। এখানে তাঁর তোলা আলোকচিত্র এবং সেগুলো তোলার গল্প ঠাঁই পেয়েছে। তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘জানালার ওপাশে’। তবে তাঁকে পাঠকদের মণিকোঠায় ঠাঁই দেয় ‘আরশিনগর’ উপন্যাসটি। এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে লিখেছেন ‘অন্দরমহল’, ‘মানব জনম’, ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ এবং ‘নির্বাসন’। লিখেছেন ‘যেতে চাইলে যেও’, ‘আমি একদিন নিখোঁজ হব’ এবং ‘কাজল চোখের মেয়ে’-র মতো পাঠকপ্রিয় কবিতার বই। চলচ্চিত্রেও সাদাত গল্প বলে সমাদৃত হয়েছেন। এই সূত্রে তিনি লাভ করেছেন জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকার পুরস্কার।

২০১৫ সালে প্রবর্তিত হয় ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার। ২০১৫ সালে ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছিলেন যথাক্রমে শওকত আলী এবং সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম। ২০১৬ সালে পুরস্কৃত হয়েছিলেন হাসান আজিজুল হক এবং স্বকৃত নোমান। অন্যদিকে ২০১৭ সালে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছিল জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত এবং মোজাফ্ফর হোসেনের হাতে। গত বছর এই পুরস্কার পেয়েছেন প্রবীণ কথাশিল্পী রিজিয়া রহমান এবং নবীন সাহিত্য শ্রেণিতে ফাতিমা রুমি।