হায় তুরাগ, হায় সড়ক! চারদিকে হাহাকার

কয়েক দশকে উন্নত হয়নি এসব সড়ক

» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ০৮:০৪:৩৪ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর তুরাগের ৮০ শতাংশ রাস্তা মানুষ ও যান চলাচলের অনুপযোগী। সড়কগুলোতে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ দীর্ঘ দিনের সমস্যা। কিছু কিছু রাস্তা স্থানীয় উদ্যোগে খোয়া-বালু দিয়ে সাময়িকভাবে মেরামত করলেও একটু বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগের শেষ নেই এ অঞ্চলে। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি ও বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত ময়লা আবর্জনাযুক্ত পানি নামার কোন ব্যব¯’া না থাকায় এসব পানি এসে জমা হয় সরাসরি রাস্তার উপর। অন্যদিকে, পয়ঃনিস্কাশনের ড্রেনগুলোতে দীর্ঘদিনের আবর্জনা জমে থাকায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে তুরাগের সবকটি ড্রেন। ফলে পুরো তুরাগজুড়েই মানুষ ও যানচলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হ”েছ এ অঞ্চলে বসবাসরত হাজার হাজার মানুষকে। বর্তমানে তুরাগের এলাকাগুলো নিয়ে গঠিত হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩টি ওয়ার্ড। সেগুলো যথাক্রমে ৫২, ৫৩ ও ৫৪নং ওয়ার্ড। ওয়ার্ডগুলোতে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফরিদ আহমেদ, নাসির উদ্দিন ও যুবরাজ খান।

সম্প্রতি তুরাগ এলাকাজুড়ে ডিএনসিসির এসব এলাকার রাস্তাগুলো পরিদর্শন করে দেখা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ডের রাস্তাগুলোর অবস্থা একেবারেই বেহাল। বৃষ্টি তো দূরের কথা শুকনো মৌসুমেও চলাচল করতে চরম বিপাকে পড়তে হয় এখানকার বাসিন্দাদের। আর বৃষ্টি হলে তো এখানকার অবস্থা প্রকাশ করার মত নয়, এতটা দুরবস্থা।

বিশেষ করে, রানাভোলা, কামারপাড়া, ধওর, রাজাবাড়ি, ফুলবাড়িয়া, ধরঙ্গারটেক, নলভোগ, পাকুরিয়া, আহালিয়া, দলিপাড়া, বাউনিয়া, উলুদাহ, বাদালদিসহ তুরাগের এমন কোন এলাকা নেই যেখানে নির্বিঘ্নে মানুষ ও যানচলাচল করতে পারে।
এসব এলাকায় যাত্রী পরিবহনে একমাত্র ব্যবস্থা ব্যাটারি চালিত নিষিদ্ধ অটোরিক্সা। মূলত রাস্তাগুলোতে যান চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় এখানে যাত্রী পরিবহনে বিশেষ কোন উদ্যোগ নিতে পারছে না পরিবহন সেবায় নিয়োজিত মালিক ও শ্রমিকরা। ফলে নিষিদ্ধ পরিবহনেই চলাচল করতে হয় তুরাগের বাসিন্দাদের।

এমতাবস্থায়, তুরাগের বিশাল জনগোষ্ঠীর সড়ক পথে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে আদৌ কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরা জানান, ‘ইতিমধ্যে উত্তর সিটির নগর পিতা আমাদের মেয়র মহোদয় তুরাগের ওয়ার্ডগুলো পরিদর্শন করেছেন। তিনি নিজ চোখে এখানকার রাস্তাঘাটগুলো দেখেছেন এবং এগুলো সংস্কারে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।’

তবে, সড়ক পথে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে চায় পঁয়ত্রিশটি এলাকা নিয়ে গঠিত তুরাগের কয়েক লক্ষ মানুষ। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদের দাবী, ডিএনসিসি’র ওয়ার্ড হওয়া সত্বেও যদি এ অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হয় তাহলে এখানে জীবন যাত্রার মান কখনোই উন্নত হবে না।