হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহাসিক নিদর্শন সম্রাট শাজাহানের সেনা ছাউনি


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২১ - ১২:৩৩:৫৭ পূর্বাহ্ন

মোঃ মিজানুর রহমান মিলন ,শাজাহানপুর (বগুড়া): বগুড়ার শাজাহানপুরে সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহাসিক নিদর্শন সম্রাট শাজাহানের সেনাছাউনি । ঘটনাটি ষোড়শ শতাব্দীর। ডাকাতি করতে রাতে মাছ ধরার মাঝির বেশে আসতো জলদস্যুরা। তারপর এই অঞ্চলে চালাতো লুটতরাজ। প্রায়ই প্রতি রাতেই তারা নদীপথে এসে ওই অঞ্চলে ডাকাতি করতো। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে জলদস্যুদের কথা জানতে পারেন সম্রাট শাজাহান। তিনি বিষয়টি জানার পর পরই জলদস্যুদের ধরতে সেখানে সেনা ছাউনি স্থাপনের নির্দেশ দেন। পাঠিয়ে দেন একটি সেনাদল। জাতীয় তথ্য বাতায়ন সূত্রে জানা যায়, ষোড়শ শতাব্দীতে করোতোয়া নদী পথে মাঝে মাঝে মধ্যরাতে মাছ ধরা মাঝির বেশে জলদস্যুরা আসতো। এ অঞ্চলে লুটতরাজ করতো। ফলে এই জনপদের নাম হয়ে পড়ে মাঝিড়া। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সুবে-বাংলা  এ সমস্যার কথা পত্রযোগে আগ্রাতে সম্রাট শাজাহান কে অবহিত করলেন।সম্রাট শাজাহান তাৎক্ষণিকভাবে সেনা ছাউনির স্থাপনের জন্য এখানে একটি সেনাদল প্রেরণ করেন।

মোঘল সেনাদল এই উপজেলা সদরের ৭০০ গজ উত্তরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পূর্ব পাশে ২৫ থেকে ৩০ ফুট মাটি ভরাট করে স্থানটি উঁচু ঢিবি হতে দিগ মত বিস্তৃত অঞ্চলে জলদস্যুদের যেকোন আনাগোনা বা গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়। ধার্মিক সম্রাটের বদান্যতায় এই জনপদের মানুষ সন্ত্রাস আর দস্যুতা হতে পরিত্রাণ পায়। মোঘল সম্রাটের নাম অনুসারেই পুরো এলাকার নাম হয় শাজাহান বা সাজাপুর। ব্রিটিশ আমল থেকে সকল রেকর্ড পত্রে মৌজা টির সাজাপুর নাম বহাল রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ উপজেলার নাম হয় শাজাহানপুর উপজেলা। বগুড়া শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিনে শাজাহানপুর উপজেলা। এই উপজেলার সাজাপুর গ্রামে সম্রাট শাজাহানের সেনাছাউনি অবস্থিত। শাজাহানপুর উপজেলা বাসীর প্রাণের দাবি প্রাচীন নিদর্শন সম্বলিত এই ঐতিহাসিক স্থানটি যেন সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক সোহরাব হোসেন ছান্নু বলেন, সম্রাট শাজাহানের আমলে এই ঢিলা তৈরি করা হয়েছিলো। এ কারণে জায়গাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। জায়গাটি রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা দরকার। জায়গাটির ছবি ও ঐতিহাসিক বর্ণনা সরকারি ওয়েবসাইটে দেওয়া রয়েছে। তবে জায়গাটি সম্পর্কে খুব বেশী জানেন না শাজাহানপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আশিক খান ।তিনি বলেন, ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান রক্ষণাবেক্ষণে সরকার সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।