হাত না থাকা সত্ত্বেও মানিকের অজুহাতহীন জেএসসি পরীক্ষা


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৯ - ০৭:৫৪:১৩ অপরাহ্ন

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই মানিক রহমানের। তবুও থেমে নেই সে। অন্য সব শিক্ষার্থীদের মতো সেও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে। তবে পরীক্ষার খাতায় সে লিখছে ডান পা দিয়ে। অবাক করা ব্যাপার হলো পা দিয়ে লেখাগুলোও তার সুন্দর ও স্বাভাবিক।

শারীরিক প্রতিবন্ধী মানিক রহমানের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামে। তার বাবা মিজানুর রহমান একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। বাবা-মায়ের বড় ছেলে মানিক রহমান। জন্মের পর থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সে বড় হয়ে উঠছে। তার দু’হাত না থাকলেও পড়ালেখা থেকে কখনও পিছিয়ে পড়েনি সে।

তার বাবা জানান, শুধু পা দিয়ে লিখে জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন মানিক তা নয়, সে সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলে-মেয়েদের মতোই পা দিয়ে মোবাইলে কথা বলে, ল্যাপটপও চালাতে পারে। মানিক ২০১৬ সালে জছিমিঞা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে এ-প্লাসসহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।

ফুলবাড়ী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় (পাইলট) ও ফুলবাড়ী (কুড়ি)-৬৬৮নং কেন্দ্রের ৬নং কক্ষে সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তার রোল নং ৬১৮০১৩।

মানিক ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী। তার বাবা মিজানুর রহমান জানান, আমার দুই ছেলে। মানিক বড়। ছোট ছেলে মাহীম ২য় শ্রেণিতে পড়ে। বড় ছেলে মানিক প্রতিবন্ধী এটা আমরা মনে করি না। জন্ম থেকেই তার দুটো হাত না থাকলেও ছোট থেকে আমার পরিবার ও আমি তাকে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছি।

এজন্য আমার স্ত্রী মরিয়ম বেগমের অবদানটাই অনেক বেশি। সমাজে অনেক সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলে-মেয়েদের চেয়েও মানিক পিএসসিতে ভালো রেজাল্ট করেছে। সবাই আমার ছেলেটার জন্য দোয়া করবেন। সে যেন সুস্থ সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারে এবং তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।

ফুলবাড়ী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের (পাইলট) কেন্দ্র সচিব কানাই লাল সেন বলেন, মানিক রহমান প্রতিবন্ধী হয়েও অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই প্রতিটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। বেঞ্চে বসে পরীক্ষা দিতে অসুবিধা হওয়ায় তার জন্য চৌকির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বাড়তি ৩০ মিনিট দেয়াসহ সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছি।

 

সূত্রঃ জাগো নিউজ