হাতে আছে ২ ম্যাচ, তিন টিকিটের লড়াইয়ে ছয়টি দল


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২০ - ১১:২০:৩২ পূর্বাহ্ন

রোববার (২৫ অক্টোবর) ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের এবারের আসরের প্লে-অফ পর্বের ম্যাচগুলোর তারিখ ও ভেন্যু আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করেছে টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটি। কিন্তু আসরের ৪৮টি ম্যাচ শেষ হয়ে গেলেও, এখনও জানা যায়নি কোন চারটি দল খেলবে সেরা চারের প্লে-অফ পর্বে।

প্রত্যেকটি দল খেলে ফেলেছে ১২টি করে ম্যাচ, তাদের হাতে রয়েছে শেষ দুইটি ম্যাচ। এর মধ্যে একমাত্র বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ানস রয়েছে সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থানে আর বাদ পড়ে গেছে চেন্নাই সুপার কিংস। এছাড়া বাকি ছয় দলের সবারই এখনও রয়েছে প্লে-অফ খেলার সম্ভাবনা।

সব দলের ১২ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলের অবস্থা দেখে নেয়া যাক আগে
১/ মুম্বাই ইন্ডিয়ানস – ১২ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট (+১.১৮৬)
২/ রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু – ১২ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট (+০.‌০৪৮)
৩/ দিল্লি ক্যাপিট্যালস – ১২ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট (+০.০৩)
৪/ কিংস এলেভেন পাঞ্জাব – ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট (-০.০৪৯)
৫/ কলকাতা নাইট রাইডার্স – ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট (-০.৪৭৯)
৬/ সানরাইজার্স হায়দরাবাদ – ১২ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট (+০.৩৯৬)
৭/ রাজস্থান রয়্যালস – ১২ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট (-০.৫০৫)
৮/ চেন্নাই সুপার কিংস – ১২ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট (-০.৬০২)

দেখা যাচ্ছে, ১৬ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে শীর্ষে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস, তাদের প্লে-অফ প্রায় নিশ্চিতই বলা চলে। এছাড়া সমান ১৪ পয়েন্ট করে রয়েছে দুই দলের, ১২ পয়েন্ট করে রয়েছে দুই দলের ও ১০ পয়েন্ট করে রয়েছে দুই দলের। এ ছয় দলেরই আবার খোলা রয়েছে সেরা চারে যাওয়ার দরজা। সেটি কীভাবে তা নিয়েই আলোচনা এ প্রতিবেদনে

কলকাতা নাইট রাইডার্স
১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট পাওয়া কলকাতার পরবর্তী দুই ম্যাচ চেন্নাই ও রাজস্থানের বিপক্ষে। দুইটি ম্যাচই জিতলে তাদের পয়েন্ট হয়ে যাবে ১৬। যা কি না তাদেরকে প্লে-অফে তুলে দেয়ার জন্য যথেষ্ঠ। তবে সমস্যা হলো, পাঁচটি দলের পয়েন্ট হতে পারে সমান ১৬। সেক্ষেত্রে বিবেচনায় আসবে নেট রানরেটের। যেখানে সবচেয়ে কম -০.৪৭৯ রয়েছে কলকাতার। তাই বাকি থাকা দুই ম্যাচে নেট রানরেটেই মনোযোগ দিতে হবে তাদের।

মুম্বাই ইন্ডিয়ানস
শীর্ষে থাকা মুম্বাইয়ের শেষ দুই ম্যাচ দিল্লি ও হায়দরাবাদের বিপক্ষে। তাদের নেট রানরেট (১.১৮৬) দুর্দান্ত হওয়ায় দুই ম্যাচ হেরে গেলেও প্লে-অফ খেলা নিয়ে খুব একটা ভাবতে হবে না তাদের। বলা চলে, সেরা চারের টিকিট নিশ্চিতই হয়ে গেছে মুম্বাইয়ের। আর পরের দুই ম্যাচ জিতে গেলে শীর্ষে থেকেই প্লে-অফ পর্বের ম্যাচ খেলবে আইপিএলের চারবারের চ্যাম্পিয়নরা।

রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু
দারুণ মৌসুম কাটাতে থাকা ব্যাঙ্গালুরু শেষ দুই ম্যাচ খেলবে হায়দরাবাদ ও দিল্লির বিপক্ষে, তাদের নেট রানরেট ০.০৪৮। শেষ দুই ম্যাচের একটি জিতলেই প্লে-অফ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের। এমনকি দুই ম্যাচ হেরে গেলেও, অন্যান্য দলগুলোর ম্যাচের ফলাফল পক্ষে আসলে প্লে-অফ খেলতে পারবে তারা।

দিল্লি ক্যাপিট্যালস
টেবিলের তিন নম্বরে থাকা দিল্লির শেষ দুই ম্যাচে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ শীর্ষস্থানীয় দুই দল মুম্বাই ও ব্যাঙ্গালুরু। এ দুই ম্যাচের দুইটি জিতলে কোনো সমীকরণ ছাড়াই প্লে-অফে চলে যাবে দিল্লি। একটি জিতলে প্রায় নিশ্চিতই থাকবে প্লে-অফ। আর দুইটি ম্যাচই বড় ব্যবধানে হারলে বাদ পড়ে যাওয়ার যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে তাদের।

কিংস এলেভেন পাঞ্জাব
আসরের শুরুর ম্যাচগুলোতে হোঁচট খেলেও, টানা পাঁচ জয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পাঞ্জাব। এখন ১২ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট। শেষ দুই ম্যাচ খেলতে হবে রাজস্থান ও চেন্নাইয়ের বিপক্ষে। এ দুই ম্যাচ ভালোভাবে জিতলে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি প্লে-অফ খেলার সুযোগ থাকছে তাদের সামনে। কিন্তু একটি ম্যাচও হেরে গেলে কঠিন সমীকরণের সামনে পড়ে যাবে প্রীতি জিনতার দল।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ
হায়দরাবাদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। প্রথম ১২ ম্যাচে মাত্র ১০ পয়েন্ট পাওয়ায় শেষ দুই ম্যাচ (প্রতিপক্ষ ব্যাঙ্গালুরু ও মুম্বাইন) জিততেই হবে তাদের। একইসঙ্গে দোয়া করতে হবে যেন, ওপরের পাঁচ দলের অন্তত দুইটি যেন ১৬ পয়েন্ট না পায়। কেননা প্রথম পাঁচ দলের চারটিও যদি ১৬ পয়েন্ট পায়, তাহলে ১৪ পয়েন্ট পাওয়া হায়দরাবাদকে বিদায় নিতে হবে টুর্নামেন্ট থেকে।

রাজস্থান রয়্যালস
প্লে-অফের দৌড়ে থাকা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রাজস্থান। কেননা একে তো তাদের পয়েন্ট মাত্র ১০, অন্যদিকে নেট রানরেটও বেশ নাজুক (-০.৫০৫)। তবে তাদের শেষ দুই ম্যাচ পাঞ্জাব ও কলকাতার বিপক্ষে হওয়া একটা সুবিধাজনক বিষয়ই বটে। রাজস্থান পরের দুই ম্যাচ জেতা মানে পাঞ্জাব ও কলকাতা তাদের একটি করে ম্যাচ হেরে যাওয়া। আর এমনটা হলে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে একটা সূক্ষ্ম সুযোগ তৈরি হতেও পারে রাজস্থানের। তবে একটি ম্যাচও হেরে গেলে বাদ পড়ে যাবে আইপিএলের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নরা।