বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন

স্বপ্ন ছিল নাসায় কাজ করার

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১ জুন, ২০২০
  • ০ Time View

মাহজাবীন হক। আগামী ৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় (National Aeronautics and Space Administration) স্পেস সিস্টেম সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেবেন তিনি। এর আগে শিক্ষানবিশ ডাটা অ্যানালিস্ট এবং মিশন কন্ট্রোল সেন্টারে শিক্ষানবিশ সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন নাসায়। ছোটবেলা কেটেছে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কদমরসুল গ্রামে। মঙ্গলবার রাতে মেসেঞ্জারে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেছেন, সিলেটের ছোট্ট মেয়ে থেকে নাসার স্পেস সিস্টেম সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়ার গল্প। কথোপকথনে ছিলেন উত্তরা নিউজ এর নিয়াজ।

উত্তরা নিউজ : নাসায় যোগ দিচ্ছেন, আপনাকে অভিনন্দন।

মাহজাবীন হক : আপনাকেও।

উত্তরা নিউজ : নাসায় কাজ করবেন- স্বপ্নের শুরুর গল্প কীভাবে?

মাহজাবীন হক : আমার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল নাসায় কাজ করার। আমি তখন প্রাইমারি স্কুলে পড়ি। টেলিভিশন দেখতাম। একদিন টেলিভিশনে একটি অনুষ্ঠান দেখি। এরপর থেকেই নাসায় কাজ করার স্বপ্ন তৈরি হয়। আমার চাচিকে প্রায়ই আমি এ কথা বলতাম।

উত্তরা নিউজ : আমেরিকায় গেলেন কখন?

মাহজাবীন হক : অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সিলেটেই লেখাপড়া করেছি। ২০০৯ সালে ডিভি নিয়ে আমেরিকায় যাই। ওখানে গিয়ে উইলিয়াম কলেন ব্রায়ান্ট হাইস্কুলে ভর্তি হই। এরপর মিশিগানে যাই ২০১১ সালে। সেখানে হ্যামট্র্যাক হাইস্কুলে পড়াশোনা শুরু করি। ২০১৪ সালে মিশিগানের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে অ্যাডমিশন নেই। পাশাপাশি কিছু কাজও করতাম।

উত্তরা নিউজ : কী কী কাজ করতেন?

মাহজাবীন হক : আপনি লিটল সিজারস এর নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন।

উত্তরা নিউজ : জী, বিখ্যাত পিৎজা কোম্পানি।

মাহজাবীন হক: হ্যাঁ, প্রথমে সেখানে লিটল সিজারস করপোরেটের প্রধান কার্যালয়ে শেয়ারপয়েন্ট ডেভেলপার হিসেবে কাজ শুরু করি। পরে দুই দফায় শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করি নাসায়। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত নাসার শিক্ষানবিশ ডাটা অ্যানালিস্ট ছিলাম। আর এবার (২০১৯ সাল) জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত নাসার মিশন কন্ট্রোল সেন্টারে শিক্ষানবিশ সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছি। তখন থেকেই ভাবতাম আরো বড় হতে হবে। কখনো হাল ছাড়িনি।

উত্তরা নিউজ : নাসায় শিক্ষানবিশ কাজ করেছেন, সে সময়ের অভিজ্ঞতা যদি কিছু বলেন…

মাহজাবীন হক: শিক্ষানবিশদের এই দলে অনেকেই ছিলাম। সে সময় নাসার বিভিন্ন অনুষ্ঠান হতো। আমরা অনেক আনন্দ করতাম। একটা অন্যরকম সময় কেটেছে। নাসার কর্মকর্তারা আমাকে অনুপ্রেরণা দিতেন। আমার কাজকে অ্যাপ্রোশিয়েট করতেন। আমাকে ওরা বলত অলরাউন্ডার। এ বিষয়টি নিয়ে আমি গর্ব করি। অসাধারণ অনুভূতি।

উত্তরা নিউজ : স্পেস সিস্টেম সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে নাসায় যোগ দিচ্ছেন কবে?

মাহজাবীন হক: আগামী ৭ অক্টোবর। শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার সময় তারা আমার নানা কর্মকাণ্ড ও আমাকে পছন্দ করেছে। আর এবার অনেকেই ছিলেন প্রার্থী। কিন্তু আমার কাজ দেখে হ্যাপি। ওরা শুধু একাডেমিক রেজাল্ট চায় না, পাশাপাশি অন্যান্য কি কি যোগ্যতা রয়েছে।

উত্তরা নিউজ : আপনি বলছেন, নাসায় কাজ করতে হলে শুধু একাডেমিক রেজাল্ট নয়, অন্যান্য যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেয়?

মাহজাবীন হক: নাসা যেটা চায় তা হলো অলরাউন্ডার। আপনার খুব ভালো রেজাল্ট থাকতে হবে তা নয়। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে যুক্ত হতে হবে। থাকতে হবে নেতৃত্ব গুণ। যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনি সবকিছু সামলে নিতে পারবেন- এরকম যোগ্যতা চায় নাসা।

উত্তরা নিউজ : আপনি নানা সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন, এ নিয়ে যদি কিছু বলেন?

মাহজাবীন হক:  আমি ছোটবেলা থেকে নাচ, গান করতাম। ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন আছে। ওটার আমি সভাপতি ছিলাম। এছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেই নিয়মিত।

উত্তরা নিউজ : আপনি জানেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কথা। এখন আপনি নাসায় যুক্ত হচ্ছেন। এসব নিয়ে এ প্রজন্ম মহাকাশ সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছে। এ সময়ের শিক্ষার্থীদের নিশ্চয় সেরকম স্বপ্ন তৈরি হচ্ছে নাসায় কাজ করার কিংবা মহাকাশ নিয়ে গবেষণা করার। আপনার পরামর্শ…।

মাহজাবীন হক: হ্যাঁ, এ বিষয়টি অনেক গর্বের। আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা বিজ্ঞান, তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। একসময় প্রযুক্তি, মহাকাশ- এসব বিষয়ে আমাদের দেশে তেমন আলোচনা ছিল না। এখন আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমি সব সময় বলি, ‘dreams do come true if you work hard and stay true to yourself’। স্বপ্ন কখনো বৃথা যায় না। আপনি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করুন, একদিন সাফল্য আসবেই। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি আপনাকে অন্যান্য বিষয়ে স্কিল ডেভেলপ করতে হবে। শুধু পড়াশোনায় আপনি অনেক ভালো কিন্তু অন্যান্য বিষয়েও জ্ঞান রাখতে হবে।

উত্তরা নিউজ : আপনার পরিবার সম্পর্কে জানতে চাই…

মাহজাবীন হক:  আমরা দুই ভাই-বোন। বাবা সৈয়দ এনামুল হক পূবালী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার। মা ফেরদৌসী চৌধুরী। ছোট ভাই সৈয়দ সামিউল হক ইউএস আর্মিতে কাজ করে। মা আমাদের সঙ্গে মিশিগানে থাকেন।

উত্তরা নিউজ : আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা?

মাহজাবীন হক: আমার ছোটবেলা থেকেই নাসার হয়ে কাজ করার স্বপ্ন ছিল, আমি লক্ষ্যটি অর্জন করেছি। আমি চাই আরো বড় কিছু করতে। মাই অনলি ড্রিম নাও ইজ টু কিপ ডুয়িং হোয়াট মেকস মি হ‌্যাপি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © uttaranews24
themesba-lates1749691102