স্ত্রী রেখে বিদেশ গমন : ইসলাম কী বলে?


» Md. Neamul Hasan Neaz | | সর্বশেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ১০:০৩:২১ পূর্বাহ্ন

বিয়ের পরপরই স্ত্রী রেখে অনেকে বিদেশে পাড়ি জমান অর্থোপার্জনের লক্ষ্যে। বছরের পর বছর কাটিয়ে দেন প্রবাসে। এর ফলে সমাজে নানান অসঙ্গতির সৃষ্টি হচ্ছে। পরকীয়া, ব্যভিচারসহ নানান অপরাধ মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এভাবে সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে রেখে বিদেশে গমনের ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা জেনে নেয়া যাক।

প্রথমত: স্ত্রীর জৈবিক চাহিদা পূরণ করা স্বামীর অন্যতম একটি কর্তব্য। ভাত, কাপড়ের পাশাপাশি এটিও তার মৌলিক অধিকার। আর সামাজিক শৃঙ্খলার জন্যও এটি অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বিয়ের পর বিদেশ গমনকারীরা স্ত্রীর এ অধিকার পূরণে ব্যর্থ হচ্ছেন।

দ্বিতীয়ত: ব্যাপারটা অনেকাংশেই নির্ভর করে স্বামী-স্ত্রীর চাহিদার উপর। স্বামী ছাড়া একজন স্ত্রী কতদিন ধৈর্যধারণ করতে পারেন, এটা তার সহজাত ব্যাপার। তারপরও এ ব্যাপারে ইসলাম সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

খলিফাতুল মুসলিমিন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি ফরমান স্মরণীয়। একদা তিনি এক বিরহিণী নারীকে এই কবিতা পাঠ করতে শুনলেন—

تَطَاوَلَ هَذَا اللَّيْلُ وَاسْوَدَّ جَانِبُهُ
وَأَرَّقَنِى أَنْ لاَ حَبِيبٌ أُلاَعِبُهُ
فَوَاللَّهِ لَوْلاَ اللَّهُ إِنِّى أُرَاقِبُهُ
تَحَرَّكَ مِنْ هَذَا السَّرِيرِ جَوَانِبُهُ

বীভৎস এ রজনী হয়েছে আরও প্রলম্বিত
নাহি আজ প্রেমাস্পদ মোর আকাঙ্ক্ষিত।
আল্লাহর ভয় যদি না থাকতো এ অন্তরে
পালঙ্ক মোর কলঙ্কিত হতো প্রণয়ের ভারে।

এরপর তিনি তার কন্যা উম্মুল মুমিনিন হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করলেন,

كَمْ أَكْثَرُ مَا تَصْبِرُ الْمَرْأَةُ عَنْ زَوْجِهَا؟
‘মেয়েলোক স্বামী ছাড়া সর্বোচ্চ কতদিন পর্যন্ত ধৈর্য ধরে থাকতে পারে?’

হাফসা বললেন, سِتَّةَ أَوْ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ ‘চার মাস অথবা ছমাস।’

তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন,

لاَ أَحْبِسُ الْجَيْشَ أَكْثَرَ مِنْ هَذَا
‘মুজাহিদদের মধ্যে কাউকে আমি এ সময়ের অধিক যুদ্ধে আটকে রাখব না।’

তিনি খলীফাতুল মুসলিমিন হিসেবে সব সেনাপতিকে লিখে পাঠালেন। উপরোক্ত সময়ের অধিক কোনো বিবাহিত মুজাহিদই যেন তার স্ত্রী-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন না থাকে। [ইবনু কাসির : ১/৬০৪, বাইহাকি : ১৮৩০৭]