সৌদি আরব থেকে খালি হাতে ফিরলেন ২১৫ বাংলাদেশী


» উত্তরা নিউজ ডেস্ক জি.এম.টি | | সর্বশেষ আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৯ - ১১:৩১:২০ পূর্বাহ্ন

গেট পার হতেই এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হলো তার। ভালো করে কথা বলতেও পারছেন না। অনেকটা কেঁপে কেঁপে বললেন, নাম ইলিয়াস আলী। বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জে। স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ের সংসার। সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসারে সুখ আনতে বছর দুয়েক আগে সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। প্রায় চার লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরব গিয়েছিলেন।

এই বয়সে কেন বিদেশ? প্রশ্ন ছিল ইলিয়াস আলীর কাছে। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় বললেন, আশা ছিল ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করব। এজন্য তো টাকা লাগবে? সংসারের অভাব অনটন দূর হবে। তাই বিদেশ গিয়েছিলাম। কিন্তু সে স্বপ্ন তো পূরণ হলো না। ঋণ করে বিদেশ গেলাম। দালাল বলেছিল, ভালো বেতনে কাজ দেবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তা পাইনি। এখন খালি হাতে দেশে ফিরতে হলো। কীভাবে ঋণ ফেরত দেব? ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া কীভাবে চালাব?

কান্নায় ভেঙে পড়েন পঞ্চাশোর্ধ ইলিয়াস আলী। প্রবাস ফেরত বাংলাদেশী, যারা নানা সমস্যায় দেশে ফিরছেন প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও খাবারের প্যাকেট দিচ্ছিলেন ব্রাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা। একটি প্যাকেট ইলিয়াস আলীর হাতেও তুলে দিলেন একজন। এই ফাঁকে কথা হচ্ছিল তার সাথে। সৌদি আরবে যাওয়া, সেখান ফেরত আসাসহ নানা বিষয়ে।

ইলিয়াস আলী জানান, সৌদি আরবে গিয়ে কাজ পাইনি। যে কোম্পানিতে কাজ করার কথা ছিল তাদের দেখা মেলেনি। ফলে এখানে সেখানে কাজ করেছি। আকামা হয়নি। আকামার জন্য দুই দফায় টাকা দিয়েছি ২১ হাজার রিয়াল। এরইমধ্যে মাস ছয়েক আগে ডান পাটা অবশ হয়ে গেল। চলাফেরা করতে পারি না। যে জায়গায় কাজ করি, সেই কফিল (নিয়োগকর্তা) বললেন, আকামা করতে ২৭ হাজার রিয়াল লাগবে। এই পা নিয়ে আমি এখানে থেকে কী করব। পরে ধরা দেই। এক সপ্তাহ জেলে ছিলাম। এরপর দেশে এলাম। কথাগুলো বলার সময় চোখে পানি চলে আসে তার। চোখ মুছতে মুছতে তিনি আরো বলেন, যা কিছু রোজগার হয়েছে, দেশে পাঠিয়েছি। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া আর সংসারের খরচের জন্য।