সীমান্তে একমাসে ১১ হত্যা


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ০৮:০৩:২১ অপরাহ্ন

গত ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ (বুধবার) থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সকাল পর্যন্ত দেশের সীমান্ত এলাকায় ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দফতরে বাহিনীর পরিচালক (পরিকল্পনা) লে. ক. সৈয়দ আশিকুর রহমান এ তথ্য জানান।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যাকা-ে যা সাধারণভাবে বোঝা যায়, সীমান্তের সন্নিকটে কিন্তু তা নয়। অনেক সময় ভারতীয় সীমান্তের ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটার ভেতরে কোনো নিরীহ মানুষ ঢুকে যায়, আবার কেউ হয়তো গরু আনার জন্যই যায় সে সময় আমাদের নির্দিষ্ট এলাকার বাইরেও এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ফলে ওপাশ থেকে মৃতদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করার সময় আমরা তা জানতে পারি। আর এই ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের ক্ষেত্রে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসফ ও বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির মধ্যে এ বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে। মহাপরিচালক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলন সীমান্ত হত্যা নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা আবারও আলোচনা করছি। হত্যাকা-ের ঘটনায় আমরা নিয়মিত প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্তে চোরাকারবারি অনেকে চিহ্নিত, অনেকে চিহ্নিত নয়। তবে যারা সীমান্তে এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত আছে আমরা তাদের নজরদারিতে রেখেছি। তারা যখনই পাচারের চেষ্টা করেছে তখনই তাদের গ্রেফতার করেছি। গণমাধ্যমে তা জানানো হচ্ছে। আমরা সীমান্ত এলাকার মানুষদের সচেতন করছি, যাতে ভুল করে বা অন্য কোনো কারণে তারা যেন সীমান্ত এলাকা অতিক্রম না করে। এছাড়াও আমরা স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক উপায়েও কাজ চলছে।’

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গত জানুয়ারিতে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ অন্য স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ৯৭ কোটি ১৮ লাখ তিন হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। এছাড়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৭২ জন চোরাচালানিকে এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও ২ জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

জব্দকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে সাত লাখ ২৩ হাজার ৬৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪০ হাজার ৭৪২ বোতল ফেনসিডিল, ১১ হাজার ৭৯২ বোতল বিদেশি মদ, ২৯৮ লিটার বাংলা মদ, ৫৪৯ ক্যান বিয়ার, ৭৬২ কেজি গাঁজা, ৬৬৫ গ্রাাম হেরোইন, চার হাজার চারটি ইনজেকশন এবং দুই হাজার ৪৩১টি সেনেগ্রা ট্যাবলেট।

জব্দকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ১৪ কেজি ৪৮২ গ্রাম সোনা, পাঁচ হাজার ৮২৮টি ইমিটেশন গহনা, ৩৩ হাজার কসমেটিক সামগ্রী, ১৫০০টি শাড়ি, ২৭ হাজার শার্ট ও থ্রি-পিস, কাঠ, চা পাতা, পাথরের মূর্তি, ২১টি ট্রাক, ছয়টি পিকআপ, একটি প্রাইভেটকার, ১১টি অটোরিকশা, দুটি পিস্তল, চারটি বন্দুক, দুটি ম্যাগজিন, ১০ রাউন্ড গুলি এবং ৫৪টি মোটরসাইকেল।

আরেক প্রশ্নের জবাবে পরিচালক আশিকুর রহমান জানান, করোনা ভাইরাস বিষয়ে সীমান্তে কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে বিজিবি অন্যান্য সংস্থাকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।