সিটি নির্বাচনে জিততে সর্বশক্তি নিয়োগ করবে আ.লীগ: তোফায়েল


» Md. Neamul Hasan Neaz | | সর্বশেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২০ - ১০:১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে আওয়ামী লীগ গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। ৩০ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তার সমস্ত শক্তি নিয়োগ করে বিজয়ী হওয়ার চেষ্টা করবে। এ জন্য ১১ জানুয়ারি থেকে উত্তরের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে গিয়ে উঠান বৈঠক করবেন এবং ঘরে ঘরে ভোট চাইবেন।

আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক তোফায়েল আতিকুল ইসলামের সমর্থনে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সঙ্গে গণমাধ্যমের পরিচিতি অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন । আজ সোমবার বনানীর নির্বাচনী কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান হয়।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি উত্তরে মওদুদ আহমদ এবং দক্ষিণে খন্দকার মোশাররফকে নির্বাচনী দায়িত্ব দিয়েছে। মওদুদ আহমেদ সাংসদ না হয়েও সভা, বক্তৃতা করতে পারলে আমরা সাংসদ হয়েও পারব না—এমন হতে পারে না। তাঁরা নির্বাচনে পরাজিত হয়ে সাংসদ হতে পারেননি। তাঁরা সব সময় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলেন। তাঁরা কাজ করতে পারলে আমরা পারব না—এমন হতে পারে না। এ কেমন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড? এসব বিষয় নিয়ে আমরা যারা দল থেকে উত্তরের নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারা আগামীকাল নির্বাচন কমিশনে যাব।’

আইনগতভাবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম রক্ষা করে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাজ করবেন বলে সংবাদকর্মীদের জানান তোফায়েল। তিনি বলেন, ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ঢাকার মানুষ দেখবে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে ১ হাজার ৪০০ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের লোকবল থাকবে বলে জানান তিনি।

মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ৯ তারিখের পর তিনিই প্রার্থী। তিনি উত্তরায় একটি দোয়া মাহফিল করে নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করেছেন।

ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ইভিএম সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের ফলাফল। ডিজিটাল দেশ হিসেবে আমরা অনেক এগিয়ে গিয়েছি। বিদেশিরা বাংলাদেশকে নিয়ে প্রশংসা করে। তবু ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। তারা স্বাধীন। তারা যা ভালো মনে করে, তা–ই হবে।’

তোফায়েল বলেন, ‘বিএনপিকে বলব, তারা যেন অহেতুক মিথ্যা প্রচার করে নির্বাচনকে কলঙ্কিত না করে। দলটি নির্বাচনে নেমেছে হতাশা নিয়ে। তারা যখন বলে নির্বাচনে আমাদের জিততে দেবে না, আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। এসব কথার মধ্য দিয়ে তারা পরাজয় বরণ করে নিয়েছে।’ দলটির নাম বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি না হয়ে বাংলাদেশ নেগেটিভ পার্টি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তোফায়েল আহমেদ।

অনুষ্ঠানে মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত নয় মাসের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। আমি সবার দোয়া চাই।’

সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এর জন্ম ক্যান্টনমেন্টে। তারা যে গণতন্ত্রের কথা বলে, তা সামরিক গণতন্ত্র। এখন তাদের কাছ থেকে আমাদের গণতন্ত্রের কথা শুনতে হয়।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, প্রচার ও তথ্য সম্পাদক আবদুস সোবহান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ চৌধুরী প্রমুখ।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগ গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে তোফায়েল আহমেদ ছাড়া আরও আছেন সাংসদ মুহাম্মদ ফারুক খান, মাহাবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, হাসান মাহমুদ, আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, আবদুস সোবহান, অসীম কুমার উকিল, খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ ২১ জন এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সব সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা।