উত্তরা নিউজ উত্তরা নিউজ
অনলাইন রিপোর্ট


সফল উদ্যোক্তা হতে হলে






তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে কালের কণ্ঠের অনলাইনে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

বিশ্ববিখ্যাত কম্পানি আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা’র একটি উক্তি দিয়ে শুরু করছি। তিনি বলেছিলেন, কোনো চাকরি প্রার্থীকে যদি প্রশ্ন করা হয়, তোমার সামনে দুটি বিকল্প আছে। একদিকে চাকরি অপরদিকে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ। তুমি কোনটিকে বেছে নেবে? চাকরি প্রার্থী বলবে, চাকরি। সে কখনোই উদ্যোক্তা হওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইবে না।

আমাদের দেশে এমন কেউ কি আছে যে জ্যাক মা’র এই উক্তি মিথ্যা প্রমাণ করবে? যদি করতে পারে তাহলে সে জ্যাক মা’র মতো হাজারো চাকরি প্রার্থীকে চাকরি দিতে পারবে। চাকরির জন্য জুতার তলা ক্ষয় করতে হবে না।

আমাদের দেশের তরুণরা কেবল একটি চাকরির পেছনে ছোটে। ওটাই হয়ে ওঠে তাদের স্বপ্ন, ধ্যানজ্ঞান। তাই চাকরিটি তাদের কাছে হয়ে ওঠে সোনার হরিণ। সে ধরা দেয় না। সে ছলনা করে। আর স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ক্ষতবিক্ষত হয় আমাদের তরুণ সমাজ।

আমাদের কাছে একটি জরিপ প্রতিবেদন আছে। বর্তমান সময়ের তরুণদের স্বপ্ন কি? তারা কি হতে চায় তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে তাদের। বেশির ভাগ তরুণই বলেছে, একটি ভালো চাকরি-ই তাদের স্বপ্ন। খুব কম সংখ্যক তরুণ উদ্যোক্তা হওয়ার কথা বলেছে।

অনেকেই অবশ্য বলছে, উদ্যোক্তা হলে অর্থের প্রয়োজন। সেই অর্থ কে দেবে? আবার চাকরির জন্য তারা দশ থেকে বিশ লাখ টাকা ঘুষ দিতেও প্রস্তুত। সেই ঘুষের টাকা কে জোগাবে? নিশ্চয়ই মা-বাবার জমি কিংবা ভিটেমাটি!

আবার অনেকে বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তারা দালালদের দারস্থ হয়। দালালরা তাদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। ইউরোপ-আমেরিকা নেওয়ার নামে তারা আবার সাগর, ভূমধ্যসাগর কিংবা অন্য কোনো সাগরে ভাসিয়ে দেয়। অজানার পথে হাজার হাজার যুবকের স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর কিংবা বনজঙ্গল পার হয়ে স্বপ্নের দেশে যেতে গিয়ে নিজের জীবনটাও নিঃশেষ হয়ে যায়।

জমিজমা, ভিটেমাটি বিক্রি করে ঘুষের টাকা জোগাড় না করে, কিংবা দালালদের হাতে তুলে না দিয়ে বিনিয়োগ করলে কিন্তু অনেক বেশি লাভবান হওয়া যায়। শুধু একটু উদ্যোগের প্রয়োজন; নতুন চিন্তার প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন নিজের আত্মবিশ্বাস। নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস হারালে আর কিছুই থাকে না।

অনেকে ব্যবসা বা বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকি নিতে ভয় পায়। অথচ অবৈধ পথে ইউরোপ-আমেরিকা যাওয়ার জন্য দালালদের হাতে লাখ লাখ টাকা অবলিলায় তুলে দেয়। সেই দালালের কোনো ঠিকানা নেই। টাকা গ্রহণের রশিদ নেই। কেবল বিশ্বাসের ওপর ছেড়ে দেয়। তাদের নিজের ওপরও কোনো বিশ্বাস নেই। ধরা খাওয়ার পর বোধ হয়, কী ভুল না তারা করেছে!

কাজেই চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ঝুঁকি তো থাকবেই। একবার, দুইবারে হয়তো সফল না হলে কি সব ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে বসে থাকতে হবে! আর সফল না হওয়া কিন্তু ব্যর্থতা নয়। সেটা একটা শিক্ষা। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। মনে রাখতে হবে, কোনো শ্রমই কিন্তু বৃথা যায় না।

আমি মনে করি, একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে ছাত্রজীবন থেকেই বিষয়টি মাথায় নিতে হবে। পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। পাস করেই চাকরিতে ঢোকার চিন্তা বাদ দিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার কথা ভাবতে হবে। সে অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করতে হবে। নিজের কাজে শতভাগ সততা ও নিষ্ঠা থাকতে হবে।

শুধু পরিকল্পনা করে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। কাজে নেমে যেতে হবে। মেধা আর কঠোর পরিশ্রমই এনে দিতে পারে অনেক বড় সফলতা। চাকরির জন্য কোথাও ধর্না না দিয়ে লাখো বেকারের ভরসা জায়গা হয়ে ওঠো। দেখবে, তুমিই তখন অনেকের আইডল হয়ে উঠবে।

লেখক : সাহিত্যিক ও নির্বাহী সম্পাদক, কালের কণ্ঠ।