সাহারার আসনে আসুক সৎ ও যোগ্য মানুষ


» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ০৮ অগাস্ট ২০২০ - ০৭:২৯:৩৪ অপরাহ্ন

উত্তরার পথে পথে এমপি প্রার্থীদের ব্যানার ফেস্টুনের অভাব নেই। বিগত কোন ঈদে এত পরিমাণ শুভেচ্ছা ব্যানার উত্তরাবাসী দেখেছে কিনা, সেটি আমার মতো অনেকেরই অজানা নয়। প্রচারে ঢাকা-১৮ আসনবাসী, সর্বস্তরের জনগণ, এলাকাবাসী ইত্যাদি, ইত্যাদি সম্বলিত এসব ব্যানারে বড় বড় শিল্পপতি থেকে শুরু করে বাদ নেই থানা-ওয়ার্ডের নেতারা। সাহারা খাতুনের মৃত্যুর পর ঢাকা-১৮ এর শুন্য আসনে এমপি হওয়াটা এখন অনেকেরই স্বপ্ন। হতেই পারে, এটা দোষের কিছু নয়। তবে, যাঁদের মন কাড়তে ব্যানার ফেস্টুনে নেতারা এতকিছু করে দেখাচ্ছে, দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে দলের নীতিনির্ধারকদের সেক্ষেত্রে বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, এখানে ব্যক্তি উন্নয়নের চেয়ে জনগণের উন্নয়ন অতীব জরুরি।

প্রয়াত অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুর পর তাঁর সম্পর্কে একটি বিশেষ ডকুমেন্টরি তৈরির কাজে আমরা তৃণমূলের বহু নেতাকর্মীর মুখোমুখি হয়েছি। সাহারা খাতুন সম্পর্কে সকলের অনুভূতিই ছিল মর্যাদা সম্পন্ন। কিন্তু, আসন শুন্য হওয়ায় পরবর্তী অভিভাবক সম্পর্কেও নিজেদের মতামত জানিয়েছেন অনেকেই। সবাই-ই চায় আসনটিতে একজন ভালো মানুষ আসুক, যিনি ঢাকা-১৮ এর জন্য সত্যিকার অর্থেই নিবেদিত হয়ে কাজ করবেন।

কথিত আছে, সাহারা খাতুন নিজ জীবদ্দশায় অকাতরে মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। কিন্তু, তা স্বত্বেও সাহারা খাতুনের নাম ভাঙিয়ে অনেকেই দখলবাজি চালিয়েছে। এমন খবরগুলো যখন সাহারা খাতুন জানতে পারতেন, তখন কখনোই তিনি দুস্কৃতিকারীদের জন্য সুপারিশ করেননি। যারা কিনা ক্ষমতাসীন দলের সুযোগ নিয়ে দখলবাজি, চাঁদাবাজি আর দাপট দেখিয়ে বেড়াতো।

অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন চলে গেছেন ঠিকই কিন্তু তাঁর জীবদ্দশায় যারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়াতো, তারা কিন্তু ঠিকই সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। এসব দাপটবাজরা কোনভাবেই যেন পবিত্র চেয়ারে বসে জনপ্রিয় কোন রাজনৈতিক সংগঠনের গায়ে কালি লাগাতে না পারে সেদিকে অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি-নির্ধারকদের খেয়াল রাখতে হবে।

আগেই বলেছি, বিগত কোন ঈদে এত পরিমাণ শুভেচ্ছা ব্যানার উত্তরাবাসী দেখেছে কিনা, সেটি আমার মতো অনেকেরই অজানা কিছু নয়। এক্ষেত্রে এমনটাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার হাসিমাখা বদনখানি বৃহত্তর উত্তরাবাসী কোনদিনও দেখেছে বলে মনে হয়না, এমন ব্যক্তিদের ব্যানার-ফেস্টুনের নিচেও লেখা রয়েছে প্রচারে ঢাকা-১৮ আসনের জনগণ! এটা অহেতুক মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই না। এক কথায়, এগুলো টাকার বাহাদুরি।

এমন উদ্ভট পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল সমূহের নীতি-নির্ধারকদের লক্ষ্য রাখতে হবে প্রকৃত জনবান্ধব, দূর্নীতি, দখলদারি ও চাঁদাবাজির কলঙ্কমুক্ত প্রার্থীকেই যেন দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। তাহলেই আগামীর ঢাকা-১৮ আসনে ব্যক্তি উন্নয়নের চেয়ে, জনতার উন্নয়ন লক্ষ্য করা যাবে।

লেখক- সাংবাদিক।
ই-মেইল:unews.gazitareq@gmail.com