এবার সরকারি হাইস্কুলে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া প্রত্যবেক্ষক


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৯ - ০৪:৪২:৩৩ অপরাহ্ন

সরকারি হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) পরীক্ষায় ভুয়া কক্ষ প্রত্যবেক্ষক (ইনভিজিলেটর) পরিচয়ে সরকারি কালাচাঁদপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রার্থীদের অনৈতিক সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের স্কুলগুলোতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ওই কেন্দ্রের দায়িত্ব নিয়োজিত কর্মকর্তারা কক্ষ প্রত্যবেক্ষক (পরিদর্শক) পরিচয়ে বিভিন্ন রুমে বহিরাগত ৮ জন লোককে প্রার্থীদের সাহায্য করার সুযোগ দিয়েছে। আর কক্ষ প্রত্যবেক্ষক হিসেবে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তারা কেউ পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করেননি।

জানা যায়, সরকারি কালাচাঁদপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ উপকেন্দ্র-১৪ তে বরিশাল বিভাগের সরকারি হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বাংলা বিষয়ের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ড. মো. আরিফুর রহমানের বাড়ি বরিশাল জেলায়। ড. মো. আরিফুর রহমান একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা। তিনি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক এম এ রশীদ মিঞাঁ মিলে পরীক্ষা কমিটির অন্যান্য সদস্যদের প্রভাবিত করে এ অনিয়ম ও জালিয়াতি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, তাদের সহায়তায় কক্ষ পরিদর্শক পরিচয়ে ৭-৮ জন বহিরাগত পরীক্ষার রুমে উপস্থিত হয়ে নির্দিষ্ট কয়েকজন প্রার্থীকে উত্তর বলে দেন এবং উত্তরপত্রে লেখায় সাহায্য করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৬ সেপ্টেম্বরের নিয়োগ পরীক্ষায় সরকারি কালাচাঁদপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরীক্ষার পরিদর্শক তালিকার ৪৭, ৪৮ এবং ৪৯ নং ক্রমিকে গুলশান মডেল কলেজের তিনজন সহকারী শিক্ষকের নাম রয়েছে। তারা হলেন, মো. হাসান আলী, সাথী আক্তার এবং আনোয়ার ইসলাম। পিএসসিতে কক্ষ প্রত্যবেক্ষকদের যে বিল জমা দেয়া হয়েছে তাতে ৫১, ৫২ ও ৫৩ নম্বর ক্রমিকে এই তিন জনের নাম রয়েছে। যারা প্রকৃতপক্ষে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক নন। এ বিষয়টি গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, এই নামে তাদের প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষক কর্মরত নেই এবং অতীতেও ছিল না। তারা আরও জানিয়েছে, ৬ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পরীক্ষায় কক্ষ প্রত্যবেক্ষক হিসেবে শিক্ষক প্রেরণ করার জন্য গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষকে সরকারি কালাচাঁদপুর হাই স্কুল এ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক পত্রও দেয়া হয়নি। তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকেই দায় বহন করতে হবে।