সবুজ পাহাড়ের বুকে ভ্রমন প্রিয়াসীদের রাত্রিযাপনে প্রিয় স্থান রাঙ্গামাটির ‘হিল তাজ রির্সোট’


» উত্তরা নিউজ I সারাবাংলা রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ১০:৩৫:৪৮ অপরাহ্ন

মো: আক্তার হোসেন: সবুজ পাহাড়ের রুপের রাণী পর্যটন রাঙ্গামাটি। জেলার সকল উপজেলায় রয়েছে অসংখ্য ভ্রমন করার মতো জায়গা। রুপের রাণী সাজেক ,পলওয়েল পার্ক , লাভবার্ড,ঝুলন্ত ব্রীজ,শুভলং ঝর্ণা,অরন্যক,জুমঘর পাহাড়, ফুরোমন পাহাড়, পেদা র্টিং টিং, ডিসি বাংলো, রাজবন বনবিহার, বীরশ্রেষ্ট মুন্সী আব্দুর রউফ এর সমাধীস্থল সহ জনপ্রিয় রাঙ্গামাটির ‘হিল তাজ রির্সোট’। পাহাড়, কাপ্তাই লেক, নীল জলরাশি ঘেরা সবুজ প্রাকৃতিক আধুুনিক রির্সোট, পিকনিক স্পট ও রেস্টুরেন্ট সহ অসংখ্য ভ্রমন জায়গা।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার পাশেই গড়ে উঠেছে এই ‘হিল তাজ রির্সোট’ যার ঢাক নাম তাজমহল। ইতিমধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা শীর্ষে এই হিল তাজ। নাম বল্লেলে হয়তো অনেকে চিনেন বা চিনেন না। সব থেকে মজার বিষয় হলো এই ‘হিল তাজ রির্সোট’ কে তাজমহল নামেই চিনেন সকলে।

সারাদিনই থাকে পর্যটকদের আনাগোনায় মুখোরিত। সন্ধা ঘনিয়ে আসলে ‘হিল তাজ রির্সোট’ জুঁড়ে থাকে এই ব্যাস্ত নগরী মানুষের আনাগোনা। আর পুরো শহর জুড়ে রয়েছে এই হিল তাজ রির্সোটের কথা।কর্ম্যব্যস্ততা সেরে সবাই আসে পরিবার পরিজনদের সাথে নিয়ে এই ‘হিল তাজ রির্সোট’ এ। বিদেশী পর্যটকের কাছে পাহাড়ের প্রধান আর্কষণ রাঙ্গামাটির ‘হিল তাজ রির্সোট’ রাত্রি যাপন করেন এই হিল তাজ রির্সোটে।

‘হিল তাজ রির্সোট’ এর চারপাশে সবুজের চাদরে মোড়ানো ছোট বড় অসংখ্য পাহাড়, কাপ্তাই লেকের জলরাশির মাঝে কোথাও আবার দেখা মিলবে জেলেদের জাল আর নৌকা দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য, উপড়ে তাকালে আকাশের তুল তুলে সাদা মেঘ গুলো উড়ছে দিক-বেদিক। আবার কখনো কখনো সূর্যকে ছেয়ে যাবে সাদা মেঘের দলগুলো আবার সবুজ নীল আকাশের হাতছানি আপনাকে বিমুগ্ধ করবে প্রকৃতির এই সুন্দর মনোরম দৃশ্য। আপনার মন প্রফুল্ল করে দিবে।

কাপ্তাই লেকের চারিপাশে বিশাল জলরাশি আর সবুজ প্রকৃতির গাছ-পালা থাকার কারনে জায়গাটা বেশ নিরিবিলি ও শীতল আবহওয়া, উপভোগ করার জন্য একমাত্র মনোমুদ্বকর পরিবেশ।তাই সারাদিনের ক্লান্তিশেষে নিজেকে নিয়ে ছুটে আসেন এই ‘হিল তাজ রির্সোট’ এ ।

রির্সোটটি হোটল হিসেবে সমধিক পরিচিত। দূর-দুরান্ত থেকে পর্যটকরা পাহাড়ে বেড়াতে আসলে সাময়িক সময়ের রাত্রিযাপন করতে পারেন এই রির্সোট’এ।

চারতলা ভবনের ‘হিল তাজ রির্সোটি’ তে ভিআইপি, নন-ভিআইপি, এসিসহ ২০টির অধিক রুম রয়েছে। সাধ্যের মাধ্যেই রুম গুলো বুকিং করা যায়। প্রায়ই সময়েই ডিসকাইন্ট অফার প্রদান করে ‘‘হিল তাজ রির্সোট’’টি,প্রকৃতির একদম কাছাকাছি থাকার জন্য আছে টেন্ট বা তাঁবুর ব্যবস্থ্যা ,চাইলে পিকনিক এর আয়োজন করা যায়। রির্সোটিতে আছে বাচ্চাদের দোলনা,হেমক সহ ট্রি-হাউস ও পাখিদের কলতান ,এক্সসাইটমেন্টের জন্য রয়েছে ফিশিংয়ের আয়োজন। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্তাতো আছেই। হোটেলের অথিতিদের জন্য রাঙ্গামাটির তরতাজা শাক-সবজি,দেশীয় সকল খাবার,জনপ্রিয় বাঁশকোড়ল ও কাপ্তাই লেকের বিচিত্র প্রজাতির মাছ দিয়ে পরিবেশন করা হয় । এসব খাবার অনেক সুস্বাদু -মুখরোচক।

হিল তাজ রির্সোট,র পাশেই রাঙ্গামাটি সেনা বিগ্রেড(রিজিওন) থাকায় নিরপওয়া কোন নেই ঘাটতি।পর্যাপ্ত নিরাপওয়া ব্যবস্থা থাকায় বিদেশী পর্যটকের কাছে প্রদান আকর্ষন হিল তাজ রির্সোট। পাহাড়ে ভ্রমন করা কার না ভাল লাগে?আপনার অবসর সময় গুলোর মাজে ঠিক করে চলে আসতে পারেন রুপের রানী রাঙ্গমাটি জেলার পর্যটন স্পোর্টগুলোর মাজে।

ঢাকার কলাবাগান, ফকিরাপুল, কল্যানপুর, সায়েদাবাদ হতে প্রতিদিন সকাল ৮ টা হতে ৯টা এবং রাতে ৮টা হতে ১১টার মধ্যে রাঙ্গামাটির উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায় অসংখ্য পরিবহনের এসি ও নন এসি বাস। ঢাকা টু রাঙ্গামাটি এসি বাসের বাড়া ৯০০টাকা, নন এসি ৬০০টাকা থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে। চট্রগ্রাম থেকে চট্রগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় থেকে বিভিন্ন পরিবহনের লোকাল, গেইটলক ডাইরেক্ট বাসও পাবেন আসার জন্য। বাড়া একটু বেশি হলেও ডাইরেক্ট বাসে উঠাই ভাল।

রাঙ্গামাটি শহরে পোছার পরে রাঙ্গামাটি রিজিওন ক্যন্টমেন্ট এর সামনে বঙ্গবন্ধু স্ট্যাচু পার হয়ে ২০০ গজ সামনে সিও অফিসের গেইটে নেমে যাবেন। এখান থেকে পায়ে হেঁটে ৭-১০মিনিট সময় লাগবে।সিও অফিসের ঘাটে পোছার পর পথের মাঝে যে কোন প্রথিককে জিঙ্গাসা করলে হিল তাজ রির্সোট এর পথে দেখিয়ে দিবে আপনাকে । অথবা মেইন রোড থেকে সিএনজি ভাড়া করে যেতে পারেন । সিও অফিসের ঘাটে অপেক্ষামান হিল তাজ রির্সোট এর ইঞ্জিন চালিতো ভোটে করে নিয়ে যাবে কাপ্তাই লেকের শান্ত জলে অবস্থিত এক টুকরো স্বপ্ন হিল তাজ রির্সোট।