সবাইকে বিনামূল্যে করোনার ভ্যাকসিন দিতে হবে


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২০ - ১০:৪৭:১৮ পূর্বাহ্ন

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, প্রতিটি মানুষকে বিনামূল্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ভ্যাকসিন দিতে হবে।

বুধবার রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের কার্যালয় মিলনায়তনে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের নেতারা জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানকে ফুলের শুভেচ্ছা জানাতে জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে আসেন।

তিনি বলেন, দেশের হতদরিদ্র মানুষের পক্ষে পয়সা খরচ করে ভ্যাকসিন নেয়া হয়তো সম্ভব হবে না। তাই সবার জন্য বিনামূল্যে করোনার ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে।

জিএম কাদের বলেন, দেশের মানুষ ভ্যাকসিনের ব্যাপারে পরিচ্ছন্ন ধারণা চায়, দেশের মানুষ করোনা প্রতিরোধে ভ্যাকসিনের ব্যাপারে আস্থাশীল হতে চায়। সরকারকে এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, শীতের শুরুতেই ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও করোনার প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেই করোনা মোকাবিলায়।

কাদের বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বলেন, সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কিন্তু ঢাকা শহরে টাকা খরচ করেও বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সার্পোট মিলছে না। করোনা আক্রান্ত রোগীদের কারো শ্বাসকষ্ট হলে হাহাকার শুরু হয়ে যায়। বাবার চোখের সামনে সন্তান শ্বাস কষ্টে মারা যায় কিন্তু কিছুই করার থাকে না।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ফ্রি করে দিতে হবে। ঢাকার বাইরে সরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা সেবা নেই বললেই চলে। শ্বাসকষ্ট হলে অক্সিজেন সহায়তা মিলছে না। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয় কিন্তু মানুষের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।

তিনি বলেন, মান সম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা সমমান হলে অবশ্যই ইবতেদায়ীকে জাতীয়করণ করতে হবে।

দুঃখ প্রকাশ করে কাদের বলেন, ধনীদের সন্তানরা শিক্ষায় যে সুবিধা ভোগ করে, গরিব মানুষের সন্তানরা সেই সুযোগ পায় না। তাই দেশের বৈষম্য দূর হয় না। বৈষম্যহীন দেশ গড়তে সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাকে জাতীয়করণ করে প্রয়োজনে বেসরকারি শিক্ষকদের বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে সুযোগ দিতে হবে। যারা উত্তীর্ণ হবে তারা সরকারি সুযোগ পাবে। যে সব শিক্ষক উত্তীর্ণ হতে পারবে না তারা পূর্বের স্কেলে সুযোগ পেয়ে পুনরায় যাতে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।