উত্তরা নিউজ উত্তরা নিউজ
অনলাইন রিপোর্ট


সপ্তাহের আলোচনায় পর্দা-বালিশ কাণ্ড! দুই দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য






বিশেষ প্রতিবেদন: ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ (ফেমিক) হাসপাতালের পর্দা কেনায় দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গে টেনে গত সপ্তাহে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বালিশ কোথায়? বালিশতো হেরে গেছে পর্দার কাছে! এ হচ্ছে অবস্থা! চতুর্দিকে শুধু লুট। সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সাইফুর রহমানের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ৬ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে একথা বলেন তিনি। তবে, এ ব্যাপারে পাল্টা মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার দুপুরে ধানমণ্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের যুগ্ম সম্পাদক সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকদের  বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত বিফ্রিংয়ে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বালিশ-পর্দাকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপি আমলের হাওয়া ভবনের লুটপাটকে মেলালে চলবে না। বালিশ-পর্দাকাণ্ডকে ‘ছিঁচকে কাজ’ বলেও এসময় আখ্যায়িত করেন তিনি।

অপরদিকে, মির্জা ফখরুল ইসলাম বিএনপি’র প্রয়াত নেতা সাইফুর রহমানের কথা টেনে বলেন, তার মতো রাজনীতিকরা নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য বা দলের লোকদের লাভবান করার জন্য দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেননি। এটা খুব বড় কথা, তারা দেশ বিক্রি করে দেননি। আজকে সাইফুর রহমান সাহেবরা থাকলে ওই রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হতো না। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট এভাবে তৈরি হতো না। ফরিদপুরে ৩৭ লাখ টাকায় একটা পর্দা! বালিশ কোথায়, বালিশতো হেরে গেছে। চতুর্দিকে শুধু লুট। সাইফুর রহমানের সময় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি সবচেয়ে ভালো ছিল উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাইফুর রহমান সাহেব ব্যাংক দেননি। তখন কয়েকটি প্রাইভেট ব্যাংক ছিল। খুব চাপ ছিল, চতুর্দিক থেকে চাপ ছিল যে নতুন ব্যাংক দিতে হবে। এ নিয়ে আমাদের অনেকে বিক্ষুব্ধ ছিলেন। কিন্তু তিনি বলেছিলেন, আমিতো দেশটাকে একটা লুটেরা অর্থনীতিতে পরিণত করতে পারি না। আজকে প্রমাণিত হয়েছে, এই যে ব্যাঙের ছাতার মতো ব্যাংক দিয়েছে, সব মুখ থুবড়ে পড়ছে। পত্রিকায় আছে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, হলমার্ককে আবার সুযোগ দেওয়া হবে। অর্থাৎ লুটেরা অর্থনীতিকে আবার লুটেরাদের হাতে দেওয়া হবে। এটাই এদের মূল চরিত্র। এদের চরিত্রই হচ্ছে লুটেরা। চারদিকে সব লুট করছে। এমনভাবে লুট করছে, দেশটা একটা ফোকলা দেশে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সরকার দুর্ভিক্ষ নিয়ে এসেছিল উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, তখন খাদ্য উৎপাদন একেবারে শেষ হয়ে গিয়েছিল। মানুষের অভাব এমন পর্যায়ে গিয়েছিল ঠিকমতো কাপড়ও পড়তে পারতো না। আমাদের মনে আছে কুড়িগ্রামের বাসন্তী লজ্জা নিবারণের জন্য এক টুকরা কাপড় পায়নি। সেই অর্থনীতিকে পাল্টে দিয়ে আজকে যে সম্ভাবনাময় অর্থনীতি তৈরি হয়েছে, তার ভিত্তি সাইফুর রহমানই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি না-কি অর্থনীতির আইডল। এটা আদর্শ, মডেল! কিন্তু অতিদ্রুত বিশ্বের কাছে প্রমাণিত হয়ে গেছে, এটা একটা ফাঁপা অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। অথচ সাইফুর রহমান, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার সময় এ অর্থনীতি ছিল দৃঢ় অর্থনীতি। তখন ইমার্জিং টাইগার বলা হয়েছিল।

এদিকে, মির্জা ফখরুলের এসব কথাকে উড়িয়ে দিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স হলেও রূপপুর পারমানবিক কেন্দ্রে বালিশকাণ্ড ও ফরিদপুর মেডিকেলে পর্দাকাণ্ড নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক, গণপ্রজাতন্ত্রী সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ ধরনের ছিঁচকে কাজগুলো যারা করেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা কিন্তু কোনো এমপি কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী নন। তিনি বলেন, এখানে তো হাওয়া ভবনের মত লুটপাটের বিষয় নেই। যারা এমন অভিযোগ করেন, তারা তো দেশটাকেই লুটপাট করে খেয়েছেন। এখন কিন্তু সরকারের কোনো বিকল্প সেন্টার নেই। লুটপাটের কোনো ভবন এই সরকারের আমলে নেই, এটা আমি দাবি করে বলতে পারি।’ ‘বালিশ আর পর্দার সঙ্গে তো হওয়া ভবনের লুটপাটের বিষয়কে মেলালে তো চলবে না।’