উত্তরা নিউজ উত্তরা নিউজ
অনলাইন রিপোর্ট


‘সংস্কৃতি চর্চা বাড়ালে জঙ্গিবাদ নির্মূল সম্ভব’






সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ না থাকায় তরুণ যুবকরা ধর্মীয় উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকছে। এ জন্য দেশব্যাপী সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ আরো বাড়াতে হবে এবং সবাইকে সংস্কৃতিতে যুক্ত করতে হবে। তাহলে জঙ্গিবাদ দেশ থেকে নির্মুল সম্ভব।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে ওয়াটারফল রেস্টুরেন্টে ‘উগ্রবাদ দমনে সম্মানিত সংস্কৃতি কর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালায়’ সংস্কৃতিকর্মীরা এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য আছাদুজ্জামান নূর, সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, মঞ্চ ও সংগীত জগতের শিল্পীরা।

আছাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘এখন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের সংস্কৃতি শিক্ষা যেমন নাচ গান চিত্রাঙ্কন শিখতে দেন না। তারা চান তাদের সন্তান জিপিএ ৫ পাক। কিন্তু নাচ, গানে তো পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। এ প্লাস পাওয়ার জন্য মার্কও আসে না। এজন্য তারা আগ্রহ দেখান না। আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংস্কৃতি শিক্ষার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলাম। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও আন্তরিক ছিল। কিন্তু বাজেটের কারণে শেষে এটি আর হয়ে উঠেনি।

নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘জঙ্গি নির্মুল করতে হবে সামাজিকভাবে। এর মধ্যে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বেশি। সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি না। সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে স্কুলের পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব কারণে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা আমাদের উপর ভর করেছে।’

নাট্য অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, ‘শুক্রবার আমি আমার বাসার পাশে যখন নামাজ পড়তে যাই তখন অনেক সময় ভেতরে জায়গা পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়েই বাইরে নামাজ পড়তে হয়। সবাই কৌতুহলী হয়ে তাকিয়ে থাকে। এখানে জঙ্গি কে বুঝা মুশকিল। একবার একজন আমার পাশে একটি ব্যাগ রাখল। খুব ভয়ে ছিলাম।’

অভিনেতা মোশারফ করিম বলেন, ‘আমার শুরু থিয়েটার থেকে। একসময় অনেক তেলাপোকা, পোকা মাকড় মেরেছি। এখন চিন্তা করি এগুলোর তো প্রাণ আছে। এই বোধ জন্ম দিয়েছে থিয়েটার। তাই যদি সবাইকে সংস্কৃতি চর্চার আওতায় আনা যায় তাহলে কেউ মানুষ হত্যার মতো কাজ করতে পারবে না।’

জঙ্গিবাদ নির্মুলে অভিনেতা তারিক আনাম খান, ইরেশ জাকের, শহীদুল্লাহ সেলিমসহ সংস্কৃতি জগতের অনেকে তাদের পরামর্শ দেন।

এসময় জঙ্গিবাদ নির্মুলে পুলিশের পক্ষ থেকে সংস্কৃতিকর্মীদের আহ্বান জানানো হয়।

সংস্কৃতিকর্মীরা পুলিশের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।