সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিলেন আনোয়ার ইব্রাহিম


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২০ - ১০:৫৬:২২ পূর্বাহ্ন

মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের তোড়জোর শুরু করে দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম। এর মধ্যেই রাজার সঙ্গে দেখা করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে রাজপ্রাসাদে গিয়ে রাজা আল সুলতান আবদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আনোয়ার ইব্রাহিম। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, রাজার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

ফলে ধারণা করা হচ্ছে যে, বিরোধী এই নেতার হাত ধরেই হয়তো দেশটির রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে চলেছে। কয়েক দফা কারাগারে আর দুই দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় বসার অপেক্ষায় রয়েছেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

মালয়েশিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে হলে ২২২ আসনের পার্লামেন্টের ১১২ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন হয়।

আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, তার প্রতি ১২০ জনেরও বেশি এমপির সমর্থন রয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১২০ জনেরও বেশি এমপি আমার সঙ্গে রয়েছেন। তবে রাজা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাই আমাদের ধৈর্য ধারণ করে রাজার সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

সংবাদমাধ্যম মালয়েশিয়াকিনি জানিয়েছে, এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য রাজপ্রাসাদের আমন্ত্রণ পেয়েছেন ডিএপি এবং এমআইসি-এর মতো দলগুলোর নেতারা।

আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, রাজার অনুমতি পেলে তিনি নতুন সরকার গঠন করবেন। তাতে ক্ষমতাসীন জোটের ভেতর থেকে জন্ম নেয়া মুহিদ্দিন ইয়াসিন সরকারের পতন ঘটবে।

মাত্র কয়েক মাস আগেই জোটের ভেতর ষড়যন্ত্র করে মালয়েশিয়ার ক্ষমতা আঁকড়ে ধরেছেন মুহিদ্দিন ইয়াসিন। ফলে ২০১৮ সালের মে মাসে নির্বাচিত ড. মাহাথির মোহাম্মদ সরকারের পতন ঘটে।

আনোয়ার ইব্রাহিমের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি সম্পর্কে এর আগে মুহিদ্দিন ইয়াসিন বলেন, ‘এটি অবশ্যই ফেডারেল সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসারে করা উচিত। আনোয়ারের ঘোষণা কেবল একটি দাবি।’

তিনি বলেন, যতক্ষণ না আনোয়ার তার দাবি সমর্থন করার জন্য প্রমাণ হাজির করছেন, পেরিকাতান ন্যাশনাল নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকবে। তার মতে, তিনি এখনও বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই ক্ষমতায় আছেন।