সংকীর্ণতা থেকে জাতির মুক্তি চাই -মো: মঞ্জুর হোসেন ঈসা


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২০ - ০৯:২০:২১ অপরাহ্ন

আর ৪ দিন পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী। আর ১ বছর পর মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। লাল-সবুজের পতাকা সৃষ্টির ৪৯ বছর পর আজও আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হচ্ছে আমরা সংকীর্ণতার রোগে আক্রান্ত।

পরস্পর বিরোধিতা করাই যেন আমাদের ধর্ম-কর্ম। ৪৯ বছরেও আমরা প্রতিবছর আমাদের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, কৃষিবিজ্ঞানী, সাংবাদিক, শিক্ষক বের হলেও আমরা আমাদের রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করে তাদের তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছি।

প্রতি ৫ বছর পরপর বিভিন্ন পর্যায়ের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন এলেই এদেশের শীর্ষ দল ও ছোট ছোট দলগুলো কালো টাকা মালিক, বড় ব্যবসায়ী ও নেতাদের স্ত্রী পুত্রদের খুজতে থাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য। অথচ যে ব্যক্তিটি তৃণমূল থেকে রাজনীতি করতে করতে ৩০-৪০ বছর পার করে দিল সেই ব্যক্তি কখনো নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে নিজেকে উপস্থিত করতে পারছে না পেশি শক্তি ও কালো টাকার প্রভাবে।

আমাদের ভাষা সৈনিকরা সকলেই ৮৬+, বীর মুক্তিযোদ্ধারা ৬৫+, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৭৩+, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ৭৬+। একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন… আগামী ১০ বছর পর আমরা কোন ভাষা সৈনিকদের আমাদের কোন অনুষ্ঠানের মঞ্চে বসাতে পারবো? ২০ বছর পর কোন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে আমরা আমাদের মঞ্চে আসন দিতে পারবো? আজকে যারা ক্ষমতায় ও ক্ষমতার বাইরে রয়েছেন তারা কি আগামী ২৫ বছর পর দল ও রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে অবস্থান করতে পারবেন? সারা পৃথিবীই ১০০ বছর পরের পরিকল্পনা করে।

আমরা একটি ব্রীজ বা কালভার্ট করলেও সেখানে ৫০ বছরের পরিকল্পনা করি। কিন্তু যারা এই রাষ্ট্রটি চালাবে তারা কারা? তাদেরকে নিয়ে আমাদের কি কোন পরিকল্পনা রয়েছে? গত ৪৯ বছরে যে সমস্ত রাজনৈতিক দল ও শীর্ষ নেতা রাষ্ট্র ক্ষমতার শীর্ষে ছিলেন তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তাদের ভবিষ্যত ২০ বছর পর কাদেরকে তাদের জায়গায় বসাবে তেমন কোন ঘোষণা দিয়েছেন? আমরা জাতি হিসেবে নিজেদেরকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছি? সংকীর্ণতার মহামারিতে আমরা সবাই আক্রান্ত।

যখন করোনা ভাইরাস সারা পৃথিবীকে গ্রাস করছে তখনো আমরা পরস্পর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রাখছি। আমরা কি জাতি হিসেবে পারতাম না সম্মিলিতভাবে এই মহামারী থেকে বাচার জন্য নিজেদের অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কথা বলতে। স্বাধীনতার আর কত বছর পার হলে আমরা সংকীর্ণতা নামক এই ব্যাধি থেকে মুক্তি পাবো? আমরা কবে আমাদের সন্তানদেরকে ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, কৃষিবিজ্ঞানী, সাংবাদিক, শিক্ষক তৈরি করার আগে মানুষ তৈরি করবো? আমি যদি আমার সন্তানকে ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করার আগে মানুষ তৈরি করি সে রডের পরিবর্তে বাশ দেবে না, ডাক্তার তৈরি করার আগে মানুষ তৈরি করি তাহলে সে কসাই হিসেবে নিজেকে তুলে ধরবে না।

অনেক বছর আগে একটি ছবি দেখেছিলাম। ছবিটির নাম ছিল আবার তোরা মানুষ হ। পরিচালক হয়তো উপলব্ধি করেছিল আমরা অনেক কিছু হয়েছি কিন্তু সত্যিকার মানুষ হতে পারিনি। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে আমরা একটি শপথ গ্রহণ করি তাহলে সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে দেশকে ভালবাসবো, আইন সবার জন্য সমান, আইনের গতিতেই আইন চলবে। মানুষ তার ভোটের অধিকার স্বাচ্ছন্দ্যে প্রয়োগ করতে পারবে। গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে সারা পৃথিবীর কাছে আমরা মাথা উচু করে দাড়াবো।

আমরাই একমাত্র বীরের জাতি যারা ভাষার জন্য এবং স্বাধীনতার জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছে। শহীদের রক্তের সাথে প্রতারণা ও তামাশা না করে নিজেরা সংকীর্ণতা মুক্ত থাকি এবং সবার আগে দেশ এই কথাটি হৃদয়ে ধারণ করি।