Avatar উত্তরা নিউজ টোয়েন্টিফর ডটকম ডেস্ক রিপোর্ট


শারীরিক অবস্থার অবনতি, নুসরাতকে পাঠানো যাচ্ছে না সিঙ্গাপুরে






ফেনীর দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হচ্ছে না। তার শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আমরা সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছি। তারা এই কন্ডিশনে নুসরাতকে সেখানে না নিতে বলেছেন। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।

গত ৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাত জাহান রাফির (১৮) গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

নুসরাত জাহান রাফির বাড়ি সোনাগাজী পৌরসভার চরচান্দিয়া গ্রামে।

সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষ তার লোকজনকে দিয়ে নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালান বলে মেয়েটির স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।

দগ্ধ ছাত্রীর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেছেন, ‘শনিবার সকালে আমার বোন আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে ওই মাদরাসা কেন্দ্রে যায়। সেখানে চারজন মহিলা তাকে মাদরাসা ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়। নুসরাত রাজি না হওয়ায় ওই চারজন তার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে ফেনী সদর হাসাপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আনা হয়। সোমবার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নুসরাতকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

গত ২৭ মার্চ ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে রাফির শ্লীলতাহানি করেন বলে তার ভাই জানান। রাফি পরিবারকে বিষয়টি জানালে তার মা সোনাগাজী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।