শামুকখোলপাখির প্রতি বছর বাসা ভাড়া ৩ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৯ - ০৩:৫১:১৪ অপরাহ্ন

বাঘা, প্রতিনিধিঃ আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি হতে যাচ্ছে রাজশাহীর বাঘার বাউসার আমবাগানের সেই শামুকখোল পাখির বাসা ভাড়া দিবে সরকার।এতদিন মানুষ নিজ প্রয়োজনে বাসা ভাড়া করে বসবাস করে।কিন্তু পাখিরা বাসা ভাড়া করে থাকবে কথাটা শুনতে আশ্চর্য হলেও সত্যি হতে যাচ্ছে।এ ঘটনাটি পৃথিবীতে নজিরবিহীন।সরকার পাখিদের জন্য বাসা ভাড়া বাবদ বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ইতোমধ্যে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বরাদ্দ চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
এই টাকা আমবাগানের মালিক বা ইজারাদারদের দেওয়া হবে। এতে করে আর কেউ পাখিগুলোকে বাসা থেকে তাড়াতে পারবেন না। যত দিন ইচ্ছা পাখিরা বাসায় থাকবে। আর সরকার থেকে প্রতিবছর এই ব্যয় বহন করা হবে।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের আমবাগানে দলবেঁধে শামুকখোল পাখিরা বাসা বেঁধেছে। গত চার বছর ধরে পাখিগুলো এই বাগানে বাচ্চা ফোটাতে আসে। বর্ষায় এসে বাসা বানিয়ে বাচ্চা ফোটায়। শীতের শুরুতে বাচ্চারা উড়তে শিখলে আবার বাচ্চাদের নিয়ে চলে যায়।

এবারও পাখিরা বাসা বেঁধে বাচ্চা ফুটিয়েছে। বাচ্চারা এখনো উড়তে শেখেনি। কিন্তু ইজারাদার এ সময় বাগানের পরিচর্যা করতে চান। তিনি বাসা ভেঙে আমগাছ খালি করতে চান। গত ২৯ অক্টোবর তিনি একটি গাছের কিছু বাসা ভেঙেও দেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় পাখিপ্রেমী কিছু মানুষ তাকে বাসা না ভাঙার জন্য অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধে তিনি পাখিদের বাসা ছাড়ার জন্য ১৫ দিন সময় বেঁধে দেন। ১৫ দিনের মধ্যে বাসা না ছাড়লে পাখিদের বাসা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে আদালতের নজরে এনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আরজি জানান সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী প্রজ্ঞা পারমিতা রায়। আদালত পাখির বাসা না ভাঙতে রুলসহ এক আদেশ জারি করেন। আদেশে কেন ওই এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। এটিকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলে বাগান মালিক ও বাগানের ইজারাদারের ক্ষতির সম্ভাব্য পরিমাণ নিরূপণ করে ৪০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, আমি পাখিদের জন্য বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আশা করছি, বাগান মালিক বা ইজারাদাররা টাকা পাবেন।

বাঘা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ওই বাগানের ৩৮টি আমগাছে পাখিরা বাসা বেঁধেছে। আমরা গাছগুলোর আমের সম্ভাব্য দাম ও পরিচর্যার ব্যয় নিরূপণ করেছি। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ক্ষতি হতে পারে। সেই অনুযায়ী জেলা প্রশাসক প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছেন।