শাজাহানপুরে বন্ধুদের দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ, অতঃপর পুড়িয়ে মারার চেষ্টা


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ০৮:৫৯:১৯ অপরাহ্ন

মোঃ মিজানুর রহমান মিলন, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় স্ত্রীকে বন্ধুদের দিয়ে ধর্ষণের পর দাহ্য জাতীয় পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া এবং ধাতব সূচালো কিছু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আসর দেয়াসহ মাথার চুল কেটে দিয়েছে তার স্বামী। বন্ধুকে সাথে এনে ধর্ষণের অভিযোগও তুলেছেন ওই নারী।

শনিবার বেলা বারোটার দিকে শাজাহানপুর থানা এলাকার চকলোকমান শ্যামলী এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাইনি ওয়ার্ডে ১২ নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নির্যাতিত নারী ওই এলাকার ডেকোরেটর শ্রমিক আলম মন্ডল এবং আইমা বেগমের মেয়ে সামিয়া আক্তার আইভি (২৪)। স্বামী বগুড়া গাবতলী উপজেলার শালিয়ানডাঙ গ্রামের তোজাম্মেল হকের ছেলে হানিফ পরিবহনের সুপারভাইজার রফিকুল ইসলাম (৩৫)।

দাম্পত্য জীবনে তাদের রাইফা ইসলাম রিয়া নামের কেজিতে পড়ুয়া মেয়ে সন্তান রয়েছে। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজীউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হাসপাতালের বিছানায় আইভী জানান, প্রেমের সূত্র ধরে রফিকুলের সাথে প্রায় সাত বছর আগে তার বিয়ে হয়। বিয়েটা রফিকুলের বাবা মা মেনে নিচ্ছিলেন না। পর একটি বৈঠকের মাধ্যমে রফিকুলের বাবা-মার হাতে নগদ ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দেয়া হয় এবং স্বর্ণের গহনা সহ ফার্নিচার দিয়ে রফিকুলের ঘরে ওঠা হয়। বিয়ের পর থেকেই আরো যৌতুকের জন্য রফিকুল তাকে শারীরিক অত্যাচার করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তাকে তালাক ও দেয় রফিকুল।

প্রায় তিন বছর আগে সেসময় তিনি রফিকুলকে আসামি করে বগুড়া নারী শিশু আদালতে মামলা করেন। এখান থেকে বাঁচতে রফিকুল তাকে নিয়ে শান্তিতে সংসার করবে বলে তিন লক্ষ টাকা রেজিস্ট্রি দিয়ে আবারো বিয়ে করে। এ বছরের ২০ জানুয়ারি তাকে পিটিয়ে ঘরে আটকে রেখে পালিয়ে যায় রফিকুল। এই ঘটনায় ২৪ জানুয়ারি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়ে আবারও সংসার করতে পাঠায় সালিশের মাতব্বররা।

সর্বশেষ শনিবার বেলা ১২ টার দিকে রফিকুল তার কয়েক সহযোগীকে নিয়ে এসে ধর্ষণ করে। অতঃপর তাকে মেরে মাথার চুল কেটে দেয়, এবং ধাতব সূচালো কিছু দিয়ে শরীরে আঁচর দিতে থাকে। অবশেষে শরীরে দাহ্য জাতীয় কিছু ছিটিয়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে রফিকুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজীউর রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। মামলা দায়ের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রফিকুল ও তার বন্ধুরা পলাতক রয়েছেন। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার তাহমিনা আক্তার জানান, রোগীর শরীরের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ,মেডিকেল রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।