শাজাহানপুরে অতিথি পাখির অভয়ারণ্য


» উত্তরা নিউজ I সারাবাংলা রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২১ - ০৬:১৬:৪২ অপরাহ্ন

মিজানুর রহমান মিলন, শাজাহানপুর (বগুড়া ) প্রতিনিধি: ঝাঁক বেঁধে নীল আকাশে উড়ছে আবার মাটিতে নামছে। আমন চাষের জন্য পানি দিয়ে হাল চাষ করা হচ্ছে এমন জমিগুলোতে লম্বা পা নামিয়ে খাবার খুঁজছে। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল,চোপীনগর ইউনিয়নের হলুদ আর সবুজের ফসলীমাঠ এবং জলাশয়গুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অতিথি পাখির অবাধ বিচরন নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কৃষক সাইফুল ইসলামসহ অনেকে জানান, শাজাহানপুর উপজেলার কচুয়াদহ রঙ্গিলা ঘাট থেকে গাবতলী উপজেলার ইটালী গ্রাম এবং ধুনট উপজেলার বেড়েরবাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত ফসলি জমি এলাকায় কৃষক ছাড়া সাধারণ মানুষের আসা-যাওয়া কম, জমি চাষের জন্য পাওয়ার টিলার ছাড়া যান্ত্রিক বাহন নেই বললেই চলে। এই এলাকায় ২ টি খাল  বাঙালী নদীর সাথে মিশেছে। জমিগুলো অপেক্ষাকৃত নিচু। সব মিলিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি এখানে অবাধ বিচরণ করার আদর্শ স্থান।বন্যার পানি নামার পর থেকে পাখি আসতে থাকে। পুরো শীত পর্যন্ত এই পাখি দেখা যায়। খালের ছোট মাছ এবং ফসলের পোকা খায় পাখিরা। শত শত পাখি কাদায় পা ডুবিয়ে খাবার সংগ্রহ করে বলে স্থানীয়দের কাছে কাদাখোঁচা পাখি নামেই বেশি পরিচিত। নদীতে ডুব দিয়ে মাছ খায় বলে মাছরাঙ্গা বলেও ডাকে অনেকে। বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য বক, পানকৌড়ি, শামুকখোল, ডাহুক, বালিহাস সহ বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি এই অঞ্চলে দেখা যায়। পাবনা শহীদ এম মনসুর আলী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা কামাল আহমেদ জানান, এলাকাটি অতিথি পাখির অবাধ বিচরণের লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের সচেতন হতে হবে। পাখি এবং পরিবেশ রক্ষায় তাদের এগিয়ে আসতে হবে। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ক প্রভাষক আবু সাঈদ জানান, যেকোনো মূল্যে শিকারিদের হাত থেকে পাখিদের রক্ষা করতে হবে। সচেতনতার পাশাপাশি শিকারীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে।