লবণচাষীদের আগামী পাঁচ বছর বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হবে , শিল্পমন্ত্রী


» মোহাম্মদ তারেকউজ্জামান খান | সম্পাদক ও প্রকাশক | সর্বশেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০১৯ - ১২:০৩:৫২ অপরাহ্ন

দেশের প্রান্তিক লবণচাষীদের আগামী পাঁচ বছর বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করা
হবে। এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের সমন্বিত কার্যক্রমের
মাধ্যমে লবণ আমদানির নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন আজ কক্সবাজারে হোটেল লং বিচে `লবণ চাষ ও আয়োডিনযুক্তকরণ : সার্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ” শীর্ষক
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির
শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন
করে। বিসিকের চেয়ারম্যান মোঃ মোশতাক হাসানের সভাপতিত্বে কর্মশালায়
বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং স্থানীয়
সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও আশেক উল্লাহ রফিক। সম্মানিত
অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ নিউট্রিশন অফিসার পিয়ালী
মুস্তাফী। সংস্থার নিউট্রিশন অফিসার ডা. আইরিন আখতার চৌধুরী কর্মশালায়
মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশীয় শিল্পসমূহ রক্ষায় অত্যন্ত তৎপর।
লবণচাষীদের রক্ষা করা গেলে লবণ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব
হবে। ধানের মতো লবণচাষীদের নিকট থেকে সরকার কর্তৃক সরাসরি লবণ
ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান শিল্প প্রতিমন্ত্রী।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ডা. আইরিন আখতার চৌধুরী বলেন, আয়োডিন
মানবদেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। শিশু মাতৃগর্ভে থাকাকালীন মস্তিষ্কের
বিকাশের প্রয়োজনসহ শারীরিক, মানসিক সুস্থতার জন্য একজন মানুষের সারা
জীবন আয়োডিন গ্রহণ করতে হয়। তাই সকলের জন্য আয়োডিনযুক্ত লবণ
নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি বলেন, লবণে আয়োডিন মিশ্রণের সিস্টেম লস
কমাতে মিল শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং আয়োডিন যুক্ত লবনের
গুণগতমান নিশ্চিত করতে হবে।

ইউনিসেফের চিফ নিউট্রিশন অফিসার লবণের উৎপাদন বাড়াতে
লবণচাষীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের লবণ চাষ
কক্সবাজার অঞ্চলভিত্তিক হওয়ায় লবনের মান বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক
মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং লবণচাষীদের দক্ষতা বৃদ্ধি সহজেই সম্ভব।

কর্মশালায় মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, চাষী পর্যায়ে লবনের বিক্রয়
মূল্য মাত্র চার থেকে পাঁচ টাকা যা অত্যন্ত কম। চাষীদের রক্ষার্থে এই দাম
বাড়ানো প্রয়োজন। এজন্য লবণ আমদানি না করে দেশীয় লবণ ব্যবহারের
পরিমাণ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে, বড় বড় শিল্প-কারখানাগুলোকে দেশি লবণ
ব্যবহারে এগিয়ে আসতে হবে। তারা বলেন, সবার জন্য খাবার লবণে আয়োডিন
নিশ্চিত করতে বাজারে খোলা লবণ বিক্রি বন্ধ করতে হবে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজাউল করিম ও
এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ লবণচাষী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক
কায়সার ইদ্রিস, কক্সবাজার জেলা লবণ মহাল কমিটির সভাপতি রহিম উদ্দিন,
কক্সবাজার জেলা লবণ মালিক সমিতির সভাপতি রইস উদ্দিন, বাংলাদেশ লবণ
মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির প্রমুখ মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ
করেন।

বিসিকের চেয়ারম্যান বলেন, ইউনিসেফের কারিগরি সহায়তায় লবণ
চাষের নতুন প্রযুক্তি সকল লবণচাষীর মাঝে পোঁছে দেওয়া হবে। এতে লবণের
উৎপাদন দ্বিগুণ হবে। দাদন ব্যবসায়ীদের হাত থেকে চাষীদের রক্ষার জন্য স্বল্প
সুদে ঋণ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। লবণ নিয়ে একজন পরিচালকের নেতৃত্বে
পৃথক একটি বিভাগ খোলার একটি প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ
করেন।

পিআইডি