লটারি জিতে কোটিপতি


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২০ - ১২:৫০:৩২ অপরাহ্ন

তার সংসারে ছিল অভাব-অনটন। তা থেকে মুক্তি পেতে মাঝে মাঝেই লটারি কিনতেন। তবে প্রথম পুরস্কার জিতে কোটিপতি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ভাবেননি ভারতের পূর্ব বর্ধমানের কালনার বাসিন্দা ইন্দ্রনারায়ণ সেন। 

এক কোটি টাকার পুরস্কার জিতে কার্যত ঘুম উড়ে গেছে তার। নিরাপত্তা চেয়ে দ্বারস্থ হয়েছেন পুলিশের। অন্যদিকে, কয়েক দিনের ব্যবধানে কালনায় দু’জন এক কোটি টাকার পুরস্কার জেতায় লটারি ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ চরমে।

কালনার সাতগাছি পঞ্চায়েতের সাহাপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা ইন্দ্র নারায়ণ জানান, হুগলির গুপ্তিপাড়ায় তার ছেলের ছোট একটি সোনার দোকান আছে। সোনার গয়না বানিয়ে বিক্রি করেন ছেলে। তার রোজগার আর ইন্দ্র নারায়ণের পেনশনেই সংসার চলে। সেই সূত্রেই মাঝেমধ্যে গুপ্তিপাড়ায় যেতেন তিনি। ছেলের দোকানের পাশে একটি লটারির দোকান থেকে টিকিট কিনতেন।

সেই অভ্যাসেই গত ২৯ ডিসেম্বর ৬০ টাকা দিয়ে লটারির টিকিট কেনেন ইন্দ্র। লটারির ফল ঘোষণা ছিল ওই দিন রাত ৮টায়। গুপ্তিপাড়ায় বসেই সেই টিকিট মেলাতে শুরু করেন তিনি।

কিন্তু কয়েক বার মেলানোর পরেও নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। প্রথম পুরস্কারের টিকিটের নম্বরটিই তার। পরে কিছুটা স্থির হন তিনি। ততক্ষণে এলাকায় রটে যায় তার লটারি জেতার কথা।

ওই পরিস্থিতিতে বাড়িতে ফিরে আসেন। ইন্দ্র নারায়ণ জানান, আনন্দে আর টিকিটের সুরক্ষার চিন্তায় রাতে কার্যত দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি। সকালে ব্যাঙ্ক খুলতেই ছুটে যান স্টেট ব্যাঙ্কে।

ব্যাঙ্কের কর্মীরা টাকা পাওয়ার নিয়ম-কানুন জানিয়ে দেন তাকে। কিন্তু তাতেও আশ্বস্ত হতে পারেননি। পরের দিন মঙ্গলবার কালনা থানায় হাজির হয়ে নিরাপত্তার দাবি জানান। পুলিশ তাকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেয়। তার পর কিছুটা স্বস্তি পান।

যদিও টাকা না পাওয়া পর্যন্ত দুশ্চিন্তা কাটবে না বলে জানিয়েছেন ইন্দ্র নারায়ণ। তিনি বলেন, স্ত্রী, দুই ছেলে ও বউমা এবং নাতি-নাতনিদের নিয়ে নয় জনের সংসার। ছেলেদের রোজগার তেমন নয়। আমার পেনশন আর ছেলেদের সামান্য রোজগারে কোনো রকমে সংসার চলে। এই টাকা পেলে সেই অবস্থা থেকে কিছুটা সুরাহা হবে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট লটারি স্টকিস্টের সঙ্গে কথা বলে টাকা পেতে যা যা করণীয়, সবই করব।

সূত্র:কালের কন্ঠ