লক ডাউনে কেমন কাটাচ্ছে লালমনিরহাটের মধ্যবিত্তরা


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২০ - ০৯:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে থোমকে গেছে গোটা বিশ্ব। প্রভাব ঠেকাতে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশ লকডাউন করা হয়েছে।

বাংলাদেশে সকল প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও তৈরি হয়েছে অঘোষিত লকডাউন ।

করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে  ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও পরবর্তিতে তা বাড়ানো হয়েছে। এর  ফলে বন্ধ রয়েছে আয়ের উৎসগুলো সহ আইন-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা, যানবাহন। তবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানপাট ও পণ্যবাহী যান চলাচল করতে পারছে।

একদিকে বিত্তবানরা পরিবার নিয়ে বিলাসিতায় ছুটি কাটাচ্ছেন, অপরদিকে নিম্মবিত্ত পরিবারের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

তবে সরেজমিনে লালমনিরহাটের উপজেলাগুলোতে  মধ্যবিত্তরা চরম অসুবিধায় থাকলেও কাউকে কিছু বলতে পারছেন না। লোক লজ্জার ভয়ে  চাপা কান্না কাঁদছেন তারা। একইদিকে মধ্যবিত্তদের স্বর ধরে ভাঙ্গা কান্না করছে  চরাঞ্চলের স্বল্প আয়ের মানুষেরা। উপার্জনের সব রাস্তা বন্ধ পারছেনা দু-মুঠো ঠিকভাবে খানা খেতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, পরিবারের সদস্য সংখ্যা মোটামুটি চাঁর-পাচজন। পরিবারের ভরণ-পোষন করেন বড় ছেলে। ছেলে বেসরকারী একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। পরিবার মোটামুটি চলছিলো। মাসিক যে বেতন পেতো তা বাড়িতে পাঠাতো তাতেই সংসারটা ভালোভাবে চলতো।

কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে বেতনও বন্ধ। এই অবস্থায় চিন্তায় কিছু করতে পারছেনা। এই অবস্থায় কী করা উচিত, কি করবে ভেবে উঠতে পারছেন না। সংসার চালাতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। চক্ষু লজ্জায় কষ্টগুলো প্রকাশও করতে পারছেন না।

মাসিক যে বেতন পেতেন তাতেই সংসারটা ভালোভাবে চলে যেত। কিন্তু তার কোনো সঞ্চয় নেই।
করোনা পরিস্থিতির কারণে কঠিন অনিশ্চয়তায় পড়ে অন্ধকার দেখছেন চোখেমুখে।  কিভাবে জুটবে সেই চিন্তায় ঘুম আসে না তার। স্ত্রী ও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে বিলাপ করা ছাড়া আর পথ দেখছেন না তারা

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর মহোদয় বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে যেনো কাউকেই না খেয়ে থাকতে না হয়, সে লক্ষ্যে জরুরী খাদ্যসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার।  তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, যারা এখনো সরকারী কোন সহযোগীতা বা ত্রান পায়নি এমন ব্যক্তি যারা রয়েছে তারা যদি আমাদের জানায় তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।