রোজার উত্তাপে বাজার গরম, ডিম ছাড়া বেড়েছে সব জিনিসের দাম


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২০ - ০৫:৩১:২৭ পূর্বাহ্ন

পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, একমাত্র বাড়েনি ডিমের দাম। রাজধানীর বাজারগুলোতে মাত্র ২০ থেকে ২২ টাকায় মিলছে এক হালি ডিম। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে বলছেন— রোজার আগ মুহূর্তে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, এটা যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি’র হিসাবেও দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডিম ছাড়া অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে বেড়েছে অন্তত ১৫ রকমের নিত্যপণ্যের দাম। আর এই সপ্তাহে বেড়েছে ১৩ রকমের পণ্যের দাম। এছাড়া, স্থির থাকা সবজির দামও বেশ খানিকটা বেড়েছে।

অবশ্য বাজার ঘুরে ইফতার সামগ্রী বেশি পরিমাণে কিনতে দেখা গেছে। এ কারণে ইফতার সামগ্রী ও মুরগির দাম বেড়েছে। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে। কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে সব ধরনের ডালের দাম।

রাজধানীর বাজারগুলোর তথ্য বলছে, নতুন করে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি ও দেশি মুরগির দাম। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজের পর সবজির দাম বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম বাড়লে সব সময়ই বিপাকে পড়েন সীমিত আয়ের মানুষেরা। আর রোজা সামনে রেখে দাম বাড়লে প্রান্তিক ও সীমিত আয়ের মানুষদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।’

শুক্রবার রোজার মাসের বাজার করতে দেখা গেছে অনেককেই। মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা কিবরিয়া মোল্লা বলেন, ‘লকডাউন পরিস্থিতিতে রোজা রাখা অবস্থায় বারবার বাজারে আসা সম্ভব হবে না। এ কারণে যেসব পণ্য পচনশীল নয়, সেসব পণ্য একটু বেশি করে কিনে রাখছি।’

রাজধানীর বাজারগুলোর তথ্য বলছে, মাঝারি দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি, গত সপ্তাহে যা ছিল ৮০ থেকে ৯৫ টাকা। কয়েক মাস আগেও এই ডালের দাম ছিল ৬০ টাকা কেজি। আর বড় দানার মসুরের ডাল গত সপ্তাহের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। শুক্রবার এ ডাল বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৯০-১০০ টাকা। গত সপ্তাহে যা ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। ছোট দানার মসুরের ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৩০-১৪০ টাকায়, গত সপ্তাহে যা ছিল ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। তবে মুগ ডাল আগের দামেই ১৩০ থেকে ১৪৮ টাকায় এবং অ্যাংকর ডাল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ছোলার কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ টাকা। গত সপ্তাহে যে ছোলার দাম ছিল ৮০ টাকা, শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকায়। একইভাবে চিনির দাম প্রতিকেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। শুক্রবার প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। গত সপ্তাহে যা ছিল ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা। পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিকেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, গত সপ্তাহে যা ছিল ৬০ টাকা। আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। শুক্রবার চীনের আদা প্রতিকেজি ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহে যা ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এছাড়া দেশি আদা ২৩০ টাকা থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, গত সপ্তাহে যা ছিল ২২০ থেকে ২৫০ টাকা।

এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি হালি লেবুর দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। শুক্রবার এক হালি লেবু বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। ২০ টাকা করে প্রতিকেজি বিক্রি হওয়া গাজরের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫-৪০ টাকা। ২০ থেকে ২৫ টাকা প্রতিকেজি শসার দাম বেড়ে হয়েছে ৩০ থেকে ৪৮ টাকা। ২০-৩০ টাকার বেগুনের দাম বেড়ে হয়েছে ৪০-৫০ টাকা। সজনে ডাটার প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১০০-১২০ টাকা করে। ১৫ টাকা কেজি পাকা টমেটো বিক্রি হয়েছে ২০ টাকার বেশি। এছাড়া করলার কেজি ৩০-৪০ টাকা। বরবটি ৪০-৫০ টাকা কেজি। পেঁপে ৩০-৪০ টাকা কেজি। পটল ৪০-৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪০-৫০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ২০-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে গত সপ্তাহে ১০০-১১০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে ১২০-১৩০ টাকা হয়েছে। দেশি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫০-৪০০ টাকা। তবে গত সপ্তাহের মতোই গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৬০০ টাকায়। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হয়েছে ৮০০-৯০০ টাকা।

এদিকে মিনিকেট ও নাজিরশাল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২-৬৮ টাকা কেজি, মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫২-৬০ টাকা, গরিবের মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৫০ টাকা। পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল ৯৫-১০০ টাকা, ভালো মানের পাম অয়েল ৮৫-৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন