রিট খারিজ, ঢাকা সিটি নির্বাচন পেছাতে আপিল আজ


» Md. Neamul Hasan Neaz | | সর্বশেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২০ - ০৩:৫৯:০০ অপরাহ্ন

সরস্বতী পূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের জন্য হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ফলে আগামী ৩০ জানুয়ারিতেই ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়ে আদালত আদেশে বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৯ জানুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে। সুপ্রিম কোর্টের ক্যালেন্ডারেও ২৯ তারিখ ছুটির কথা বলা আছে। আর নির্বাচন কমিশন ৩০ জানুয়ারি ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে। তার দুদিন পর এসএসসি পরীক্ষা। উদ্ভ‚ত পরিস্থিতিতে ভোটের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। তাই আবেদনটি সরাসরি খারিজ করা হলো।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত ও রিটকারী এডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ। রিটের শুনানিতে আদালতে আরো উপস্থিত ছিলেন সুব্রত চৌধুরী। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক। আর নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন এডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম।

আদালতের আদেশের পর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশে আমরা সংক্ষুব্ধ, মর্মাহত ও ব্যথিত। আমরা এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করব। আগামীকাল (আজ) আপিল বিভাগে যাব। আশা করি, আপিল বিভাগে ন্যায়বিচার পাব। এ ছাড়া আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত দেখে আমরা আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।

৩০ জানুয়ারি ভোটের তারিখ রেখে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। সে অনুযায়ী প্রার্থীরা প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা থাকায় ভোটের তারিখ পরিবর্তনের জন্য আদালতে এই রিট আবেদন করেন আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ। রিট আবেদনে তার যুক্তি ছিল, সংবিধানের ৮, ১২, ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিককে ধর্ম পালনের যে মৌলিক অধিকার দেয়া হয়েছে, নির্বাচনের ঘোষিত তারিখ সংবিধানের এই অনুচ্ছেদগুলোর সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’।

রিট আবেদনে বলা হয়, ৩০ জানুয়ারি ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ২৯ জানুয়ারি দিনের দ্বিতীয় ভাগ থেকে ৩০ জানুয়ারি আধাবেলা সরস্বতী পূজা, যে পূজাটি দেশের প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হয়ে থাকে। ৩০ জানুয়ারি নির্বাচন হলে তার কয়েক দিন আগেই ভোটের কার্যক্রম শুরু হবে। পূজা পালনে বিঘ্ন ঘটবে বা পূজার আচার-আনুষ্ঠানিকতা বাধাগ্রস্ত হবে।

এর আগে পূজা উদযাপন পরিষদ এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদ সরস্বতী পূজার বিষয়টি তুলে ধরে ভোটের দিন পরিবর্তনের অনুরোধ করেছিল ইসির কাছে। নির্বাচনের তারিখ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধনও হয়েছিল।