রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে আলাপ


» Md. Neamul Hasan Neaz | | সর্বশেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২০ - ১০:১২:১৩ পূর্বাহ্ন

বিরোধীরা বলে থাকে, রাজনীতিবিদ হিসেবে বঙ্গবন্ধু যতটা সফল, কূটনীতিক হিসেবে ততটাই ব্যর্থ। আসলেই কি তাই? কিসের ভিত্তিতে এ কথাটা বলে তারা? বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক দক্ষতা যাচাইয়ের একটি ক্ষেত্র হতে পারে বন্ধু, নিরপেক্ষ ও বিরোধী রাষ্ট্রগুলোর প্রধানদের সঙ্গে তাঁর আলাপ করার দক্ষতা, দর-কষাকষি করার ক্ষমতা বিচার করে। এ ক্ষেত্রে খুব একটা মালমসলা অবশ্য এখনো আমরা পাইনি। যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেন শুধু এসংক্রান্ত দলিল

উন্মুক্ত করেছে।

অন্যদিকে এসংক্রান্ত কোনো কথোপকথনই এখনো উন্মুক্ত করেনি বাংলাদেশ, ভারত বা পাকিস্তান। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের আনুষ্ঠানিক ভাষ্য আমরা পেলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টোর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আলাপ-আলোচনার কোনো সরকারি ভাষ্য আজ পর্যন্ত আমরা পাইনি। ভুট্টোর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আলাপের ক্ষেত্রে আমাদের নির্ভর পাকিস্তানের ভুট্টো সংগ্রহশালায় রক্ষিত রেকর্ড আর ইন্দিরার ক্ষেত্রে আলোচনায় উপস্থিত সাংবাদিক এম আর আখতার মুকুলের স্মৃতিনির্ভর বিবরণ। সৌদি বাদশাহ ফয়সাল, কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো, লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফি, আর কম্বোডিয়ার নরোদম সিহানুকের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার বিবরণের জন্যও এখন পর্যন্ত আমাদের নির্ভর এম আর আখতার মুকুল। আছে আরো কত নাম—সোভিয়েত ইউনিয়নের লিওনিদ ব্রেজনেভ, জাপানের প্রধানমন্ত্রী কাকুই তানাকা, যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট যোসেফ ব্রজ টিটো, মিসরের আনোয়ার সাদাত। সত্যি বলতে কী, ওই সময়ের রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে খুব কমই আছেন, যাঁদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর দেখা বা কথা হয়নি। এগুলোর বিবরণ এখনো নিজ নিজ দেশের মহাফেজখানার লাল ফিতায় বন্দি হয়ে আছে।

তবে যেটুকু আমাদের হাতে এসেছে, তার থেকেও কিন্তু একটা ধারণা অন্তত করা যায়। তুখোড় রাষ্ট্রনায়ক ও ঝানু কূটনীতিকদের সঙ্গে তাঁর এসব কথাবার্তা কিন্তু আমাদের অন্য চিত্রই প্রদান করে। বলে কূটনৈতিক খেলায় তিনিও কোনো অংশে কম বড় খেলুড়ে নন।