উত্তরা নিউজ উত্তরা নিউজ
অনলাইন রিপোর্ট


রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেত্রী প্রিয়া সাহা






‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাংলাদেশে ‘৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়ে গেছে’ বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দুটি দায়ের করা হয়।

আজ (রোববার) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির (বার) নির্বাহী সদস্য ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

ইব্রাহিম খলিল জানান, এরই মধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুপুর ১২টায় আদালতে মামলার বিষয়ে শুনানি হবে। তখন জানা যাবে, মামলাটি বিচারক আমলে নেবেন কি না।

খলিল আরো জানান, প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া হয়েছে।

মামলার আরজি থেকে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই প্রিয়া বালা বিশ্বাস ওরফে প্রিয়া সাহা বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের সংঘালঘু নির্যাতন নিয়ে বক্তব্য দেন। সে বক্তব্য গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেন বাদী।

আরজিতে বলা হয়, আসামি প্রিয়া সাহার এ বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদ তৈরি হয়। যাতে দেশকে অস্থিতিশীল ও বিদেশি রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তাই আসামির বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ‘বাংলাদেশি সংখ্যালঘুরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে’- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এই মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে আরেকটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেছেন ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

আজ (রোবার) ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে তিনি মামলাটি দায়ের করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি নেন এবং নথি পর্যালোচনা শেষে পরে আদেশ দেবেন বলে জানান। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাওন আহমেদ, জুয়েল শিকদারসহ আরও অনেকে শুনানি করেন।

ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৬ জুলাই ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে  ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। এখানে (বাংলাদেশে) প্রায় ৩৭ মিলিয়ন (তিন কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ডিসঅ্যাপেয়ার (নিখোঁজ) হয়ে গেছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনো সেখানে (বাংলাদেশে) ১৮ মিলিয়ন (এক কোটি ৮০ লাখ) সংখ্যালঘু মানুষ রয়েছে। আমার অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু আমাদের (বাংলাদেশে) থাকতে সাহায্য করুন। আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি।’

এ সময় ট্রাম্প জানতে চান, ‘কারা জমি দখল করেছে? কারা বাড়ি দখল করেছে?’ জবাবে ওই নারী বলেন, ‘মুসলিম মৌলবাদী গ্রুপ এগুলো করছে। তারা সব সময় পলিটিক্যাল শেল্টার (রাজনৈতিক ছত্রছায়া) পায়।’

হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটের বিবৃতিতে বাংলাদেশি ওই নারীকে মিসেস সাহা পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জানা যায়, ওই নারীর নাম প্রিয়া সাহা।

প্রিয়া সাহা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ‘শারি’-নামক একটি এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন। প্রিয়া সাহা একই সাথে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দলিত কণ্ঠ’ নামক একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক।

প্রিয়ার বাবার বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার চরবানিয়ারী গ্রামে। শ্বশুর বাড়ি বৃহত্তর যশোরে। প্রিয়ার স্বামী মলয় কুমার সাহা দুদকের সদর দফতরে উপপরিচালক পদে কর্মরত রয়েছেন। /পার্সটুডে