পারভেজ হোসাইন | রামগঞ্জ (লক্ষীপুর) প্রতিনিধি পারভেজ হোসাইন | রামগঞ্জ (লক্ষীপুর) প্রতিনিধি


রামগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের শিকার সুমনের মোটরসাইকেল রামগতি পুকুর থেকে উদ্ধার






রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজারের মন্তাজ মিয়ার মুদি দোকানের কর্মচারী সুমন হত্যাকাণ্ডের ৯দিন পর পুলিশ সুমনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি কমলনগর উপজেলার একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে।
রামগঞ্জ থানা পুলিশের কৌশলী পদক্ষেপে আলোচিত সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মেচিত হওয়ায় রামগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মামলার তদন্তকর্মকর্তা ও রামগঞ্জ থানার এস আই কাওসারুজ্জামানসহ একদল পুলিশ কমলনগর উপজেলার একটি পুকুর থেকে নিহত সুমনের মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।
জানা যায়, ঘটনার দিন ২১ জুলাই রবিবার রাত ১১টায় রামগঞ্জ সোনাপুর বাজারের মুদি দোকানের কর্মচারী মোঃ সুমন (২৪) কে ডাব খাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায় একই দোকানের চাকুরীচ্যুত কর্মচারী সোহেল মিঝি। রাতে সাড়ে ১১টায় সোহেলের গ্রামের বাড়ী ভোলাকোট ইউনিয়নের নাগমুদ মিঝি বাড়ীর একটি বাগানে নিয়ে যাওয়ার পর সোহেল মিঝি সুমনের নিকট টাকার ধার চায়। এসময় সুমন সোহেলের কাছে পূর্বের দেয়া টাকা ফেরত দিতে বলায় দুজনের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সোহেলের হাতে থাকা বটি দিয়ে প্রথমে সুমনের ঘাঁড়ে ও পরে মাথায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সোহেল মিঝি তার বসতঘর থেকে কোদাল ও প্লাষ্টিকের বস্তা এনে মাটিখুঁড়ে বস্তায় সুমনের লাশ ভরে বাগানের ডোবার পাশে লাশটি মাটিচাপা দেয়।
পরদিন ফজরের নামাজের সময় সুমনের মোটরসাইকেল নিয়ে সোহেল মিঝি নানার বাড়ী কমলনগর উপজেলায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে নানা বাড়ীর পুকুরে নিহত সুমনের মোটরসাইকেল (এইচ পাওয়ার, আর ও এক্স- আর ১৫০) ফেলে দেয়। ঐদিনই হত্যাকারী সোহেল ঢাকায় চলে যায়।
এদিকে ঘটনার পরদিন সুমনের বাবা মোঃ ইউনুছ মিয়া রামগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। কিন্তু পুলিশ কোন কূল-কিনারা করতে না পেরে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশী চালায়। অবশেষে পুলিশ জানতে পারে সোহেল ও সুমন দু’জনই ছিলো পারস্পারিক বন্ধু এবং ঘটনার দিন রাতেই দুজন একত্রে ফাঁড়ি দেয় অজানায়।
জোর তদন্তে নামে পুলিশ। রামগঞ্জ উপজেলার উত্তর নাগমুদ মিঝি বাড়ী থেকে আটক করা হয় সোহেল মিঝির বাবা বাবুল মিয়াকে। বাবা বাবুল মিয়াকে আটকের পর সোহেল মিঝি আদালতে আত্মসমর্পন করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি জানতে পারে রামগঞ্জ থানার এস আই মোঃ কাওসারুজ্জামান। ২৬ জুলাই লক্ষ্মীপুর ঝুমুর সিনেমা হলের আশেপাশের এলাকায় গোপনে অবস্থান করে পুলিশ। বেশ কিছুক্ষণ পরে হত্যাকারী সোহেল মিঝি গাড়ী থেকে নামলে পুলিশ তাকে আটক করে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল মিঝি হত্যাকাণ্ডের কথা শিকার করলেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন যায়গায় লাশ লুকিয়ে রাখার কথা বলে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশ কৌশলে সোহেলের স্বীকারোক্তি আদায় করে ২৭জুলাই বিকালে সোহেল মিঝির বাড়ীর পশ্চিম পাশের বাগান থেকে তার দেখানো মতে সুমনের অর্ধগলিত বস্তাবন্দি মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই কাওসারুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যাকারী সোহেল মিঝির ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর আদালতে চার্জশীট প্রদান করা হবে।