রামগঞ্জে করোনায় বেড়েছে প্লাস্টিকের চায়ের কাপের ব্যবহার, চরম হুমকিতে পরিবেশ


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ০৫ অগাস্ট ২০২০ - ০১:১৩:১৩ অপরাহ্ন

পারভেজ হোসাইন, রামগঞ্জ: প্রতিনিধি
সংকটে চাহিদা থাকায় একবার ব্যবহার উপযোগী (ওয়ান টাইম) প্লাস্টিকের চায়ের কাপের ব্যবসা এখন জমজমাট। এই কাপ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ১ লাখ টাকার মতো বিক্রি হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে প্লাস্টিকের চায়ের কাপের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। কিন্তু এই কাপই এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হচ্ছে। পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠছে অপচনশীল এ প্লাস্টিকের কাপ। প্রতিদিন লাখ লাখ প্লাস্টিকের চায়ের কাপ ব্যবহার শেষে যেখানে-সেখানে ফেলা হচ্ছে। পরিবেশের হুমকি এই কাপের ব্যবহার দ্রুত নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এই প্লাস্টিকের চায়ের কাপ একসময় পরিবেশের জন্য ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করবে। ক্রেতারা চা খেয়ে এসব কাপ ড্রেনে ফেলছে। এতে ড্রেনে পানি আটকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। হচ্ছে পরিবেশ দূষণ। এ কাপ উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধে এখনই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ’ বিকল্প ব্যবস্থা পেপার (কপি) কাপ ব্যবহার করার ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করা যেতে পারে বলে মনে করেন সচেতন নাগরিক।
সচেতন মহল বলছেন, রামগঞ্জে তিন-চার জন পাইকারি বিক্রেতা রয়েছেন। এখন প্রতিদিন জনপ্রতি প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার পিস কাপ বিক্রি হচ্ছে। প্লাস্টিক চায়ের কাপের দাম রাখা হচ্ছে একশ পিস ৭৫-৭৮ টাকা। আর পেপার কাপের দাম বেশি। এ জন্য কাপের ব্যবহার কমছে। পেপার কাপ পরিবেশবান্ধব। প্লাস্টিক কাপের দাম কম হওয়ায় ওই কাপ বেশি চলছে। পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বেশি চাহিদা থাকায় প্লাস্টিকের তৈরি চায়ের কাপই বিক্রি করা হয় বলে তারা জানান।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন আমার খবরকে জানান, ওয়ানটাইম কাপে চা খাওয়া এটা বৈজ্ঞানিক কোন সিস্টেম না। প্রথম থেকেই বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন করোনা ভাইরাস যত দিক থেকে চাপ দেওয়া হয় তাকে ঠেকানো কোন কিছুতেই সম্ভব হচ্ছেনা। যেহেতু এখনো ভাইরাসের ভ্যাকসিন বের হয় নাই। প্লাস্টিকের চায়ের কাপে যে ভাইরাস নেই এটাও তো বলা যাবেনা। আমাদের মতে এই মুহূর্তে কোনভাবেই বাহিরে চা খাওয়া উচিৎ নয়। তাহলেই এই প্লাস্টিকের ব্যবহার হয়তোবা কমতে পারে। তখন  হুমকি থেকে বেঁচে যাবে আমাদের পরিবেশ।
রামগঞ্জ পৌর সেনেটারী ইন্সপেক্টর আলমগীর কবির আমার খবর কি জানান, ওয়ান টাইম চায়ের কাপের ব্যবহারের বিষয়টি আমরা লক্ষ করেছি। করোনা কালীন সময়কে কেন্দ্র করে এর ব্যবহার দ্বিগুণ হয়েছে। চায়ের কাপের পাশাপাশি প্লাস্টিকের পলিথিন এর বিষয়টিও। সরকারিভাবে এই প্লাস্টিকের পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধের কথা থাকলেও মানছেন না কেউই। পলিথিন ও চায়ের কাপ ব্যবহার করে যেখানে সেখানে ফেলে দেয়। এতে চরম হুমকিতে রয়েছে আমাদের পরিবেশ। প্লাস্টিকের কাপের পরিবর্তে পেপার কাপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
তিনি আরো জানান, প্লাস্টিকের চায়ের কাপে খেলেই যে সেভ থাকা যায় এটাও কিন্তু নয় অতএব আমরা মনে করি পরিবেশ রক্ষার জন্য এর ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমরা বিষয়টি নিয়ে কঠোর অভিযানে নামবো।