রাত পোহালেই নিজ ভূমিতে যাবার ফ্লাইট, আগের রাতেই বাংলাদেশী প্রবাসীর মৃত্যু


» উত্তরা নিউজ টোয়েন্টিফর, ডেস্ক রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০১৯ - ০১:১২:৩৬ অপরাহ্ন

রাত পোহালেই দেশে যাবেন। টিকেট সহ যাবতীয় পেপার প্রস্তুত সম্পন্ন।কিন্তু ভাগ্য তাকে ঘরে ফিরতে দেয়নি দুবাই প্রবাসী হারুন মিয়াকে(৩৫)। মরণব্যাধি ক্যান্সার প্রবাসেই কেড়ে নিল তার প্রাণ।
সোমবার (১৪ অক্টোবর)  সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই স্থানীয় সময় রাত  দশটার দিকে আলকোজ (৩) এলাকায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।তার বাড়ি বাংলাদেশের মুন্সিগন্জ জেলার গজারিয়া থানায়।
তিনি দীর্ঘ ১১ বছরের বেশী সময় যাবৎ দুবাইতে ইমিরাটস ফলকন ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল নামক একটি কোম্পানীতে ডাক্ট ম্যান (এ.সি শাখায়) হিসেবে কাজ করেছেন। তার নিকটাত্মীয় ও রুম পার্টনারদের সাথে আলাপ করে জানা যায় যে, তিনি আগে হতেই পায়ের উরু অংশে টিউমারে আক্রান্ত ছিলেন। ছুটিতে দেশে গিয়ে তিনি তার চিকিৎসা করাতে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে টিউমারটি ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে বলে চিকিৎক জানায়। পরে তার উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে সেবা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে গত ৯ অক্টোবর বুধবার তিনি দেশ হতে দুবাই আসেন। কিন্তুু দুবাই এসে পুনরায় অবস্থার অবনতি হলে ১২ অক্টোবর শনিবার হারুন কোম্পানীতে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করে ইমার্জেন্সি রেজিগনেশন পত্র জমা দেন।
১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার দুবাইর স্থানীয় সময় সকাল ১০টার ফ্লাইটে তিনি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবার কথা। কিন্তু ভাগ্য তাকে সে সময় দেয়নি। এরই মধ্যে সোমবার রাত ১০টার দিকে ঘুমোতে যাবার পূর্ব মুহুর্তে হঠাৎ অবস্থার অবনতি হলে তিনি রুমের মধ্যে ঢলে পড়েন।রুমমেটরা তখন বিষয়টি ক্যাম্প প্রধানকে অবগত করলে তারা দুবাইর ইমার্জেন্সী সরকারী মেডিক্যাল টিমকে খবর দিলে দ্রুত মেডিক্যাল টিম হারুনের রুমে এসে পৌঁছায়। সাথে সাথে পরীক্ষা নীরিক্ষা করে মেডিক্যাল টিম হারুনকে মৃত ঘোষণা করে। পরে স্থানীয় পুলিশ ও লাশবাহী এম্বুলেন্স এসে হারুনের মরদেহ নিয়ে যায়। সেখান হতে তারা দুবাইস্থ বাংলাদেশ এম্বেসীর মাধ্যমে লাশ দেশে পাঠানো হবে বলে জানায় পুলিশ। তারা আরও জানায় যে, কোম্পানী হতে তার যাবতীয় পাওনা টাকা পুলিশ বুঝে নিয়ে বাংলাদেশ এম্বেসীর কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করবেন নিহতের পরিবারকে পাঠিয়ে দেবারর জন্য।
এদিকে, হারুনের এ মৃত্যুতে তার রুমমেট, নিকটাত্মীয়, বন্ধু বান্ধব ও সহকর্মীদের মাঝে শোকের কালো ছায়া নেমে আসে।